বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৯ এম
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বনশ্রী এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি বাসচাপায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা তাসফিয়া আহমেদ তিশা (৩১) নিহত হয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঘটে। রমজান পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়ে সারা পরিবহনের আরেকটি বাসের চাপায় প্রাণ হারান।
নিহত তাসফিয়া আহমেদ তিশার বাসা মেরাদিয়ার নয়াপাড়ায় অবস্থিত। তার বাবার নাম মো. শফিউদ্দিন আহমেদ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক অনয় চন্দ্র পাল বলেন, রাত পৌনে ৯টায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং এক চালক ও এক হেলপারকে আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার কয়লারমুখ সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি ভারতীয় ১০টি গরু আটক করেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) অধীনে কয়লারমুখ বিওপির টহলদল গরুগুলো আটক করে।
আটক গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা।
বিজিবি সূত্র জানাচ্ছে, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় বুধবার ভোরে আনুমানিক ৪টা ৫৫ মিনিটে কয়লারমুখ বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ২২০৫/২ আরবি থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বদ্ধোগেড়ামারা এলাকায় অবস্থান নেয়।
সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে টহলদল ভারত থেকে ৩ জন চোরাকারবারিকে ১০টি ভারতীয় গরু নিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে।
এসময় বিজিবি সদস্যরা চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা গরুগুলো ফেলে দ্রুত ভারতের দিকে পালিয়ে যায়। পরে টহলদল ঘটনাস্থল থেকে ১০টি ভারতীয় গরু আটক করতে সক্ষম হয়।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে রামগড় ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে। বিজিবি বলছে, চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সীমান্ত সুরক্ষা, আভিযানিক কার্যক্রম এবং চোরাচালান দমনে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ চলছে, এমন তথ্য দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন।
বুধবার বিকেলে গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানান।
বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। আলেকজান্ডার খোজিন জানান, আগামী নভেম্বরের প্রথম দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য মস্কোতে ওই বিজনেস ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক প্রোফাইলের ভিত্তিতে সরাসরি ব্যবসায়ী-ব্যবসায়ী (বিটুবি) বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে।
এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বৈঠকে বাংলাদেশ-রাশিয়া বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি রাশিয়ার বাজারে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিক রপ্তানির পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রুশ রাষ্ট্রদূত জবাবে বলেন, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। তিনি আরও জানান, রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা রয়েছে।
কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে পৃথক এক বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি। তিনি জানান, আগামী বছরের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি কলম্বোয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হবে। এ মেলায় এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানান তিনি।
এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন।
দুই বৈঠকেই এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীরসহ রুশ দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে ‘দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ’ শুরু হয়েছে। ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যের দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টিগ্রিটিতে হেডকোয়ার্টার্স ভেন্যুর প্রশিক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে তিনি কথা জানান। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে ১১৪টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে পূর্বে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি এমন ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আজ শুরু হয়েছে। প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৯৬৫ জন।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৭৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাদেরকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে এক দিনের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শেষে এ রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার জিগাতলা এলাকায়, ৪৭/৩ বি সোনাতনগড় ঠিকানায় ‘মেসার্স বরিশাল ফার্মেসী’ নামে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন মিয়া নামের এক ব্যক্তি, যাঁর নেই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কোনো নিবন্ধন বা স্বীকৃত চিকিৎসা সনদ। একটি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেই নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে নিয়মিত রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে আসছেন তিনি — যা বিএমডিসির নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফার্মেসিতে তার চেম্বারে রোগীদের ভিড় লেগেই আছে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী দেখেন, প্রতি ভিজিটে ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নেন। যুগান্তরের হাতে আসা তার একটি প্রেসক্রিপশনে দেখা যায়, সেখানে তিনি নিজেকে ডি.এম.এফ (ঢাকা), বি.এইচ.এস (স্বাস্থ্য), ডি.আই.এম.এস (ঢাকা)-সহ শিশু ও স্ত্রীরোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। প্রেসক্রিপশনে ঠিকানা ও রোগী দেখার সময়ও (সকাল ৯টা–১টা, বিকাল ৫টা–১০টা) উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের মুখোমুখি হলে গিয়াস উদ্দিন স্বীকার করেন, ১৯৮২ সালে মহাখালী ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একটি ডিপ্লোমা করেছিলেন এবং সেই থেকেই তিনি এই পেশায় যুক্ত। তিনি বলেন, তার ডাক্তারি নিয়ে আদালতে একটি প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে। নিজেকে ‘গরিবের ডাক্তার’ দাবি করে তিনি বলেন, তিনি মানুষের উপকারই করছেন। তবে একপর্যায়ে স্বীকার করেন, তার এই ডিপ্লোমা দিয়ে আইনগতভাবে চিকিৎসা দেওয়া বা প্রেসক্রিপশন লেখার অধিকার তার নেই। পরে প্রতিবেদকের ওপর চড়াও হয়ে তিনি হুমকি দেন, ‘আমার ভাই বিচারপতি। নিউজ করার আগে সাবধান!’
এই ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাই এই প্রতারণার প্রধান শিকার। আবু সায়েম নামের এক রোগী যুগান্তরকে বলেন, এলাকার মানুষ তাকে ভালো ডাক্তার মনে করে বলেই তিনি চিকিৎসা নিতে এসেছেন; এর আগে হাজারীবাগের মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে তার কাছ থেকেই ওষুধ নিয়েছেন তিনি।
সারা শরীরে লালচে ছোপ ও প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে আসা ১০ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তারের বাবা বলেন, মেয়ের অসুস্থতা দেখে প্রতিবেশীদের পরামর্শেই তিনি এখানে এসেছেন। নিরক্ষর হওয়ায় ডাক্তার প্রকৃত না ভুয়া, তা যাচাইয়ের সুযোগ তার নেই — সবাই দেখায় বলেই তিনিও ভরসা করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৈধ সনদ না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন, এবং ভুল চিকিৎসায় কোনো ক্ষতি হলেও তার ‘বিচারপতি ভাই’-এর ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না বলে তাদের অভিযোগ।
এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সুনির্দিষ্ট সনদ ও বৈধ নিবন্ধন ব্যতীত চিকিৎসা প্রদান কিংবা নামের আগে 'ডাক্তার' পদবি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বিএমডিসির অনুমোদনহীন ভুয়া ডিগ্রি ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কেবল প্রতারণাই নয়, আইনগতভাবে গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের প্রতারক চক্র দেশের সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জনস্বার্থে এই ভুয়া ডাক্তার ও তাদের পেছনের চক্রটির বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে বিএমডিসি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ