ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হবিগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০ জন


হবিগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০ জন

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায় আকিজ ভেঞ্চার কম্পানির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সকাল ৮টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস, ডুবাঐ বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্মুখীন হয়। সংঘর্ষের ফলে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। অপরদিকে, লাকি পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল

এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের বাসচালক নিহত হয়ে যায়। গুরুতর আহত হন লাকি পরিবহনের বাসচালকসহ উভয় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। নিহত বাসচালক, কিশোরগঞ্জের দড়ি চরিয়াকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে, তাজুল ইসলাম রুবেল (৫১)।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ইউনিক পরিবহনের বাস চালকের মরদেহ উদ্ধার করে, এক দুর্ঘটনাকবলিত লাকি পরিবহনের বাস সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘ইউনিক পরিবহন ও লাকি পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহ আমানতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


শাহ আমানতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলো

চট্টগ্রামে বৈরী আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে বৃষ্টি এবং তীব্র বাতাসের কারণে একাধিক অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল এবং বিলম্বিত হয়েছিল। তবে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব ফ্লাইট যথাসময়ে পরিচালিত হচ্ছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল জানান, আজ সকালে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে কোনো আগমন বা প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়নি এবং কোন ফ্লাইট বিলম্বিতও হয়নি। সব ফ্লাইট তাদের নির্ধারিত নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় বুধবার (৮ জুলাই) থেকে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৫০ এবং শারজাহ থেকে আসা এয়ার এরাবিয়ার জি-৯৫২৬ ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় নামতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২১ ফ্লাইটও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে নামতে না পেরে আবার ঢাকায় ফিরে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেক ভ্যালি বন্ধ ঘোষণা করল জেলা প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


সাজেক ভ্যালি বন্ধ ঘোষণা করল জেলা প্রশাসন

 জেলায় টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালী সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাজেক ভ্যালীর সকল পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি দুর্গম এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ এর ৭ জুলাই ইং তারিখের সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিষয়ক পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস/পাহাড় ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে।

বিদ্যমান আবহাওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালী পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এই সময়কালীন বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালীর সকল পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়াও, এই জেলায় চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক আইনেই হরমুজের কর্তৃত্ব ইরানের- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হস্তক্ষেপ অবৈধ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


আন্তর্জাতিক আইনেই হরমুজের কর্তৃত্ব ইরানের- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হস্তক্ষেপ অবৈধ!

দীর্ঘদিন থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীকে ইরান তাদের নিজেদের সমুদ্র সীমা বলে দাবি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল সেই দাবির বিপক্ষে গিয়ে সেখানে হস্তক্ষেপ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে বিশ্বে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করেছে। এখন আন্তর্জাতিক আইন বা সমুদ্র আইনেই দেখা যাক, সেটি আসলেই ইরানের দাবি কৃত নিজস্ব অঞ্চল কিনা?

আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী কোন  রাষ্ট্রের "আঞ্চলিক সমুদ্র সীমা"' তার সীমান্ত থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত,এবং উক্ত রাষ্ট্রের অধিকারের সীমা বা "সংলগ্ন অঞ্চল" ২৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। এমনকি ওই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনেই ওই রাষ্ট্রের একচেটিয়া অঞ্চল ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। যদি একচেটিয়া অঞ্চল বাদ দেওয়াও হয় তবে আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের সীমানা তো সর্বোচ্চ ২২ নটিক্যাল মাইল। ১ নটিক্যাল মাইল সমান ১.৮৫২ কিলোমিটার । আর ২৪ নটিক্যাল মাইল সমান ৪৪.৪৪৮ কিলোমিটার। আর হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অঞ্চল এর সর্বোচ্চ প্রস্থ সীমা ৩৩ কিলোমিটার। তাহলে এই জলপথ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী ইরানের এবং ইরান তার নিজস্ব সীমা এবং আঞ্চলিক সীমা হিসেবে  সেটির আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী ন্যায্য অধিকারী। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইল কিংবা অন্য কোন রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কোন রাষ্ট্রই অপরূপ কোন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অধিকার হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে না। অথচ হরমুজ প্রণালী নিয়ে যা হচ্ছে তা একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ সেই বিষয়টি নিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে গোটা বিশ্বে একটা যুদ্ধ পরিস্থিতির তৈরি করা হয়েছে এবং গোটা বিশ্বকে একটা বৃহৎ যুদ্ধের দিকে দিকে ঠেলে দিয়েছে ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার, অর্থাৎ মাত্র ১৮ নটিক্যাল মাইল। ফলে প্রণালীর এই অংশে ইরান ও ওমান—উভয় উপকূলীয় রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমুদ্রসীমা পরস্পরের নিকটবর্তী। এ বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক আইনকে পাশ কাটিয়ে বাইরের কোনো শক্তির একতরফা চাপ বা সামরিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলেই সমালোচকেরা মনে করেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি হলো প্রতিটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সীমান্ত এবং আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অধিকারকে সম্মান করা। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, বিশ্বের কিছু পরাশক্তি নিজেদের কৌশলগত ও রাজনৈতিক স্বার্থকে আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে চায়। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক অবস্থান সেই প্রশ্নকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন (UNCLOS) অনুযায়ী একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের সমুদ্রসীমা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। উপকূলের ভিত্তিরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ২২.২২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত আঞ্চলিক সমুদ্র, যেখানে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার ভোগ করে। এর পরবর্তী ২৪ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ৪৪.৪৪৮ কিলোমিটার পর্যন্ত সংলগ্ন অঞ্চল, যেখানে রাষ্ট্র নির্দিষ্ট আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রাখে। এছাড়া ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের অধিকারও আন্তর্জাতিক আইনেই স্বীকৃত।

হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার, অর্থাৎ মাত্র ১৮ নটিক্যাল মাইল। ফলে প্রণালীর এই অংশে ইরান ও ওমান—উভয় উপকূলীয় রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমুদ্রসীমা পরস্পরের নিকটবর্তী। এ বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক আইনকে পাশ কাটিয়ে বাইরের কোনো শক্তির একতরফা চাপ বা সামরিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলেই সমালোচকেরা মনে করেন।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক উত্তেজনা কেবল একটি আঞ্চলিক সংকট নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও গভীর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না। সামরিক শক্তির প্রদর্শন, হুমকি কিংবা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবন, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপরই সবচেয়ে বড় আঘাত হানে। তাই হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সমাধান অনুসন্ধানই হওয়া উচিত সকল পক্ষের অগ্রাধিকার।

প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড, সমুদ্রসীমা এবং আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারকে সম্মান করা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার মৌলিক শর্ত। কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রদর্শন কিংবা প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা বিশ্বব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।

আজ বিশ্বের প্রয়োজন নতুন কোনো যুদ্ধ নয়; প্রয়োজন আন্তর্জাতিক আইনকে সমানভাবে প্রয়োগ করা, প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম মর্যাদাকে সম্মান করা এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। অন্যথায় হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগণের জীবনযাত্রায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৯ এম


হবিগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২ জন

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেও একটি বাসচালক মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন যাত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে প্রায় ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকা পৌঁছালে আকিজ ভেঞ্চার কোম্পানির একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী লাকি পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। হতাহতদের মধ্যে ইউনিক বাসের চালক, কিশোরগঞ্জের দড়ি চরিয়াকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম রুবেল (৫১) এবং ইউনিক বাসের যাত্রী সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাদ্দাম হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৫) অন্তর্ভুক্ত।

এ ঘটনায় সংঘর্ষের তীব্রতা কারণে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। অপরদিকে, লাকি পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ইউনিক পরিবহনের বাসচালকের মরদেহ উদ্ধার করেন। এক দুর্ঘটনাকবলিত লাকি পরিবহনের বাস সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইউনিক পরিবহন ও লাকি পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন মারা গেছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%