০৬:৫০ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে স্থাপিত 'চায়না অর্থনৈতিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন' (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের শিল্প খাতে একটি নতুন এবং ঐতিহাসিক যুগের সূচনা ঘটেছে। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও গণচীন সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ উদ্যোগ এবং 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ'-এর নীতিমালার আলোকে গৃহীত, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ববহ ভূমিকা পালন করবে।
আজ সোমবার, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতির ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
আরও পড়ুন: দেশ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রুমি, বললেন—‘আপনারা ভালো থাকেন’
অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সহজীকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই ধারাবাহিকতায় চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ অর্জিত হবে।
তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদানে নিশ্চিৎ করতে খুব শিগগিরই শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালু করবে। পুঁজিবাজার ও মূলধনী খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপক উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়গুলো বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারে রয়েছে। তিনি চায়নিজ অংশীদারদের কাছে আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, সাপ্লাই চেইন জোরদারকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার আবেদন জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনোয়ারা অঞ্চলের এই উর্বর মাটিতে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আমরা কেবলএকটি কোদাল মাটি তুলছি না বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছি।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবককে পেটানোর ঘটনায় ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম বহিষ্কার
তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তি ও যৌথ সনদের আলোকে গৃহীত এ জি-টু-জি প্রকল্পের মাধ্যমে দু'দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
আপনারা জানার জন্য বলছি, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪.৩৯ হেক্টর) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এটা স্থানীয় যুবসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে বিশাল প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি এই অঞ্চলে বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রসেসিং এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো উচ্চ-মূল্যের শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে। যা বাংলাদেশের রফতানি খাতকে আরও শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময় করবে।
ভৌগোলিক ও লজিস্টিক দিক থেকে সিইআইজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত। এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হবে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে এখানে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, যা টেকসই শিল্পায়নের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ স্থাপন করবে।
আরও পড়ুন: বিজেপি অফিসের সামনে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কের
মন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সিইআইজেড-এর নিরাপত্তা এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। একসঙ্গে, বেজা-এর 'ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (OSS)' ব্যবহার করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা নিশ্চিত করবে, যা একটি সহজ ও সমৃদ্ধ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নির্মাণ করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৃহৎ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য বেজা, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি), ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বিশেষভাবে আনোয়ারা ও চট্টগ্রামের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিল্প অঞ্চলটি বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বের একটি টেকসই সেতু হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগুই। স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিইআইজিডি কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন