ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিস্তায় ব্যাপক ভাঙনের ফলে বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি


তিস্তায় ব্যাপক ভাঙনের ফলে বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি

১৬ জুন, ২০২৬, বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনে শতাধিক বসতভিটা, তিন শতাধিক একর ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট বিলিন হয়ে গেছে তিস্তার গর্ভে। ভাঙনের মুখে পড়েছে দুই শতাধিক বসতভিটা, শত শত একর ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়টি এখন ভাঙনের মুখে। বিশেষ করে কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন চরম আকার ধারন করেছে।

স্থানীয় এমপি মো. মাজেদুর রহমান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই কোন মাথা ব্যাথা। নাকাওয়াস্তে কয়েকটি স্থানে ভাঙন রোধে ফেলা হচ্ছে জিত ব্যাগ।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন কখন বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হবে তা নিয়ে দিশেহারা চরের মানুষ। তিনি বলেন, সারা বছর কমবেশি নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সরকারি ভাবে নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা দিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভাব হচ্ছে না। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করার দাবি চরবাসির।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ, আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে প্রতিবছর গড়ে ৫০০ বসতভিটা, ৬০০ হেক্টর ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠান তিস্তায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সে মোতাবেক গত ৫ বছরে আড়াই বসতভিটা, তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমি, ৫০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট, ৩০টি ধর্মীয় ও ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ভাঙন কবলিত পরিবারের জন্য ত্রান বিতরণ করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি।

হরিপুর ইউনিয়নের লখিয়ারপাড় গ্রামের মো. জরিফ মিয়া বলেন চরের প্রতিটি মানুষের বসতভিটা কমপক্ষে ৫ হতে ৮ বার ভাঙনের শিকার হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে সারা বছর নদী ভাঙন চলমান রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নামকাওয়াস্তে সরকারি ভাবে ভাঙন রোধে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রক্ষা হচ্ছে না।

নাজিমাবাদ বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন উজানের পলি জমে নদী ভরে গিয়ে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারনে তিস্তা অসংখ্য শাখা নদীতে রুপ দিয়েছে। সে কারনে সময় এবং অসময়ে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করতে না পারলে চরের মানুষের কষ্ট কোন দিন দুর হবে না।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, পানি কমলে উজানে আর পানি বাড়লে ভাটিতে ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে ভাটিতে এবং উজানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘদিন হতে বিভিন্ন সংগ্রাম পরিষদ, এনজিও সংস্থা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি কাজ করলেও আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি চরবাসি। নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের সীমা নেই। তার ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড নদীর চরে। চরের একটি পরিবার বছরে ৪ হতে ৫ বার নদী ভাঙনের কবলে পরে থাকেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হয় না। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পরেছে।

আরও পড়ুন: মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম

কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষণ, মেরামত এবং শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ করা সম্ভাব নয়। নদী খনন ও ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ একমুখি করলে নদী ভাঙন কমে যাবে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও টিউব ও জিও ব্যাগ এখন কোন কাজে আসছে না। চরের মানুষের হা-হাকার দুর করতে হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের ওপর মহলের নিকট জোর দাবি জানান। তা না হলে এই উপজেলার মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে যাবে।

তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষিতে একটি সম্ভাবনাময় জোন। ধান, গম, ভূট্টা, বাদাম, কুমড়া, তরমুজ, আলু, মরিচ, পিয়াজসহ নানাবিধ ফসল চাষাবাদের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে তিস্তার বালু চর। কিন্তু প্রতিবছরের ভাঙন চরের কৃষকদের স্বপ্ন নষ্ট করে দিচ্ছে বলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কাইয়ুম চৌধুরী। প্রতিবছর ভাঙনে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ীভাবে বাঙন রোধের ব্যবস্থা করলে চরের কৃষকরা দারুনভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত। প্রতিবছর নদী ভাঙনে প্রায় ৪০০ বসতভিটা এবং ৩০০ হেক্টর জমি, রাস্তাঘাট, প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে থাকে। ভাঙনের বিষয়ে সবসময় তথ্য পাঠানো হয়ে থাকে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, স্থায়ী ভাবে ভাঙন রোধ সরকারের ওপর মহলের সিদ্ধানের ব্যাপার। এখানে তাদের করার কিছুই নাই। নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোন কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং , শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভাব নয়।

আরও পড়ুন: পাবনার জয়কালী বাড়ি মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ

স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, বেশ কয়েকটি চরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি পরিদর্শন করে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। আপাতত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ হতে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে চট্টগ্রামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৮ পি.এম


চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) নামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট অনুমোদন ও স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির পরবর্তী সভায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় সব এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০’-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো উন্নয়ন ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ০.৪৫ শতাংশ থেকে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে বেজা কাজ করে যাচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর জিটুজি (গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে চাইনিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বেজা এবং চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২০১৪ সালের ৯ জুন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার জন্য চীন সরকার কর্তৃক মনোনীত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিএইচইসি) ও বেজার মধ্যে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর ‘অ্যাগ্রিড টার্মস অব কো-অপারেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’ এবং ২০১৭ সালের ১৫ জুন ‘শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরপর অনিবার্য কারণে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট ও ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। ফলে সিএইচইসির মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তবে পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার মুতাবেক ডেভেলপার পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) সিইআইজেডের নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনয়ন দেয়।

পরে ২০২২ সালের ১১ আগস্ট বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সিআরবিসিকে ডেভেলপার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ধারাবাহিক কারিগরি ও নীতিগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২১ জুন বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ‘অ্যাগ্রিড টার্মস অব কো-অপারেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়।

গত ২০২৫ সালের ১ মে বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়, সিআরবিসির শতভাগ মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক বিইজিএসিএইচ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এফজেডসিও হলো সিআরবিসির সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনের অধীনে দুবাইয়ে নিবন্ধিত এবং সিইআইজেডের জন্য মনোনীত ইনভেস্টমেন্ট ভেহিকেল হিসেবে চীনা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও অনুমোদন পেয়েছে।

এছাড়া সিআরবিসির পক্ষে বিইজিএসিএইচ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এফজেডসিওকে ইমপ্লিমেন্টিং ডেভেলপার হিসেবে সিইআইজেড স্থাপনের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ওই চিঠিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বেজা, সিআরবিসি এবং বিইজিএসিএইচের মধ্যে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সিইআইজেড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রস্তাবিত নাম ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড লিমিটেড’ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই কোম্পানির শেয়ার কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ৩০ শতাংশ এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ৭০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে।

এসপিসিতে বেজার ৩০ শতাংশ শেয়ার মূলত প্রকল্প এলাকায় অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৫০ বছরের লিজমূল্যকে বেজার মূলধন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সিআরবিসির ৭০ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সিআরবিসি পর্যায়ক্রমে কোম্পানিতে নগদ মূলধন বিনিয়োগ করবে। এই অর্থ সিইআইজেডের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস (অ্যাপয়েন্টমেন্ট অব ডেভেলপার) রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৯ অনুযায়ী এসপিসি নিবন্ধিত হওয়ার পর ওই কোম্পানিকে জোন উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য বেজার সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করতে হবে। চুক্তির শর্তানুযায়ী জোনটি উন্নয়ন ও পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ও অন্য কোনো দেশের সরকারের মধ্যে অংশীদারিত্ব বা উদ্যোগে অথবা এক বা একাধিক সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ ও একটি ডেভেলপার নিয়োগের বিধান রয়েছে।

প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং এ বিষয়ে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইজিএসিএইচকে নিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে সিআরবিসির সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহায়ক প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটিকে ডেভেলপার হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াকরণ কমিটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। ’

তিনি বলেন, সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে’ মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সঙ্গে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি, সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সব সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতেগোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে কথা বলছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’

প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধুমাত্র সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সব পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন ও শাহাদাত হোসেন স্বাধীনসহ অন্যান্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওসি ক্লোজড, আটক ২: লালমনিরহাটে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, ফলিমারীতে রণক্ষেত্র-এসপিসহ আহত ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


ওসি ক্লোজড, আটক ২: লালমনিরহাটে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, ফলিমারীতে রণক্ষেত্র-এসপিসহ আহত ১৬

 ১৬ জুন, ২০২৬, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার পরদিন, নন্দিনী রায় (৭) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি ও মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।

উত্তেজিত জনতার হামলায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ডিসি, পুলিশের সুপার ও সাংবাদিকের গাড়িসহ অন্তত ১০টি যানবাহন।

এদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি না নিয়ে পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে তাৎক্ষণিক ক্লোজড করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র (১৮) ও রঞ্জিত কুমার রায় (৩০) কে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত নন্দিনী রায় ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে। সোমবার দুপুর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায় শিশু নন্দিনী। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে, সে রাতে আদিতমারী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করতে যান। কিন্তু থানার ওসি নাজমুল হক তা গ্রহণ না করে, পরিবারকেই খোঁজাখুঁজি করার পরামর্শ দিয়ে ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নতুন নরম মাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সেখানে মাটি খুঁড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে, ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিখোঁজের রাতেই জিডি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জানার পর জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কর্তব্যরত অবস্থায় অবহেলা ও গাফিলতির কারণে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে থানার দায়িত্ব থেকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নন্দিনীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আগুন জ্বলে ওঠে। উত্তেজিত জনতা প্রতিবেশী রঞ্জিত চন্দ্রের ছেলে প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাড়িটির কয়েকটি ঘর এবং মালামাল পুড়ে যায়।

দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান, পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে। এসময় উত্তেজিত জনতা আচমকা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

ঘণ্টাব্যাপী চলা দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান, বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা পুলিশ ও সাংবাদিকদের গাড়িসহ অন্তত ১০টি যানবাহন ভাঙচুর করে লণ্ডভণ্ড করে দেয়।

পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে, তিনি হলেন প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র (২৩) ও রঞ্জিত কুমার রায় (৩০)।

বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে বর্তমানে ফলিমারী গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুরো এলাকায় চরম থমথমে অবস্থা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেক বাড়িঘর পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে কাজ করেছে। পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে অপরাধী যে-ই হোক, শিশু হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কাজ করছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে টানা ৫ দিন ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


দেশে টানা ৫ দিন ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফের টানা পাঁচদিন ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে। মৌসুমীবায়ু বাংলাদেশে মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, একই সময়ে মানিকগঞ্জ, নীলফামারী ও রাজশাহী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহও অব্যাহত থাকতে পারে। আজ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিও হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার আরও খবর,

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%