০২:১৯ পি.এম
ফরিদপুরে একটি ভবনের ফ্ল্যাট বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় কোয়েল চৌধুরী (৪৫) নামে এক নিঃসঙ্গ ব্যক্তিকে উদ্ধার করার পর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। তার এমন মৃত্যুর খবর তার কানাডিয়ান প্রবাসী একমাত্র বোন ও স্বজনদের জানানো হলেও কেউ আসেনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় শহরের আলীপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার চৌধুরী ভিলা নামক একটি ভবন থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত কোয়েল চৌধুরী ওই ভবনের মালিক মৃত হাশমত আলী চৌধুরী ও চৌধুরী আছিয়া খানম দম্পতির ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ওই বাসায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বসবাস করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন: মাদক-অনলাইন জুয়া থেকে বিরত রাখতে খেলার বিকল্প নেই : প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০০ সালের দিকে কোয়েল চৌধুরীর বাবা তিনতলা বিশিষ্ট ওই ভবনটি কিনে বসবাস করে আসছিলেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে একমাত্র মেয়ে বর্তমানে কানাডিয়ান প্রবাসী। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে কোয়েল চৌধুরী ও তার বড় ভাই বাবু চৌধুরী ওই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করে আসছিলেন। এরমধ্যে কোয়েল চৌধুরী বিয়ে করলেও মানসিক ভারসামহীন হওয়ায় তাকে ছেড়ে স্ত্রীও চলে যায়। এরপর থেকে দুই ভাই ভবনটিতে থাকলেও প্রায় দেড় বছর আগে বড় ভাই বাবু চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। তখন থেকে কোয়েল চৌধুরী নিঃসঙ্গভাবে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
দুই ভাইয়ের মানসিক ভারসাম্যহীনতার নেপথ্যের তথ্য জানিয়ে প্রতিবেশীরা জানান, কোয়েল চৌধুরীর বাবা-মা দুজনেই সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছোট সময়ে তারা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে দুই ভাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন। যার ফলে তারা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তবে দুই ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও তাদের ভালবাসার বন্ধন অটুট ছিল। শহরের অনেকেই তাদের দুই ভাইকে চিনতেন। কারণ, তারা যেখানেই যেতেন একসাথে হেঁটে আবার কখনও হাত ধরে রাস্তার একপাশ ধরে হেঁটে চলতেন। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে তাকে ভাড়াটিয়ারা খাবার দিতেন।
প্রতিবেশীরা আরও জানিয়েছেন, রোববার সকালে এক ভাড়াটিয়া খাবার দিতে যান, তখন ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে সাড়া না পাওয়ায় তারা অন্যদের জানান। পরে সেখানে গিয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে কোয়েল চৌধুরীকে উদ্ধার করে। তখন তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং সেখান থেকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মারা যাওয়ার পর তার বোনকে জানালে সে জিজ্ঞাসা করে যে দাফন দিয়ে দিতে হবে। এমনকি তার কোনো স্বজনও আসেনি। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে জানাজা শেষে শহরের আলীপুর কবরস্থানে তাঁর বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
আরও পড়ুন: নড়াইলের পলইডাঙ্গা গ্রামে বৃদ্ধ মোস্তফা হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে মারা যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন