১১:৩২ এম
মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক মাসের সংঘাতের ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। যুদ্ধের সময় বিপুল পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করার কারণে পেন্টাগনের মজুত দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা উদ্বিগ্ন যে, ভবিষ্যতে একই মাত্রায় পাল্টা হামলা করতে বা বিশ্বের অন্য কোনও অঞ্চলে নতুন সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে নিজেদের বাহিনী এবং ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষা দিতে পারবে।
ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুত ছিল প্রায় দুই হাজার ৩০০টি। দীর্ঘ সংঘাতের পর এই সংখ্যা ৮২৭টিরও নিচে নেমে এসেছে।
একই ধরনের সংকট যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স ব্যবস্থাতেও দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে থাড ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা ছিল ৪৫২টি, বর্তমানে সেটি ২৭৮টিরও নিচে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা করেছি, আবারো হামলা চালাব
সিএসআইএস সতর্ক করেছে যে, ব্যবহৃত এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে যদি ভবিষ্যতে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কিংবা অন্য কোথাও বড় ধরনের সামরিক সংকট সৃষ্টি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিদেশে সেনা সদস্য, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের নানা অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে গিয়ে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমবর্ধমান।
এই ঘাটতি মোকাবিলার জন্য পেন্টাগন আগামী ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি প্রতিরক্ষা তহবিলের মধ্যে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বিশেষভাবে বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে।
এই অর্থ ব্যয় হবে নতুন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের জন্য। এর মাধ্যমে দ্রুত কমে যাওয়া মজুত পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানের সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম খরচের অস্ত্র সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।
প্রাথমিক ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবে যে অস্ত্রগুলোর চাহিদা জানানো হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই হলো এমন অস্ত্র বা গোলাবারুদ, যার প্রতিটির মূল্য ৬ লাখ ডলার বা তার কম। এর মাধ্যমে ব্যয় কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই প্রভাবিত করেনি; এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতির ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে একাধিক ফ্রন্টে একযোগে সংকট মোকাবিলা করা ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন