১০:৩৮ পি.এম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে, তবে এর মধ্যেও অ académিক কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিতে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকও ঠিক এখনো বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনের দাবির পুরোপুরি বাস্তবায়ন চান এবং দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত পরীক্ষা ও ক্লাস শুরুর প্রত্যাশা করছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে- নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিওধারণের ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার এবং অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা। ইতোমধ্যে এসব দাবির কয়েকটির বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধনও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডির জবাবদিহিসহ তদন্ত শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলমান আন্দোলনের কারণে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুলের প্রথম বর্ষের প্রথম টার্ম পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকা কাম্য নয়। গণিত ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এটাই আমাদের প্রথম টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা। আন্দোলন শুরু হওয়ায় পরীক্ষাগুলো দিতে পারিনি। তারা পরীক্ষা দিতে চান কারণ সেশনজট বা অ্যাকাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়তে চান না। কিন্তু তাদের দাবি, একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। একই ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. সাহেদ মন্তব্য করেছেন যে, প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন ও প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। তারা চান যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা শুরু হোক এবং প্রশাসন যেন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে অগ্রগতি হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির কাজের অগ্রগতি ভালো। মেডন, ইনশাআল্লাহ, নিদিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজগুলো সম্পন্ন হবে। ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষক ও প্রশাসনের অংশ হিসেবে আমরা এতে চরমভাবে দুঃখিত। তদন্ত এবং বিচার হতে হবে। বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং প্রশাসন এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিও পালনের চেষ্টা করছে। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীর স্বার্থ সবসময় তাদের প্রাধান্য। বিচার প্রক্রিয়া চলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ক্ষতি যেন না হয়, সেটাও তাদের লক্ষ্য। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্সের সুনাম ধরে রাখতে শিক্ষক ও ডিসিপ্লিনগুলো প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক বলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্যই ক্যাম্পাসে আসেন। কিন্তু মূল ফটক বন্ধ থাকায় তাদের সাব-গেট দিয়ে আসতে হয়। এতে অনেক শিক্ষক অসম্মানিত বোধ করছেন। তারp মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ, মূল ফটকটি খুলে দেওয়া হোক যেন সবাই একটি স্বাভাবিক ও সম্মানজনক পরিবেশে থাকে। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তারা সংবেদনশীল আছেন এবং সব সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন