ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক


এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

সয়াবিন তেলে ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেল, যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, সেখানে উদ্বেগজনক হারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা গেছে। গবেষকরা তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন। এছাড়া বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলে দূষণের এই মাত্রা আরও বেশি দেখা গেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) একটি যৌথ গবেষণায় এই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। এই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে মোট ৬০টি সয়াবিন তেলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। গবেষকরা বলছেন যে, আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে এগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে দূষণের পরিমাণ অন্তত ১.২৪ গুণ বেশি, যেখানে প্রতিটি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি সর্বাধিক ছিল। শিল্পকারখানার আধিক্য, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার নিকটবর্তী অবস্থান এবং খোলা তেল সংরক্ষণে ব্যবহৃত পাত্রের বারবার ব্যবহারই এর কারণ হতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে, এই তেলের নমুনাগুলোতে ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো—লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্বে এবারের মতো প্রথম কোনো গবেষণায় উঠে এসেছে। শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর ৮২.৫ শতাংশই আঁশ বা ফাইবারজাতীয়। একই সঙ্গে ৫৬.২৯ শতাংশ কণা স্বচ্ছ প্রকৃতির এবং ৩৫.৮৪ শতাংশ কণার আকার ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।

দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণের হিসাব অনুযায়ী, মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি প্রাক্কলনও তুলে ধরা হয়েছে গবেষণায়। এতে দেখা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। তবে কম ওজনের কারণে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ। তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, একটি শিশু তার জীবনদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব ক্ষুদ্র কণা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। বিশেষভাবে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গবেষণার প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানিয়েছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান দূষক, যা মানবদেহে প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্লাস্টিক পুরোপুরি বর্জন করা এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংয়ের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

আরও পড়ুন: দেশ ছেড়ে কেন প্রতিবেশী দেশে যাবেন, এ মাটিই আপনাদের: বরিশাল কমিশনার

গবেষকরা খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, মানসম্মত ফিল্টারের ব্যবহার এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন। দেশে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এখনো আগে দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক বছরব্যাপী পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫ শতাংশ) প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

ইএসডিওর ওই গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে সর্বাধিক ৩২০টি কণা ছিল মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এছাড়াও ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেই এই দূষক পাওয়া গেছে। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের জন্য এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের জন্য এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসির সাথে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ১৩ বছর মেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট সাতটি জিটুজি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করছে। তবে বিদ্যমান গ্যাসের ঘাটতি এবং ভবিষ্যতের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় গুনভর ইউএসএ এলএলসি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি এলএনজি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব জিটুজি কাঠামোর আওতাধীন চূড়ান্ত চুক্তির জন্য প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন এসেছে।

বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেবে এবং চুক্তি কার্যকর করবে পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদিবাসীদের কথা বলতে হবে, সোচ্চার হতে হবে: মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৩ পি.এম


আদিবাসীদের কথা বলতে হবে, সোচ্চার হতে হবে: মির্জা ফখরুল

 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কথা বলতে হবে, সোচ্চার হতে হবে, নিজেদের দাবি-দাওয়া সামনে আনতে হবে।’

তিনি এইসময় বলেন, ‘আমি আপনাদের সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, কথা বলতে হবে, সোচ্চার হতে হবে, নিজেদের দাবি-দাওয়া সামনে আনতে হবে। বিএনপি এটা চায় এবং তার উদাহরণ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান আদিবাসী উদ্ভূত নারী নেত্রী আন্না মিঞ্জকে এমপি মনোনীত করা হয়েছে। বিএনপি এভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়িসহ সকল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬’ অর্থবছরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাঝে বরাদ্দকৃত ঘরের বরাদ্দপত্র, সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারকে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। তবে সেই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিএনপি অনেকগুলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে উঠে দাঁড়াতে সহযোগিতা এবং শুকিয়ে যাওয়া নদী-খাল কেটে খরার মৌসুমের কৃষির জন্য পানি সংরক্ষণ-এসব কি না তার মধ্যে অন্যতম।

তিনি আদিবাসীদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী আদিবাসীদের মধ্যে থেকে উদ্যোক্তা তৈরি করে তাদের উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি এই বিষয়টিও বলেন, আদিবাসীদের জমি যেন কেউ জোর করে কেড়ে নিতে না পারে, সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক রফিকুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম, জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যান্যরা।

সদর উপজেলা অফিস জানায়, অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে ১০ জনকে ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৮৫ টাকা ব্যয়ে বসতঘর, ৪৯ জনকে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৫ টাকা ব্যয়ে বাইসাইকেল, ৩৩ জনকে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ২৩১ টাকা ব্যয়ে সেলাই মেশিন এবং ৩২৬ জনকে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এতে সর্বমোট ৪১৮ জনের মধ্যে ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ১ টাকার সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে দেয়াল ধস: আহতদের চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করবে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


মিরপুরে দেয়াল ধস: আহতদের চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করবে সরকার

রাজধানীর মিরপুরে দেয়াল ধসে আহতদের চিকিৎসার সকল ব্যয় সরকার বহন করবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসায় কোনো ধরণের অবহেলা বা ঘাটতি রাখা হবে না।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) পরিদর্শনে গিয়ে তিনি আহতদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি আহতদের স্বজনদেরও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রোগীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। যদি বাইরে থেকে ওষুধ বা চিকিৎসা-সামগ্রী কেনা হয়, তাও তার সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করবে।

এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার খরচ মেটাতে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দেয়াল ধসের দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহত হন মোট ৬ জন। তাদের মধ্যে ৫ জন নিটোরে এবং একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে আহতরা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সাথে এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আরা মিষ্টি এবং নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা, মুখোমুখি রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৬ পি.এম


তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা, মুখোমুখি রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

 

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি মালবাহী জাহাজে ইউক্রেনের বোমা হামলার পর রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। এর ফলে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে এতদিনের পরোক্ষ উত্তেজনা এবার সরাসরি সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

গত ২৫ জুলাই সংঘটিত এ হামলার পর ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ইরানের একটি মালবাহী জাহাজে ইউক্রেনের বোমা হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, হামলার শিকার জাহাজটি ইরান থেকে রাশিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। হামলায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তেহরান।

ঘটনার পর ইরানি কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান এবং হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসা ইরান এখন নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইউক্রেন সম্পর্কের বর্তমান বৈরিতার মূল সূত্র রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী ইরানের তৈরি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ড্রোনের পাশাপাশি ইরান রাশিয়াকে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সরবরাহ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, রুশ সেনাদের ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিতেও ইরানি বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করেছেন। যদিও তেহরান এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

ইরানি ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার ইউক্রেন যুদ্ধের কৌশলগত চিত্র বদলে দেয়। এর ফলে ইউক্রেন দ্রুত নিজস্ব ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি উন্নয়ন করে, যা বর্তমানে সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই দিনে জেলেনস্কি-নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দেয় ইউক্রেন। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইরানি ড্রোন প্রতিরোধে সহায়তা করতে ২০০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সামরিক বিশেষজ্ঞকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও জোরদার করে কিয়েভ।

অন্যদিকে ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া ইরানকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার স্যাটেলাইট নজরদারি-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দাবি, এসব তথ্য ইরের সামরিক পরিকল্পনা ও হামলা পরিচালনায় সহায়তা করছে।

এমন পরিস্থিতিতে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে হামলাকে দুই দেশের পরোক্ষ সংঘাত সরাসরি রূপ নেওয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হামলাটিকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগ, ইউরোপকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতেই ইসরায়েলের নির্দেশনায় এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইরানের সামরিক সহযোগিতা, ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি— সব মিলিয়ে এতদিন আলাদা দুটি সংঘাত এখন ধীরে ধীরে একই ভূরাজনৈতিক সংকটের অংশ হয়ে উঠছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%