০৭:৩৪ পি.এম
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছয়গাঁও ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদে এ নির্যাতনের ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর ছেলে গোলাম রাব্বি বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার কাছে দুই লক্ষ নগদ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আনোয়ার হোসেন মোল্লা এবং তার সহযোগীরা ওই নারীকে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়, বলছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। নির্যাতনের সময় ওই নারী বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আকুতিও জানান। মারধরের ফলে একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলাকারীদের নির্যাতন থামেনি।
আরও পড়ুন: বিএমপি কমিশনারের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মৎস্যপোনা অবমুক্ত, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা
গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন এবং আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করছেন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে তুলে আবার মারধর করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী নারগিস বেগম অভিযোগ করেন, "আমি কোনো চুরি করিনি। তারা আমাকে চোরের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। তারা আমার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।"
ভুক্তভোগীর ছেলে গোলাম রাব্বি জানিয়েছেন, "আমাদের পরিবারে কোনো অভাব নেই। আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন। আমার মা কোনো চুরি করেননি, তারপরও বিএনপি নেতা আনোয়ার মোল্লা ও তার লোকজন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মাকে মারধর করেছেন। আমার মা স্ট্রোকের রোগী। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমি এর বিচার চাই।"
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, "আমার বাড়ি থেকে নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। আমরা গোপালগঞ্জ থেকে ডিম নিয়ে আসার পর তার শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হলে স্থানীয় লোকজন তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। সে সময় তাকে কিছুটা চাপ প্রয়োগ করা হয়।"
আরও পড়ুন: ৭নং জগদল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে ভিডিওটি দেখেছি। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত ছাড়াই এভাবে নির্যাতন করার সুযোগ নেই। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।"
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার জানান, "আমরা খবর পেয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করা হলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন