ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ছুটি শেষে বাসার গেটেই আক্রান্ত দুই নারী

মোহাম্মদপুরের ১০৮টি স্পটে সক্রিয় ২০৫ ছিনতাইকারী


মোহাম্মদপুরের ১০৮টি স্পটে সক্রিয় ২০৫ ছিনতাইকারী

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে করে রাজধানীর শ্যামলীতে নামেন দুই নারী। এরপর তারা রিকশায় মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোড এলাকায় নিজেদের বাসার সামনে পৌঁছান। হঠাৎ করেই তাদের সামনে দুই ছিনতাইকারী দাঁড়িয়ে যায়। হাতে চাপাতি ছিল। পরনে লুঙ্গি ছিল তাদের। চাপাতির কোপ দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই দুই নারীর সঙ্গে থাকা লাগেজ, ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মোহাম্মদপুরের অপরাধ জগতের কালো অধ্যায় আবার সামনে আসে।

এর আগে গত ৭ মার্চ রাতে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে হাঁটাহাঁটি করছিলেন দুদকের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। এ সময় তিনজন ছিনতাইকারী চাপাতি ও সামুরাইয়ের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে দুটি আইফোন, ২০ হাজার টাকাসহ মানিব্যাগ, দুটি ভিসা কার্ড ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। আইফোনের পাসওয়ার্ড জানার জন্য ছিনতাইকারীরা তাকে আঘাত করলে তিনি মারাত্মক আহত হন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে মোহাম্মদপুরে ছিনতাই, ডাকাতি, লুট, খুনসহ সব ধরনের অপরাধ অন্য সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এছাড়াও ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে গুরুতর জখম এবং খুনের ঘটনাও ঘটছে। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে পুলিশও হামলার শিকার হচ্ছেন। যৌথবাহিনী নিয়মিত ব্লক রেইড এবং বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, রাজধানী ও আশপাশে ৪৩২টি ছিনতাই স্পটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৮টি মোহাম্মদপুরে। এসব স্পটে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ২০৫ জনের নাম গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে। যদিও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যা আরও বেশি। তাদের মতে, বেশির ভাগ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা হয়রানির ভয়ে মামলা করতে চান না। যারা মামলা করেন, তারাও যথাযথ প্রতিকার পান না। এছাড়া, ছিনতাইয়ের ঘটনা ভাইরাল না হলে থানাও গুরুত্ব দেয় না বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের নবীনগর হাউজিং, চাঁদ উদ্যান, চন্দ্রিমা হাউজিং, তিন রাস্তার মোড়, জেনেভা ক্যাম্প এবং এর আশপাশ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড ও টাউন হল, বছিলা বেড়িবাঁধ ও বছিলা ব্রিজ এলাকায় অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। চাপাতি বা সামুরাই দিয়ে ভয় দেখিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে কিংবা অন্ধকারে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে তারা। অনেক সময় অটোরিকশা বা মোটরবাইকে এসে চোখের সামনে সব ছিনিয়ে নিচ্ছে। হামলার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে অনেকে হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি বাড়িওয়ালাদের বাসার সিসিটিভি খুলে ফেলতেও হুমকি দিয়েছে অপরাধীরা। তাদের ভয়ে অনেক বাড়িওয়ালা সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলেছেন। কাঁটাসুর এলাকায় বিভিন্ন বাসা-বাড়ির গেটের সিসিটিভি ভাঙতে দেখা গেছে ছিনতাই চক্রের সদস্যদের।

নবী উল্লাহ নামে চাঁদ উদ্যান এলাকার একটি নিরাপত্তাকর্মী যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীরা তাদের বাসার সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলতে বলেন। ক্যামেরা না খুললে তাকে এবং তার ছেলের রক্ত দিয়ে গোসল করবে-এমন হুমকি দেয়। চাকরি রক্ষায় নিজের কিংবা ছেলের জীবন শেষ করতে পারবেন না বলে তিনি বাড়িওয়ালাকে জানান। পরে সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলা হয়।

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

শুধু বাসিন্দারাই নন, পুলিশও ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হচ্ছেন। গত ১১ মে ভোরে মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালায় ছিনতাইকারীরা। এ সময় পুলিশ পালটা গুলি ছুড়লে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয় এবং चক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে, ঈদের ছুটি শেষে বাসায় পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারীর বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুজ্জামান রাকিব সোমবার যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত তিনজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজনকে শনাক্ত করা গেছে। চক্রের সবাইকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডিএমপির তথ্যমতে, মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে অর্ধশতাধিক অপরাধী দল বা গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি বড় এবং প্রধান গ্যাং রয়েছে, যাদের প্রত্যেকটিতে ১৫ থেকে ২০ জন করে সদস্য কাজ করে। ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত গ্রুপগুলোর মধ্যে পাটালি, লেভেল হাই, ডাইল্লা, অ্যালেক্স, গাংচিল, লও ঠেলা, কবজি কাটা আনোয়ার, ফরহাদ, আর্মি আলমগীর এবং আকবর গ্রুপের নাম শীর্ষে রয়েছে। নিয়মিত অভিযানে এসব চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর থানার একতা হাউজিং এলাকায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা রুবেল ওরফে মাওরা রুবেলকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। আদাবর এলাকায় এক ডেলিভারিম্যানকে মারধর করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেন তিনিসহ চক্রের সদস্যরা।

গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ৪৩২টি ছিনতাইয়ের স্পটে কমপক্ষে ৯৭৯ জন ছিনতাইকারী সক্রিয়। যাদের বেশির ভাগই ফৌজদারি মামলার আসামি। ছিনতাইয়ের হট স্পট হিসাবে তালিকায় রয়েছে মোহাম্মদপুর এলাকা। এ এলাকায় সবচেয়ে বেশি ১০৮টি ছিনতাইয়ের স্পট রয়েছে। এ এলাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ২০৫ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের

ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) এনএম নাসিরুদ্দিন যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুরে পুলিশসহ যৌথবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করছে। তবে এলাকাটি নদী এবং বেড়িবাঁধের কাছাকাছি হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই আশপাশে পালিয়ে যেতে পারে। সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১০ এম


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

রাজধানীতে কেনাকাটার প্রয়োজনে হয়তো আপনি প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও যেতে হয়। তবে, রাজধানীর যেকোনো মার্কেটে যাওয়ার আগে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি জানা খুবই জরুরি। তা না হলে আপনাকে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হতে পারে।

এমতাবস্থায়, সোমবারের (২ জুন) ঘটনাক্রমে রাজধানীর কোন কোন এলাকার শপিংমল ও মার্কেটগুলো বন্ধ থাকবে, তা দেখে নেওয়া যাক।

কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরিপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কাওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা, লালমাটিয়া।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, বসুন্ধরা সিটি, মোতালিব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমন্ডি হকার্স, বদরুদ্দोजা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, অর্চিড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কাওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট এবং অর্কিড প্লাজা বন্ধ থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে মোরগ পোলাওয়ের প্যাকেটে ব্যাঙ পাওয়া গেলো!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ এম


কুড়িগ্রামে মোরগ পোলাওয়ের প্যাকেটে ব্যাঙ পাওয়া গেলো!

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি খাবারের প্যাকেটে আস্ত ব্যাঙ পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, রৌমারী উপজেলা শহরের একটি খাবারের দোকান ‘নান্না বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে আতোয়ার রহমান ও আশিকুর রহমান পাঁচ প্যাকেট মোরগ পোলাও কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে শিশুদের খাবার পরিবেশন করার সময় একটি প্যাকেটের ভেতরে আস্ত একটি ব্যাঙ দেখতে পান তারা।

এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খাবারের প্যাকেটে ব্যাঙ পাওয়ার খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য সতর্ক করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালি পেটে লিচু খেলে হতে পারে বিষক্রিয়া, চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ এম


খালি পেটে লিচু খেলে হতে পারে বিষক্রিয়া, চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

গরমকালে লিচু একটি জনপ্রিয় ফল, যা রসালো, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এটি শিশুদের থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষেরই আকর্ষণ করে। তবে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খালি পেটে লিচু খাওয়া কিছু মানুষের জন্য হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি, বিশেষ করে শিশু ও অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। চিকিৎসকদের মতে, লিচুতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যেমন হাইপোগ্লাইসিন এ এবং মেথিলিনসাইক্লোপ্রোপাইলগ্লাইসিন। আধাপাকা বা কাঁচা লিচুতে এসব উপাদানের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। অপর্যাপ্ত ঘুম বৃদ্ধি করতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি। খালি পেটে এ ধরনের লিচু খেলে শরীরে গ্লুকোজ উৎপাদনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। গুরুতর অবস্থায় এটি মস্তিষ্কের কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের মতো দেশে অতীতে কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে শিশুদের লিচু খাওয়ার পর 'অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোম' দেখা গেছে। এতে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ, এমনকি জ্ঞান হারানো ও কোমা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি, দীর্ঘ সময় খিদা পেয়েও না খাওয়া মানুষ এবং নিয়মিত খাবার মিস করেন এমন ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। লিচু খাওয়ার পর সমস্যা হলে শুরুতে দেখা দিতে পারে বমি, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা। পরে গুরুতর অবস্থায় খিঁচুনি, অচেতনতা বা কোমার মতো পরিস্থিতি হতে পারে। তবে, লিচু পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে যথেষ্ট ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পানি, যা শরীরের জন্য উপকারী। চিকিৎসকেরা তাই পরামর্শ দেন, খালি পেটে লিচু না খাওয়ার, শিশুদের আগে খাবার খাওয়ানোর, পরিমিত পরিমাণে লিচু গ্রহণের এবং ফলটি ভালোভাবে ধোয়ার। সচেতনভাবে ও পরিমিত পরিমাণে লিচু খেলে এটি নিরাপদ ও উপকারী একটি গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে উপভোগ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর বিভেদ নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ চাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ এম


আর বিভেদ নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ চাই

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও বাংলাদেশ কেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ? বর্তমানে কেন দেশের কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে? মানুষ দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে কেন? এ দেশের শিশুরা কেন বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে? নারীদের সম্ভ্রমহানি কেন ঘটছে চারপাশে? অনেকেই এ বিষয়ে বিভিন্ন কারণে অবহিত হবেন। তবে একটু গভীরে গেলে একটি কারণ উল্লেখযোগ্য- আমাদের মধ্যে বিভেদ। বিভেদ থেকে উৎপন্ন হয়েছে হানাহানি। এই বিভাজন বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে চাপা দিয়ে রেখেছে। সম্ভাবনা অফুরন্ত, মানুষের অদম্য প্রাণশক্তি এবং প্রকৃতির অপার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে? বিভক্তি আর হানাহানিই এর প্রধান কারণ। বাংলাদেশের একটি অপূর্ব ঐক্যের মেলবন্ধনে বিনির্মিত হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এখানে এক ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং ধর্মীয় বিশ্বাসে একত্রিত। জাতিগত দাঙ্গা কিংবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এখানে অনেক কম। সংস্কৃতির ভেতরেও তেমন ভেদাভেদ নেই। তবুও কিছু মানুষ ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে, প্রতিটি মতকে নিষ্প্রাণ করতে উদ্যত। ভিন্নমত খতম করার মানসিকতায় আমাদের সম্ভাবনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তি দিয়েছিল। গোটা জাতির ঐক্যই আমাদের বিজয়ী করেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরে দ্বেষবিভাজন বজায় রাখতে আমাদের সক্ষমতা কমে এসেছে। ক্ষুদ্র স্বার্থে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশকে বিভক্ত করেছি। একে অপরের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছি। সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক- সর্বত্র বিভাজনের রাজনীতির একটা ভয়াবহ প্রবণতা বিদ্যমান। বিরোধীপক্ষ মানে শত্রু, তাকে নিঃশেষ করার মানসিকতা মহামারির মতো সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিহাস দেখায়, যিনি ক্ষমতায় যান, বিরোধী মতকে নির্মূল করতে চান, না হলে ক্ষমতার চেয়ার নিরাপদ নয়। ভিন্নমত দমনের নামে রাজনীতির এক নীতিহীন প্রকাশ শুরু হয়েছে। দেশকে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির চোরাগলিতে বন্দি করে রেখেছে। মানুষের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জন্য ৩০ লাখ শহীদ তাঁদের জীবন দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ছিল ভিন্নমতের প্রতি সম্মান। দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সার্বভৌমত্বে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। কিন্তু আমরা এখন পথ হারিয়েছি। সঠিক পথে ফিরে আসা এখন জরুরি। উন্নয়নের রোল মডেল রাষ্ট্রগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মৌলিক প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রগুলো যত বেশি উন্নতি করে। গণতন্ত্রে অনুকরণীয় রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে তীব্র মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের প্রশ্নে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকে। সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো এক থাকে। গুণগত শাসনের সৌন্দর্য। কিন্তু আমরা ৫৫ বছর পরেও এ ধারাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কারা দেশের পক্ষের, কারা বিপক্ষের। ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলের মতামতকে অগ্রাহ্য করে, আবার বিরোধীদল ক্ষমতাসীনদের ভালো কাজের প্রশংসা করতে কুণ্ঠিত। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের লোক খুঁজে বেড়ায়, সুবিধাবাদী এবং চাটুকারদের বেছে নেয়। ভিন্নমতকে গ্রহণ করার মানসিকতা ক্রমশঃ হ্রাস পাচ্ছে। এই দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা উচিত। একটি সরকার যখন গঠিত হয়, তখন তাদের সকল জনগণের সরকার হতে হবে। সরকারি কাজের লক্ষ্য সকল নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করা। রক্তের মূল্যায়ন ছাড়া একজন চিকিৎসক ভিন্নমত বিকাশ করতে পারেন, তাই তাঁকে হরণ করা গণতান্ত্রিক সরকারের মানসিকতা নয়। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকা দরকার। বিভাজনের রাজনীতি এই সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। প্রতিশোধ আর পাল্টা প্রতিশোধের রাজনীতির নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়। ক্ষমতার দৌড়ে আসা দলগুলো বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে ক্ষমতাসীনদের কাছে আনুগত্য দাবি করে। নিষ্পত্তি করতে না পারলে তারা ব্যবসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এতে জাতীয় অর্থনীতি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভাজনের রাজনীতি বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের জন্য একটি সুযোগ এসেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার প্রথম ১০০ দিনে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সংকেত দিয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের মতামত গ্রহণের পথে প্রচেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বাণী কার্যকর হতে হবে। আসন্ন বাজেট ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটে। আসন্ন বাজেট থেকে এই সংকটের সমাধান খুঁজতে হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। বিভক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এলেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতি ফিরে আসবে। আসন্ন বাজেটে খাতের বরাদ্দের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। ইউনূস সরকারের সময় বিতর্কিত ঘটনা দেশের অর্থনীতিকে বিভক্ত করেছে। দেশের ২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করলেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গী হতে হবে এবং তাদের আইনগত সুরক্ষা দিতে হবে। ইতিমধ্যে বন্ধ কলকারখানা খুলে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পক্ষপাতহীনভাবে দেশবাসীর স্বার্থের দিকে নজর দিতে হবে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। তাই নতুন অর্থবছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা ভীতিহীন পরিবেশে থাকতে পারেন। কেউ যদি মনে করে, দেশটা আমার, তবে এই দেশের অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে পারবে না। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছানোর একটি উদ্যোগ। যেখানে সবার আগে বাংলাদেশের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অঙ্গীকার রয়েছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের নির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের বাজেট তার বাস্তবায়নের সূচনা হোক। বাজেট নির্ধারিত খাতওয়ারি বরাদ্দের হিসাব নয়, বরং সুশাসন ও জবাবদিহির একটি রূপরেখা। এই বাজেট তাই সরকারের প্রথম পরীক্ষার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%