বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৪ পি.এম
পিরোজপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার হাসপাতালের সভাকক্ষে এ সভার সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
সভায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, রোগীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, হাসপাতালের অবকাঠামো এবং বিভিন্ন চলমান কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এ সময় রোগীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত বিভাগ, পিরোজপুরসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ তুলে ধরেন।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের আসাম রাজ্যের মন্ত্রিসভা মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার জন্য নতুন নিয়মনীতি অনুমোদন করেছে। রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে এই অনুমোদন আসাম বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট আইনটি পাস হওয়ার প্রায় দুই বছর পর এসেছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, "পূর্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে কাজীরা আর মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন করতে পারবেন না। তবে নিবন্ধনের দায়িত্ব কে পালন করবেন, তা স্পষ্ট ছিল না। সেই অস্পষ্টতা দূর করে মন্ত্রিসভা 'আসাম মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন (বাধ্যতামূলক) বিধিমালা, ২০২৬' অনুমোদন দিয়েছে।"
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুসলিম দম্পতিরা এখন থেকে সাধারণ বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে (কমন অফিস অব রেজিস্টার অব ম্যারেজেস) গিয়ে তাদের বিবাহ নিবন্ধন করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যায়েও এই সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আসাম বিধানসভায় ১৯৩৫ সালের পুরনো 'আসাম মুসলিম ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট' বাতিল করে 'দ্য আসাম কম্পালসরি রেজিস্ট্রেশন অব মুসলিম ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স বিল, ২০২৪' পাস করা হয়। আগের আইনে কাজীদের মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও তা বাধ্যতামূলক ছিল না এবং অভিভাবকের আবেদনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের নিবন্ধনের সুযোগ ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কেঞ্জাতলি বাজার থেকে বশিরিয়া মাদ্রাসা গেইট পর্যন্ত মিছিল
দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মশাল মিছিল করেছে রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কেঞ্জাতলি বাজার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বশিরিয়া মাদ্রাসা গেইটে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মামুন। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুর রহমান, সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন, আব্দুর রহিম মেম্বার ও জামসেদ মেম্বার, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি কাজল এবং ছাত্রদল সভাপতি রিফাতসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীদের হাতে জ্বলন্ত মশাল দেখা যায় এবং তারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বশিরিয়া মাদ্রাসা গেইটে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
মিছিলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই–শাল্লা অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস বহু পুরোনো ও ঘটনাবহুল। সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে করুণা সিন্ধু রায়ের নাম।
করুণা সিন্ধু রায় ছিলেন কৃষকবান্ধব রাজনীতির একজন পরিচিত নেতা। অবিভক্ত ভারতের সময় তিনি দিরাই–শাল্লা এলাকা থেকে আসাম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন। ঐতিহাসিক সূত্রে তাঁকে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার একজন নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে প্রজাস্বত্ব ও কৃষকের অধিকার নিয়ে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নিজে জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি কৃষকদের স্বার্থের প্রশ্নে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কৃষকদের অধিকার আদায়ের দাবিতে তিনি আইনসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং কৃষক আন্দোলনকে রাজনৈতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
১৯৪৪ সালের আসাম প্রাদেশিক পরিষদের কার্যবিবরণীতেও করুণা সিন্ধু রায়ের নাম পাওয়া যায়। সেখানে তিনি সুনামগঞ্জ ও হাবিগঞ্জের বোরো অঞ্চলের উদ্বৃত্ত ধান সরকার কেনার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে জরুরি আলোচনার দাবি তুলেছিলেন। একই সময়ে কৃষকদের ওপর সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ নীতির প্রভাব নিয়েও তিনি পরিষদে বিষয় উত্থাপন করেন।
করুণা সিন্ধু রায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর পুত্র বরুণ রায় পরবর্তীতে দিরাই–শাল্লার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন।
দিরাই–শাল্লার রাজনীতির অতীত অনুসন্ধান করলে তাই করুণা সিন্ধু রায়ের নাম শুধু একজন পুরোনো রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, কৃষকের অধিকার ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে সামনে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় ও ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজ সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষককে ২৪টি অভিযোগ উল্লেখ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ে ছাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ছাত্রীদের সঙ্গে উসকানি মূলক কথা বলেন। এ সময় ছাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় যায়। পরে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের শান্তভাবে বুঝিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রীরা আবার বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে লিয়াকত মার্কেট ও নতুন হাইওয়ে রাস্তা প্রদক্ষিণ করে ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজের পশ্চিম পাড়ে বরিশাল- ভাণ্ডারিয়া- মঠবাড়িয়া মহা সড়কে অবস্থান নেয় এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় এক দফা এক দাবী প্রধান শিক্ষকের অপসারন চাই বলে তারা শ্লোগান দেয়। এতে সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান সরকারি কাজে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি মোবাইল ফোনে তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাঁর অনুরোধে ছাত্রীরা অবরোধ তুলে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে যায়।
বিকেল ৪ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি ছাত্রীদের রোববার থেকে ক্লাসে ফেরার অনুরোধ করেন এবং অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের রোববার থেকে নিয়মিত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে তদন্তের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। শোকজের জবাবের পরে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ছাত্রীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ