নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৭:১১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তরিকুল ইসলাম যশোরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং তা বাস্তবায়নে স্থান নির্বাচন, আইনি জটিলতা নিরসন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, দোয়া মাহফিলে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা এবং বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআজাকফ) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীনও উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিলে মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশের কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল আল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক বিজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মন্তব্য করেছেন, "পশ্চিমা বিশ্বে তীব্র ইসলামবিদ্বেষ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে চলা নোংরা প্রচারণার বিপরীতে আল-সাইয়েদের নীতিভিত্তিক রাজনীতির এই ঐতিহাসিক জয় বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।"
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবদুল আল-সাইয়েদ ও ডেমোক্র্যাটদের এই অভাবনীয় সাফল্যের ওপর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে আবদুলের অভূতপূর্ব রাজনৈতিক যাত্রা আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছি এবং এটি সত্যিই তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। নাইন-ইলেভেনের (১১ সেপ্টেম্বর) পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে একজন মুসলিম হিসেবে আত্মপরিচয় নিয়ে বসবাস করা এবং প্রকাশ্য রাজনীতি বা নাগরিক জীবনে সক্রিয় হওয়া চরম প্রতিকূল এক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছিল।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক (যিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নোংরা রাজনীতির কারণে বর্তমানে আর শিক্ষকতায় নেই) যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর শেষ করে ফিরে এসে নিজের প্রিয় শ্রেণিকক্ষে নাইন-ইলেভেনের প্রভাব বর্ণনা করেছিলেন এভাবে—‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর আপনার নামের সাথে যদি মুহাম্মদ শব্দটি থাকে, তবে আপনি এক মুহূর্তেই অনুধাবন করতে পারবেন নাইন-ইলেভেন কী এবং ইসলামোফোবিয়া আসলে কাকে বলে।'"
সাদিক কায়েম বলেন, "এমন এক চরম প্রতিকূল প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আবদুল আল-সাইয়েদ, ইলহান ওমর, জোহরান মামদানি ও রাশিদা তালিবের মতো ব্যক্তিত্বরা আজ নায়কে পরিণত হয়েছেন। তারা শুধু পশ্চিমা সংখ্যালঘু মুসলিমদের কাছেই নন, বরং প্রাচ্যের প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের চরম বৈরী পরিবেশে নিজের ধর্মীয় ও জাতিগত স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখেও যে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব—তারা তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।"
নির্বাচনি কৌশল ও আদর্শিক রাজনীতির প্রশংসা করে ডাকসু ভিপি বলেন, "আবদুল আল-সাইয়েদের প্রচারণার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল নীতিভিত্তিক রাজনীতি। খোদ রাষ্ট্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তার ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয়কে লক্ষ্য করে চরম আক্রমণ শানানো হলেও তিনি ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়িতে না গিয়ে জনকল্যাণমূলক নীতির ওপর ভর করে প্রচারণা চালিয়েছেন। এটাই হলো ‘নতুন রাজনীতি’—নীতির রাজনীতি, জনস্বার্থের রাজনীতি।"
নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সাদিক কায়েম বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির এই নীতিভিত্তিক মানদণ্ডকেই ধারণ ও প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আপনার যদি আমার চেয়ে উন্নত নীতি ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা থাকে, তবে আপনারই জয়ী হওয়া উচিত। আর তা না থাকলে পরাজয়ই প্রাপ্য।"
ঐতিহাসিক এই বিজয়ে ডা. আবদুল আল-সাইয়েদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে ডাকসু ভিপি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মিশিগান অথবা ঢাকায় তাদের মধ্যে পারস্পরিক সাক্ষাৎ ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেড় দশক আগে ঢাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস-বিডিআররের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ মামলার আপিল ও লিভ টু আপিলের জন্য সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে।
আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর প্রায় ১৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে। আসামিপক্ষ দ্রুত আলোচিত মামলার আপিল-লিভ টু আপিলের শুনানি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হাতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান, যার মধ্যে বেসামরিক ব্যক্তিরাও ছিলেন। বিদ্রোহের ফলে ঢাকার বাইরেও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়।
বিদ্রোহের ৫৭টি মামলার বিচার বাহিনীর নিজস্ব আদালতে সম্পন্ন হয়। সেখানে ছয় হাজার জওয়ানের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিদ্রোহের বিচারের পর ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড’ ও ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে’ মামলার বিচার দেশের প্রচলিত আদালতে শুরু হয়।
২০১৩ সালে ঢাকার জজ আদালত হত্যাকাণ্ডের মামলায় রায় প্রদান করে। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার পূর্বে চার আসামি মারা যান।
পরে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স (বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। বিচারিক আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া ২৭৮ জনের মধ্যে ৬৯ জনের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসব আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় প্রদান করে।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৫২ জনের মধ্যে হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন। আর ৫ আসামিকে খালাস দেওয়া হয় উচ্চ আদালত থেকে।
অন্যদিকে বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দেওয়া ১৬০ আসামির মধ্যে হাইকোর্ট ১৪৬ আসামির সাজা বহাল রেখে ১৪ জনকে খালাস দেয়। বিচারিক আদালতের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ৬৯টি আপিলের মধ্যে ৩১ জনের খালাস বাতিল করে তাদের যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।
বাকি ৩৪ জনের ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়। সব মিলিয়ে ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন, ৪ জনের সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫৩ জনকে খালাস দেওয়া হয় উচ্চ আদালত থেকে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, ওই ঘটনা (বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড) ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ মোট ৫৯ জন আসামি মারা গেছেন।
হাইকোর্টের রায়ের তিন বছর পর ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলেও ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি তোলার খরচ, অনুলিপি পাওয়ার প্রক্রিয়া, আপিলের পেপারবুক তৈরিতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় বছর। গত বছর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ আপিলের সারসংক্ষেপ (কনসাইজ স্টেটমেন্ট) জমা দিলেও এখন পর্যন্ত শুনানি শুরু হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া বা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন হওয়া আসামিদের সাজা বাড়াতে ৩১টি লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া ৭৫ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৯ জনের শাস্তি বাড়ানোর আবেদন রয়েছে এসব লিভ টু আপিলে।
আসামিপক্ষের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, ২২৬ জনের পক্ষে আপিল-লিভ টু আপিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি আপিল হচ্ছে ১৩৯টি। বাকি লিভ টু আপিল। তবে লিভ টু আপিলের প্রকৃত সংখ্যা জানাতে পারেনি আসামিপক্ষ।
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, আসামিপক্ষের আপিল ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়। এরপর আসামিপক্ষের আপিল গত বছরের ২৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। আসামিদের এই আপিল ১৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৪০৫ নম্বর ক্রমিকে ছিল।
এ মামলায় ২২৬ আসামির পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. আমিনুল ইসলাম; যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। এই পদে থেকে আসামিপক্ষের হয়ে মামলা লড়ার সুযোগ আছে কিনা, জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু এত বড় একটি মামলা। এই মামলায় শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কাছে অনুমতি চাইব। আশা করি আপিল বিভাগ অনুমতি দেবেন।’
তবে আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই মামলায় আসামিপক্ষের মূল আইনজীবী আইনজীবী সুলতানা আক্তার রুবি। এই আইনজীবী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মামলাটির শুনানি করার জন্য।’
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ। পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনা যেমন পুরো বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল, তেমনি এক মামলায় এত আসামির সর্বোচ্চ সাজার আদেশও ছিল নজিরবিহীন। ওই ঘটনায় দুটি মামলার মধ্যে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে হত্যা মামলার রায় হলেও ১৬ বছরেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিচারকাজ।
প্রায় ১৭ বছর আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় দেড় শতাধিক আসামি জামিন হয় গত ১৯ জানুয়ারি। ঢাকার বিশেষ ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এই মামলায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তিনদিন পর তাদের কারামুক্তি ঘটে।
জানতে চাইলে পিপি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় হত্যা মামলায় খালাস বা সাজাভোগ শেষে বিস্ফোরক মামলার কারণে ৪৬৮ বিডিআর সদস্যের মুক্তি আটকে ছিল। এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় বেশিরভাগ আসামিরই জামিন হয়েছে। আরো জামিন আবেদন রয়েছে।’
সরকারের এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি বা সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য আছে বলে জানান বোরহান উদ্দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের কৌশল শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল বয়ে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিনিধি অ্যান্ডি লেভিন।
এক্সিট পোল বা প্রস্থান জরিপের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানের মোট ইহুদি ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিপাবলিকান শিবির থেকে আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভোটারদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা ভোটারদের মাঝে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। উল্টো এই পুরো কৌশলটি মাইক রজার্সের জন্য হিতে বিপরীত বা 'বুমেরাং' হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
সাবেক কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি লেভিন এ বিষয়ে জানান, হেইলি স্টিভেন্স বা অন্যান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে রজার্স শিবির যেভাবে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। মিশিগানের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু ও প্রধান জনগোষ্ঠীর ভোটারদের এই রায় নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ