০৭:৪৪ এম
কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকদের আমানতের বিপরীতে দেয়া সুদ বা মুনাফা থেকে নির্ধারিত হারে উৎসে কর (টিডিএস) কাটতে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে। একই সঙ্গে, কাটা এই কর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি)-১ এ সোমবার (১০ আগস্ট) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকের আমানতের সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময় সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন এবং তা যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ত্রুটির ঘটনা প্রকাশ পায়। এসব কারণে পরবর্তীতে কর সমন্বয় এবং নিরীক্ষার সময় জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও নির্ধারিত হারে কর কর্তন না করার ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০২ ধারা অনুযায়ী, সঞ্চয়ী, স্থায়ী, মেয়াদি অথবা অন্য যে কোনো ধরনের আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা থেকে গ্রাহকের ধরনের ওপর ভিত্তি করে উপযোগী হারে উৎসে কর কর্তন করা আবশ্যক। উপরন্তু, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪২ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো গ্রাহক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা পিএসআর (প্রুফ অব সাবমিশন অব রিটার্ন) সাপেক্ষে দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে স্বাভাবিক হারের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হারে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা উচিত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে। উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী, জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত যদি কোনো মাসে কর কাটা হয়, তাহলে ওই মাসের শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যেই তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। জুন মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে, পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে তা জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে। আর জুনের ২১ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত যদি কর কাটা হয়, তাহলে পরের দিন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কর্তৃক কাটা উৎসে কর নির্ধারিত সময়ের পর কোনোভাবেই জেনারেল লেজার বা অন্য কোনো হিসাবের মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। সরকারের ইউটিলিটির সময়সীমার মধ্যেই অর্থ জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে, উৎসে কর কর্তনের সমস্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় বিবরণী প্রস্তুত এবং চালানের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর অন্যান্য প্রযোজ্য বিধানগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীন এই নির্দেশনা প্রদান করেছে।
আরও পড়ুন: ২৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট সাময়িক স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন