মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০৩:৫৩ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনার ফলে ভৈরব হাইওয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া নিহত হন। এই ঘটনার সাথে আরও একটি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার সময় উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত পুলিশ সদস্য পারভেজ মিয়া (৩৪) হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ভৈরব হাইওয়ে থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। আহত অপর পুলিশ সদস্যের নাম হল জাকির মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায় যে, সোমবার রাতে ভৈরবের দিক থেকে আসা কিশোরগঞ্জগামী একটি কুঁড়া-ভূষি বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-০৮৪৬) যখন দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়, তখন এটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে নিতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভৈরব হাইওয়ে থানার ডিউটিরত পিকআপ ভ্যানের ওপর ট্রাকটি উল্টে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় পিকআপের ভেতরে থাকা দ্বায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু বরন করেন। পিকআপে থাকা অপর পুলিশ সদস্য জাকির মিয়া আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং কুলিয়ারচর থানার পুলিশসহ স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উদ্ধারকারী দল চেষ্টা করে ট্রাকের নিচ থেকে নিহত কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস ভূঁইয়া জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় নিহত পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রাকের মালামাল সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়।
ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া নিহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নিহতের পরিবারের লোকজন এলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও হাইওয়ে পুলিশের পিকআপ জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে চালক ও সহকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে ওপেনএআইর বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞা (Prelude Injunction) জারির জন্য আবেদন করেছে অ্যাপল।
অ্যাপল কোম্পানির দাবি, আদালত যেন ওপেনএআই এবং তাদের কাছে যোগ দেওয়া অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মীকে অ্যাপলের গোপন তথ্য ব্যবহার, সংগ্রহ বা প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লঙ্ঘনের অভিযোগে সোমবার (৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে অ্যাপল এই আবেদন করে। এর পাশাপাশি, মামলার দ্রুত তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিও চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত মাসে অ্যাপল ওপেনএআই এবং তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়া অ্যাপলের দুই সাবেক কর্মী—চ্যাং লিউ ও ট্যাং ইউ ট্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
অভিযোগে বলা হয়, তারা অ্যাপলের গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ওপেনএআইর ভোক্তাপণ্য হার্ডওয়্যার প্রকল্পকে সুবিধা দিচ্ছে।
চ্যাং লিউ ছিলেন অ্যাপলের সাবেক সিনিয়র সিস্টেম ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, অন্যদিকে ট্যাং ইউ ট্যান অ্যাপলের পণ্য নকশা বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট।
আদালতের কাছে অ্যাপল আরও অনুরোধ করেছে, ওপেনএআইর কর্মী ইউ-টিং পেং এবং অ্যাপলে আগে কর্মরত থাকা আরেকজন বর্তমান ওপেনএআই কর্মীর সাক্ষ্য নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।
অ্যাপল ওপেনএআই ও তাদের বাণিজ্যিক সহযোগী আইও প্রডাক্ট-এর প্রতিনিধিদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেছে।
আবেদনে উল্লেখিত হয়েছে যে, আদালত যদি দ্রুত নিষেধাজ্ঞা না দেয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
অতএব, ওপেনএআই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অ্যাপলের আবেদন ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তাদের দাবি হলো, অ্যাপলের কোনো ট্রেড সিক্রেট তাদের কাছে নেই এবং সেগুলো নেওয়ারও কোনো পরিকল্পনা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা ভবিষ্যতের এআইনির্ভর ডিভাইসের বাজারে আধিপত্য নিয়ে একটি বড় আইনি লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, ওপেনএআই এমন একটি ফোন বা অন্য কোনো স্মার্ট ডিভাইস তৈরি করছে, যা প্রচলিত অ্যাপ বা অপারেটিং সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল নাও হতে পারে।
জটিলতা সৃষ্টি হলে, উন্নত প্রযুক্তির ওই ডিভাইস অ্যাপলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্য আইফোনের জন্য নতুন প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের উদ্যোগে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও সুধী সমাজের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি সভায় বলেন, "একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানসম্মত পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।"
বিশেষ অতিথি হিসেবে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বক্তব্যে বলেন, "শিক্ষার্থীদের মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় পাশে থাকবে।"
সভাপতির বক্তব্যে এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, "রঘুনাথপুর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকার সচেতন মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সবুজ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল আমিন। এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ এবং সদস্য সচিব রাকিব তালুকদারসহ অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় চাল ও আটা কিনতে উপকারভোগীদের সারি। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ
‘সকাল ৮টার দিকে আইছি। এখন বিকেল সাড়ে ৩টা বাজে।
এখনও চাল-আটা পাইনি। গরম আর বৃষ্টির মধ্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখানে আসলে পুরো দিনটাই চলে যায়। বাড়ির কোনো কাজ করতে পারি না।’
সোমবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন জোসনা বেওয়া। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের মাঝগ্রাম মহল্লার এই বাসিন্দা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন ওএমএস-এর একটি বুথে। কম টাকায় চাল ও আটা কিনে ঘরে ফিরবেন- এই আশায়। কিন্তু সেই আশা তার সাত ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পূরণ হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আক্কেলপুরে সরকারের খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় চাল ও আটা কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। এতে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে গৃহিনীদের দৈনন্দিন কাজও।
উপকারভোগীরা বলছেন, জনবল সংকটে দুটি বুথের পরিবর্তে একটি বুথে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দিনমজুরদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গৃহিনীদের দৈনন্দিন কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
একইসঙ্গে নিয়মিত কিছু ব্যক্তি চাল-আটা কিনে বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি সারি থাকলেও বিক্রয় কার্যক্রম চলছে একটি বুথে। সকাল থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছিলেন অনেক নারী-পুরুষ। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চাল-আটা সংগ্রহ করতে পারেননি অনেকে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে কেউ কেউ সারির পাশে বসে অপেক্ষা করছিলেন। তীব্র গরমের সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টিও তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
সারিতে অপেক্ষমাণ কয়েকজন উপকারভোগী জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে খাদ্যপণ্য পাওয়া যায় বলে প্রতিদিনই ওএমএসের বুথে মানুষের ভিড় থাকে। তবে কিছু মানুষ নিয়মিত ওএমএস-এর চাল ও আটা কিনে বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করছেন। এতে প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষ অনেক সময় কাঙ্খিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে কার্যকর নজরদারির দাবি জানান তারা।
মানিকপাড়া গ্রামের রহিমা বিবি বলেন, সকাল ৭টায় লাইনে দাঁড়াইছি। দুপুর পার হলেও এখনও চাল-আটা পাইনি। গরম আর বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। যারা প্রতিদিন চাল-আটা কিনতে আসেন, তাদের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি করা প্রয়োজন। তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
ভ্যানচালক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে এসে দেখি অনেক বড় লাইন। এতক্ষণ অপেক্ষা করলে আজ আর আয়-রোজগার হবে না। তাই চাল-আটা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছি।’
খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গত ১ জুলাই থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুই টন চাল ও দুই টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে। একজন উপকারভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কিনতে পারেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন এ সুবিধা পান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একজন উপকারভোগীর কাছ থেকে মূল্যগ্রহণ, আঙুলের ছাপ নেওয়া, অমোচনীয় কালি লাগানো এবং খাদ্যপণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। ফলে বিক্রির গতি কমে গিয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছে।
আক্কেলপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মো. মাহবুব হোসেন বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি বুথে বিক্রির কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে একটি বুথ থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া নিয়মিত যারা চাল ও আটা কিনতে আসেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
উপজেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, ওএমএস-এর মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে। এর পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর চাইলে তাঁদেরকে আরো সহযোগিতা করা হবে।
ইউএনও বলেন, ইতোমধ্যে নিয়মিত চাল ও আটা কিনতে আসা কয়েকজনকে চিহ্নিত করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আকাশী গ্রামে পূর্ববিরোধের কারণে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধকে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এছাড়াও, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহিম (৬৫) এবং তিনি আকাশী গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, প্রতিবেশীদের টয়লেট তাদের বসতঘরের খুব কাছাকাছি নির্মাণ করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
সোমবার সকালে, এ বিষয়ে আব্দুর রহিমের স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশীদের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, একপর্যায়ে জিয়াউর রহমানের ছেলে সিয়াম (১৮), জোয়াদ আলীর স্ত্রী পারভীন এবং জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শেফালী (৪০) মিলে আব্দুর রহিমের স্ত্রীর ওপর হামলার চেষ্টা করেন। প্রাণভয়ে স্ত্রী ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলে অভিযুক্ত সিয়াম দরজা ভেঙে লোহার রড দিয়ে তার ওপর হামলা চালান, এতে স্ত্রীর বুকের পাঁজরে গুরুতর আঘাত লেগে এবং হাতে জখম হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় অভিযুক্তরা ঘরের ট্রাংক ভেঙে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত আব্দুর রহিমকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এই ঘটনায় মধুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ