বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২১ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বিগত ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকার ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আ’লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনে সৃষ্ট এই সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার সকল সংকটের সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। রাশেদ খান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ সকাল সাড়ে ৯ টায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় হকার্স মার্কেট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান আরও জানান, বিদ্যুৎ আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী হতে হবে। এজন্য সোলার সিস্টেম চালু করা এবং নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। তাহলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সরকার। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কালীগঞ্জ শহরের যানজট ঢাকার মতো হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সড়কে বসা দরিদ্র হকারদের জন্য একটি হকার্স মার্কেট নির্মাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রকৃত দাবিদারগণ ন্যায্যভাবে বরাদ্দ পাবেন, সেদিকে তদারকি করা হবে।
পৌর হকার্স মার্কেট ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ, থানার অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির নেতা তবিবুর রহমান মিনি, জহির হাসান মাহন, ডাঃ নুরুল ইসলাম, ইসরাইল হোসেন জীবন, ইলিয়াস রহমান মিঠু, যুবদল মাহবুবুর রহমান মিলন, কালীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হাসানসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও উদ্ভাবনী শিক্ষা এবং গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষাকে টেকসই উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (সিইউএসটি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও গবেষণা-সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সে লক্ষ্য অর্জনে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের কারিকুলাম প্রণয়নের পরামর্শ দেন।
সাক্ষাৎকালে সিইউএসটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত নানা বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ডিজিটাল মার্কেটিং ও নার্সিংয়ের মতো সময়োপযোগী এবং কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রপতির মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সহযোগিতার জন্য প্রতিনিধি দল তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিকসচিব ও সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও সিইউএসটি-এর উপাচার্য (ভিসি), রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা অডিটরিয়ামে অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান ও টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্টরা দাবি করছে ডিসেম্বরে তাদের রানি মা দেশে আসবে, আর রাজাকাররা বলছে ডিসেম্বরে আমাদের পতন ঘটাবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে পরনির্ভরশীল রাখার জন্য নতুন একটি গ্যাসকূপ খনন করেনি।
মন্ত্রী বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত বঙ্গোপসাগরের গ্যাসকূপ খনন করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রশানের কর্মকর্তা ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩২তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের (জেসিএসসি) সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি কোর্স সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের সনদপত্র ও ট্রফি প্রদান করেন।
কোর্সে সেরা নৈপুণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হাসিন তানভীর, জিডি (পি) কে বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি দেওয়া হয়। এরপর বিমান বাহিনী প্রধান কোর্সে উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
বিমান বাহিনী জানায়, এবারের কোর্সে দেশ ও বিদেশের বিমান বাহিনীর ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে কমান্ড, স্টাফ ও নির্দেশমূলক দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তুলতে কর্মলব্ধ জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে কোর্সটি পরিচালিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (সিএসটিআই) প্রশিক্ষক এবং কক্সবাজারের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনের প্রতি ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান জনমতের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রতিফলন। রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভিন্ন শিবিরে এখন চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা বেড়েছে, যদিও কিছু সংশয় রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল মহলে চীনের ভাবমূর্তি পূর্বের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ৫৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের চীন সম্পর্কে “নেতিবাচক” ধারণা রয়েছে, যা ২০২১ সালে ছিল ৬৮ শতাংশ। জুলাইয়ে গবেষণা সংস্থা শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছিল যে, আমেরিকাতে ৫৭ শতাংশ মানুষ চীনের সাথে “বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার” পক্ষে মত দিয়েছে; এর মধ্যে ৬৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান রয়েছেন।
কাউন্সিলের জনমত জরিপ তদারককারী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা দিনা স্মেল্টজ মন্তব্য করেছেন, “চীন সম্পর্কে মানুষের মনোভাব সত্যিই বিস্ময়করভাবে বদলেছে।” গ্যালাপের এ বছরের জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার ৩৪ শতাংশ মানুষ চীনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে, যা ২০২৩ সালের সর্বনিম্ন হারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এক দশক আগে, ট্রাম্পের কঠোর চীন-বিরোধী বক্তব্য তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
দিনা আরও বলেন, “মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছেÑআগে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চীনের উত্থান ও প্রভাব সীমিত করার পক্ষে ছিল, এখন সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকান চীনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।” বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে, ট্রাম্প গত বছর সর্বোচ্চ ১শ’ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এ পরিবর্তন এপ্রিলে বেইজিং সফরের সময় তাঁর বিনয়ী আচরণে স্পষ্ট হয়েছিল এবং এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে বেইজিং এখনও বড় কোনো ছাড় দেয়নি। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় চীনের ব্যাপারে এখনও বেশি কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকলেও, তাদের মনোভাবও আগের চেয়ে ইতিবাচক হয়েছে, যা হয়তো ট্রাম্পের অবস্থানের পরিবর্তনের ফল। ডেমোক্র্যাটরাও একই পথে অগ্রসর হয়েছেন।
এদিকে, চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক সক্ষমতা এবং তাইওয়ান নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা থাকলেও, জনমত জরিপ পরিচালনাকারীরা বলছেন, আমেরিকানরা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে খুব একটা ভাবেন না এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি খুব কমই প্রভাব ফেলে।
পিউ এবং শিকাগো কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি। পিউ-এর সহযোগী পরিচালক লরা সিলভার বলেন, “তরুণরা চীনকে একটি পরাশক্তি হিসেবেই জেনে এসেছে।” অন্যদিকে, বয়োজ্যেষ্ঠ প্রজন্মের কাছে চীন মূলত উন্নয়নশীল দেশ, কমিউনিজম এবং ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ার হত্যাকা-ের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তরুণ প্রজন্মের কাছে চীন পরিচিত হয়ে উঠছে এর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাংস্কৃতিক প্রসারের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে অনলাইনে প্রচলিত ‘চায়নাম্যাক্সিং’ (চীনকে সর্বোতভাবে অনুসরণ করা)-এর মতো প্রবণতা-মাধ্যমে।
শিকাগো কাউন্সিলের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যে ১০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার প্রতি সম্মান কমেছে।
কার্টার সেন্টারের গবেষক নিক জেলার এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “চীনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে আসলে আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগই প্রতিফলিত হচ্ছে। চীনের প্রতি এই ইতিবাচক মনোভাবের সঙ্গে খোদ চীনের চেয়ে বরং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবই বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ