০৫:৪৮ পি.এম
কক্সবাজারে যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানির আড়ালে স্থানীয়ভাবে সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরির অভিযোগে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়। জব্দ করা গাড়িগুলো হলো টয়োটা সুপ্রা, হোন্ডা সিভিক ও মাজদা এমএক্স-ফাইভ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের কলাতলী সড়কের ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এলাকায় অভিযান চালায় সিআইআইডির একটি দল। অভিযানে যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করে দেশে এনে সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তরের অভিযোগে তিনটি গাড়ি শনাক্ত করে জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে গাড়িগুলোতে প্রচলিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে ‘সিনএইচ৪’, ‘এস৪ফিয়াট’ ও ‘ইএসএইচ৪এইচ’ লেখা পাওয়া যায়, যা কর্মকর্তাদের সন্দেহ জাগায়। গাড়িগুলোর আমদানি পদ্ধতি, ঘোষণার ধরন, মালিকানা, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং সংযোজনের বৈধতা যাচাই করতে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯১ অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোনাপাহাড় ও তেমুহানীতে জোরারগঞ্জ পুলিশের অভিযান: চোলাইমদ ও চোরাই অটোরিকশাসহ গ্রেফতার ৫
সিআইআইডি'র চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবে না দেখিয়ে যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে এনে পরে সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এতে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন, ভুল ঘোষণা বা শুল্ক-কর ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে কাস্টমস আইনের অন্যান্য ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা হলেন—হাসিবুর রহমান সিনহা (কক্সবাজার), আজমাইন রাইহান (গাজীপুর), নকিবুল হাসান (ঢাকা), শরাফাত রহমান (গাজীপুর) ও সিফিয়াত মাহমুদ (ঢাকা)। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ চূড়ান্ত নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জব্দ গাড়িগুলোর আমদানি নথি, ঘোষণাপত্র, শুল্ক-কর পরিশোধের তথ্য ও চ্যাসিস নম্বর যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার হোসাইন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন