ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিএনপি নেতাদের আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মামলা, এরপর...


বিএনপি নেতাদের আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মামলা, এরপর...

চট্টগ্রামে দুই গ্রুপের ঠিকাদারি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বিএনপির তিন নেতাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দোসর উল্লেখ করে ‘গায়েবি’ মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ঠিকাদার মো. আব্দুল কাদের সিকদার সাতকানিয়া থানায় মামলাটি করেন। 

মামলায় বিএনপি নেতা এমএ হাশেম রাজু ছাড়া আরও দুজনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। মামলার ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে সাতকানিয়া থানার ১১ নম্বর কালিয়াইশ ইউনিয়নের চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের কার্যালয়ের সামনে। অথচ এমন কোনো ঘটনাই সেখানে ঘটেনি।

আরও পড়ুন: মেঘনায় নৌ পুলিশের অভিযানে ৩৩ জেলে আটক, ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এদিকে, মিথ্যা মামলা গ্রহণের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এজাহারে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, নাশকতার উদ্দেশে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। 

এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন-গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা আফিল উদ্দিন আহমদ, চন্দনাইশ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ইলিয়াছ বাবুল এবং ঠিকাদার কামাল উদ্দিন চৌধুরী বাচা। এছাড়া অজ্ঞাত আরও অনেকে রয়েছেন।

 

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আসামিরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের কার্যালয়ের সামনে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলের আয়োজন করেন। তারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অর্থায়নে সহায়তা, আসামিদের আশ্রয়দান ও প্ররোচিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে ওই কর্মসূচি পালন করেন। 

আরও পড়ুন: মুসলিম পরিচয়ে প্রেম-বিয়ের আসরে জানা গেল হিন্দু, অতঃপর নাজমা খাতুনের আত্মহত্যা

আসামিদের বিরুদ্ধে সড়ক বিভাগের কার্যালয়ের মূল ভবনে থাকা প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে উল্লাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার নেপথ্যে সওজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ : 

অভিযোগ রয়েছে বিএনপির একপক্ষের এই ‘গায়েবি’ মামলার উদ্দেশ্য চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের ঠিকাদারি কাজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। 

সওজ ও আশপাশের প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মতে, মামলায় যে ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে, ওই স্থানে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। পুরোটাই ‘কাল্পনিকভাবে’ সাজানো হয়েছে ।

আরও পড়ুন: সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ ৪ ও উচ্চকক্ষের ৬ বছর করার প্রস্তাব

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগে বিএনপির দুপক্ষে কাজের ভাগ-বাটোরায়া নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ঠিকাদার সমিতি’ এবং ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি’ নামে দুটি আলাদা সমিতিও রয়েছে। সড়ক বিভাগের কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ ও ভাগ-বাটোয়ারার সুবিধার্থে স্থানীয় বিএনপির দুপক্ষ নিজেদের মতো করে এসব সমিতি গড়ে তুলেছে। 

একটি সমিতির নেত্বত্বে রয়েছেন চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হাশেম রাজু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী। অন্য সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা আফিল উদ্দিন আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস বাবুল।

 

জানা যায়, সোমবার দুপুর ২টার দিকে এমএ হাশেম রাজুর নেতৃত্বাধীন সমিতি সড়ক বিভাগ কার্যালয়ের মাঠে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। অন্যদিকে, ওইদিন রাতে আফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে অপরপক্ষের নেতাকর্মীরা সড়ক বিভাগ কার্যালয়ের একটি কক্ষে ছোট পরিসরে আলোচনা সভা করে। ওইদিন বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে কিছুই ঘটেনি। অথচ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ডাহা মিথ্যা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের নিরাপদ ও সম্প্রীতির নগরী: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইলিয়াস বাবুল বলেন, ‘বিএনপি করার কারণে ১৭ বছর আওয়ামী লীগের আমলে অনেক গায়েবি মামলার আসামি হয়েছি। এখন বিএনপির আমলে আরেকটি ‘গায়েবি’ মামলার আসামি হলাম। অথচ আমি আজীবন আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম সহ্য করেছি। সোমবার রাতের সেই আলোচনা সভায় আমি উপস্থিতই ছিলাম না।’

সাতকানিয়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি সোমবার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।’ 

জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এবং সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : মীর শাহে আলম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে, যা কয়েক দফা কমার পর ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সর্বশেষ ১ হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সেদিন সকাল ১০টা থেকে। আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত ওই দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।

নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদিকে বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা বার্তা দিলেন শাহরুখ-সালমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


মোদিকে বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা বার্তা দিলেন শাহরুখ-সালমান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৯১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের ভাদনগরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তাই সকাল থেকে নানা জায়গায় নানাভাবে পালিত হয়ে আসছে। এবার প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিনে বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানান বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান, ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানসহ আরও অনেক বলি তারকা।

সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে কালো রঙের ব্যাকগ্রাউন্ডে শাহরুখ খান লিখেছেন—'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, আপনাকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। আগামী দিনগুলো সুস্থতা, সুখ ও সাফল্যে ভরে উঠুক।' তিনি আরও বলেন, 'দেশকে অনুপ্রাণিত করার মতো শক্তি ও ইতিবাচক মনোভাব যেন আপনার মধ্যে সব সময় থাকে।'

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সালমান খানও লিখেছেন— 'জন্মদিন মোবারক হো প্রধানমন্ত্রী সাহাব। নরেন্দ্র ভাই মোদি আপনাকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। জয় হিন্দ।'

শুধু শাহরুখ খান কিংবা সালমান খান নন, মোদির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলিউডের আরও অনেক তারকা। ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতও একটি সংস্কৃত শ্লোকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও দেশের সেবা করে যাওয়ার শক্তি কামনা করেছেন। 

খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমার সাধারণ মানুষকে এই দিনটিকে ‘সেবা সঙ্কল্প’ হিসাবে পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনমতো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েই এই বিশেষ দিনটি পালন করা যেতে পারে।

অভিনেতা সুনীল শেটিও প্রধানমন্ত্রীকে সুস্বাস্থ্য, শক্তি এবং দেশসেবায় অবিচল থাকার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনুপম খের কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ, সুস্থ ও আনন্দময় জীবন। শিল্পা শেঠি লিখেছেন— দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে মোদির সুস্বাস্থ্য, শক্তি ও সাফল্য কামনা করেন তিনি।

জ্যাকি শ্রফ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ ছাড়া অনিল কাপুর, অজয় দেবগন, কাজল, সঞ্জয় দত্ত, রবি কিশনের মতো তারকারাও সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও বার্তা দিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সর্বজনীন পেনশনে নমিনির সুবিধা ৮০ বছর বয়সসীমায় বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


সর্বজনীন পেনশনে নমিনির সুবিধা ৮০ বছর বয়সসীমায় বাড়ল

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পেনশন সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। পূর্বে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু এখন তা বৃদ্ধি করে ৮০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন। আর পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। পূর্বে এই সুবিধার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে পেনশন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা প্রচলিত সরকারি পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নেই। বর্তমানে ‘প্রগতি’ স্কিম মূলত বেসরকারি কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য চালু রয়েছে।

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক বা ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পেনশন তহবিলে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

তবে সর্বজনীন পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। নির্বাহী চেয়ারম্যান বিষয়টি একচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া, পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর জমা অর্থ তুলে নিয়ে কর্মসূচি থেকে বের হওয়ার সুযোগ, পেনশন তহবিল থেকে ঋণ এবং স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাবও এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেসরকারি খাত থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


বেসরকারি খাত থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ২০২৮ সালের মধ্যে বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে মোট ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা।

বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত এই বিদ্যুতের দাম পূর্বে চুক্তি করা একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে, সরকার ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

এই প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায়, ব্যাটারিসহ ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০ শতাংশ মুনাফার হার এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত এবং ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড।

এছাড়া, বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম জানান, তার প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পই ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হবে।’

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া, বাগেরহাটের মোংলায় নির্মাণ করা হবে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও স্থাপন করা হবে।

অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, মৌলভীবাজার সদর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ১০ মেগাওয়াট থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা এসব চুক্তি সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রচলিত, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

তিনি আরও জানান, বিপিডিবি রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে। এছাড়া, অবকাঠামো বিনিয়োগ সহায়তা কোম্পানি (আইআইএফসি) ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিপিডির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে বিপিডিবি। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিপিডি দুই বছর আগে নিজস্ব অর্থায়নে নিজেদের ভবন ও জমিতে ১৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল।

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশকে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে, সরকার দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা।

সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

হাসান মেহেদী বলেন, সরকার যদি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে, তাহলে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%