ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বায়োগ্যাস প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে দুদকের তদন্তে


বায়োগ্যাস প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে দুদকের তদন্তে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বায়োগ্যাস ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় ২০ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। রাজশাহীর বাগমারায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের সময় দেখা গেছে, ৪১০ জন উপকারভোগীর নামে ভুয়া তালিকা তৈরি করে অন্তত ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দুদকের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি নথি অনুযায়ী, বাগমারা উপজেলার তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তদন্তে দেখা যায়, এই কর্মকর্তা প্রকল্পের আওতায় ভুয়া উপকারভোগীদের তালিকা দাখিল করেছেন।

অভিযোগের পর দুদকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত শেষে বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে অনুসন্ধান করে। তারা দেখতে পায়, তালিকায় থাকা অধিকাংশ উপকারভোগীর বাড়িতে সত্যিকার অর্থে কোনো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়নি এবং অনেকেই জানিয়েছেন, তারা প্রকল্পের সুবিধা পাননি।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে তদন্তের প্রতিবেদন পরে দুদককে পাঠানো হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) আন-আমিন ওই প্রতিবেদনে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। সরকারি নথিতে উল্লেখ করা আছে যে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার বলেন, "উপকারভোগীদের তালিকা মূলত ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রস্তুত করেন। তাদের মাধ্যমেই তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আমি কোনোভাবে জড়িত নই।" তবে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, "তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।"

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এবং বাহক। ফাইল ছবিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্যের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উচ্চশিক্ষার বিস্তার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, উদ্ভাবনে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।

আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আজ নিজের দেওয়া এক বাণীতে এসব বিষয় উল্লেখ করেন। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে জাতির রাজনৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় জাগরণ ঘটেছে। এরই ক্রমধারায় অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল। একই সময়ে দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, মানবিকতা, মুক্তবুদ্ধি চর্চা, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে এই বাতিঘরের কীর্তি গভীর ও অবিস্মরণীয়। দক্ষ মানবসম্পদ ও পেশাজীবী তৈরি, চিন্তক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তোলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই জ্ঞানপীঠের অবদান অনন্য এবং সাধারণ।

রাষ্ট্রপতি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, জাতির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে। দেশের উচ্চশিক্ষার পথিকৃৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

ডাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা পাঠ্যসূচিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে হবে। রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামীতেও গৌরবময় ঐতিহ্য ও একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখবে এবং জাতীয় জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে জনগণের পাশে থাকবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক অবদান অব্যাহত রাখবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেভাবে আমেরিকার ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


যেভাবে আমেরিকার ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

বর্তমান সময়ে মাঝে মাঝে মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যেন দেশ পরিচালনার অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কেননা, দেশটির নয় সদস্যের এই সর্বোচ্চ আদালতকে বারবার এমন সব বিতর্কিত ও জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হচ্ছে, যেগুলো আমেরিকার গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

যে বিষয়গুলো নিয়ে সমাজ ও রাজনীতিতে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলোর সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেগুলোর ভার পড়ছে আদালতের ওপর।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা। নিজের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং প্রায়ই আদালতে পরাজিত হলেও সেই রায়গুলোকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট শুধু আইনি সিদ্ধান্তই দিচ্ছে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মূল্যবোধ, নির্বাচনব্যবস্থা এবং ক্ষমতার কাঠামোর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।

ট্রান্সজেন্ডার অধিকার, নাগরিকত্বের প্রশ্ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা- এসব বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আমেরিকার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চরিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাধারণ মানুষের চোখে দেশের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যখন আদালত থেকে আসে, তখন সুপ্রিম কোর্টকে অনেক সময় সরকারের মতোই শক্তিশালী মনে হয়। অথচ প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের ভাষায়, আদালতের ভূমিকা হলো শুধু আইনি ও সাংবিধানিক নিয়মের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়া- যেন একজন আম্পায়ার খেলার নিয়ম প্রয়োগ করেন।

এই অবস্থার সঙ্গে কংগ্রেসের ভূমিকার বড় পার্থক্য রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার বদলে কংগ্রেস হয় অকার্যকর হয়ে পড়েছে, নয়তো নিজেদের ক্ষমতার বড় অংশ হোয়াইট হাউসের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের নীতির কারণে বাড়ছে আদালতের ভূমিকা। ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মামলা এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার অবস্থান নির্ধারণ করছে না; বরং সেই ক্ষমতার বণ্টনও নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

ইতিহাসে এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে ছিল। দাসপ্রথার সময়, প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্টের ‘নিউ ডিল’ কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সময়ও আদালত তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছিল।

বারাক ওবামার আমলে আদালত সমলিঙ্গ বিবাহ বৈধ ঘোষণা করে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক উদারনীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়েছিল।

অন্যদিকে ২০২২ সালে গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত রক্ষণশীল রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য কয়েক দশকের প্রচেষ্টার পর বড় বিজয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

কেন দলীয় বিভাজনের বাইরে থাকতে পারছে না সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আদালত আরও বেশি রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত আইনি যুক্তির ভিত্তিতে হলেও সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় সেগুলো দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। এর একটি কারণ হলো বিচারপতিদের মধ্যকার মতপার্থক্য এখন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

তীব্র ভাষার ভিন্নমত অনেকের কাছে আদালতকে একটি রাজনৈতিক সংঘাতের জায়গা হিসেবে তুলে ধরে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে। তাদের মতে, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনীত বিচারপতিকে অনুমোদন না দিয়ে রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছিল, কিন্তু ২০২০ সালে বিচারপতি রুথ বেডার গিন্সবার্গের মৃত্যুর পর ট্রাম্পের মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটকে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে ট্রাম্প নিজেও আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং তার নিয়োগ করা বিচারপতিরা তার প্রতি আনুগত্য দেখাবেন- এমন ধারণাও বিতর্ক তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্টকে ট্রাম্পের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক মনে করার আরেকটি কারণ হলো নির্বাহী ক্ষমতা সম্পর্কে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস কর্মজীবনের শুরুতে রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসনে কাজ করেছিলেন, যেখানে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট বা ‘একক নির্বাহী ক্ষমতা’ ধারণা নিয়ে রক্ষণশীল চিন্তাধারা গড়ে উঠেছিল।

২০৩৪ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলার এক সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্টদের সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্যাপক আইনি সুরক্ষা থাকার কথা উল্লেখ করে। এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের ক্ষমতার ধারণাকে শক্তিশালী করার উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

সোমবার ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) এক কমিশনারকে বরখাস্ত করা নিয়ে মামলায় আদালত ১৯৩৫ সালের একটি পুরোনো নজির বাতিল করে। ওই নজিরের মাধ্যমে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের সরকারি সংস্থার প্রধানদের সরানোর ক্ষমতার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল।

এই সিদ্ধান্তের ফলে এফটিসি’র মতো স্বাধীন সংস্থাগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা। ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই রায়কে ‘গত ১০০ বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

কংগ্রেস পিছিয়ে পড়ায় আদালতের গুরুত্ব বেড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রভাব বেড়ার আরেকটি বড় কারণ হলো কংগ্রেসের কার্যকর আইন প্রণয়নে ব্যর্থতা।

অভিবাসন ইস্যুতে সাম্প্রতিক মামলাগুলোর অনেকগুলো হয়তো আদালত পর্যন্ত আসতো না, যদি কংগ্রেস দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারমূলক আইন পাস করতে পারতো। যেমন- যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও হাইতির মতো দেশ থেকে আসা কিছু অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী থাকার অনুমতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়। একটি পূর্ণাঙ্গ অভিবাসন আইন থাকলে এই জটিলতা আগেই সমাধান হতে পারত।

তবে সুপ্রিম কোর্ট সবসময় ট্রাম্পের নীতির পক্ষে যায়নি। ২০২৫ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত জানায়, প্রেসিডেন্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপ করতে পারবেন না। এতে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বড় ধাক্কা খায়।

অন্যদিকে সোমবার আদালত রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির একটি চ্যালেঞ্জও প্রত্যাখ্যান করে। এতে মিসিসিপির এমন একটি আইন বহাল থাকে, যেখানে নির্বাচনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানো কিছু ব্যালট গণনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আমেরিকার ভবিষ্যৎ ক্ষমতার লড়াই। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু রায় আবার একটি বড় বৈপরীত্য তুলে ধরে। একদিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধি বাড়াচ্ছে বলে সমালোচনা রয়েছে, অন্যদিকে একই আদালত অনেক ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর সীমাও আরোপ করছে।

নিম্ন আদালতগুলোও ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্ত ধীর করেছে। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষমতার পরিধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

ভবিষ্যতে কোনও ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এলে তিনি হয়তো ট্রাম্প আমলের তৈরি নজির ব্যবহার করে নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন- যদি আদালতের নির্বাহী ক্ষমতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি একই থাকে।

তবে কংগ্রেস যদি নিজেদের সাংবিধানিক ভূমিকা পুনরুদ্ধার না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে থাকবে- এই প্রশ্নের কেন্দ্রীয় খেলোয়াড় হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে সরকারি আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে সরকারি আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

 

বেসামরিক প্রশাসনে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার, জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বেসামরিক প্রশাসনে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন।

তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের এ ধরনের কল্যাণমূলক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও সরকারের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লজ্জাহীনতার অভিযোগ তুললেন জো বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লজ্জাহীনতার অভিযোগ তুললেন জো বাইডেন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডনাল্ড ট্রাম্পকে অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর প্রথম রাজনৈতিক ভাষণে ট্রাম্পকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। বাইডেনের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে অভিযোগ তোলেন যে, প্রেসিডেন্টের পদকে ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

হোয়াইট হাউসে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতির নজির যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন বাইডেন। তিনি বলেন,

“এই প্রশাসন অযোগ্য এবং চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রশাসনে এমন নজিরবিহীন, প্রকাশ্যে দুর্নীতি কখনো দেখা যায়নি। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প কোটি কোটি ডলার কামিয়েছেন, যা আমার কাছে সত্যিই হতবাক করার মতো। তার কোনো লজ্জা নেই। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

বাইডেন হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নিজের নাম যুক্ত করা এবং রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পকে আত্মপ্রচার বলেও তুলে ধরেন।

ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ ও আত্মমুগ্ধ নেতা’ আখ্যা দিয়ে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, এসব প্রকল্প বর্তমান প্রশাসনের অদক্ষতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতিফলন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে ট্রাম্প বিপুল অর্থ আয় করেছেন বলেও অভিযোগ করে বাইডেন।

বাইডেন বলেন,

“ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের পূর্ব অংশ ভেঙে নিজের জন্য বলরুম বানাতে চেয়েছিলেন, কেনেডি সেন্টারের ভবনে নিজের নাম খোদাই করতে চেয়েছিলেন, এমনকি নিজের সম্মানে তোরণ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ।”

ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বাইডেন দাবি করেন, ক্যাপিটল হামলায় জড়িতদের তিনি সরকারি অর্থে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “যারা ৬ জানুয়ারির হামলায় অংশ নিয়েছিল, তারা ক্ষতিপূরণের নয়, বরং দীর্ঘ কারাদণ্ডের যোগ্য।” সাবেক প্রেসিডেন্টের আরও অভিযোগ, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন এবং মিত্রদের বদলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর এটি বাইডেনের প্রথম বড় রাজনৈতিক ভাষণ। ট্রাম্পকে এক হাত নিলেও বাইডেন নিজেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে দেরিতে সরে দাঁড়ানোর, ছেলে হান্টার বাইডেনকে ক্ষমা করার মতো নানা কারণে নিজ দলের ভেতরে এখনও চাপের মুখে আছেন। সেসব পাশ কাটিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%