মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩০ এম
আইসল্যান্ডকে নিরাপত্তা জোরদারের নতুন পথ খুঁজতে হবে, কারণ ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আবার শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার পরিকল্পনা করছে।
সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থর্গেরদুর গুনারসদোত্তির। শনিবার, আইসল্যান্ডের নাগরিকেরা ব্রাসেলসের সঙ্গে ইইউর সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরুর সরকারি প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন। এতে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে।
ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকদের মধ্যে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ এই ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন। ভোটের পর গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউর সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। সংসদে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর রয়টার্সকে তিনি জানান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তাই, নিরাপত্তা বাড়াতে অন্য পথ খুঁজতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইসল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য ও নীতি একটি বড় কারণ। ট্রাম্প একাধিকবার প্রতিবেশী গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ন্যাটোর প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব কারণে আইসল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
ইইউর সদস্যপদ নিয়ে গণভোটের আগে আইসল্যান্ড সরকার ভোটারদের জানিয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলে দেশের নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হতে পারে। তবে ভোটাররা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও ইইউ আইসল্যান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, আইসল্যান্ডের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। গুনারসদোত্তির জানান, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি জাপান ও কানাডাকেও আইসল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র একটি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ডে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। দেশটি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর সদস্য। তবে আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই।
দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মূলত ন্যাটোর সদস্যপদ এবং ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আইসল্যান্ডের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইসল্যান্ড এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য নয়। তবে ১৯৯৪ সাল থেকে দেশটি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার (ইইএ) অংশ। এই চুক্তির মাধ্যমে আইসল্যান্ড ইইউর একক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পায়। ফলে ইইউর সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার কাঠামো ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ইইএ চুক্তির আওতায় আইসল্যান্ডের সহযোগিতা আরো বাড়াতে হবে। গণভোটের একটি ইতিবাচক দিক হলো, এখন দেশটির সব রাজনৈতিক দলই ‘ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)’ চুক্তির পক্ষে একমত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরো দুই শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এই ঘটনার ফলে সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৪ জনে পৌঁছেছে।
মৃত দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স ৪ মাস এবং অপরজনের বয়স ১ বছর। তাদের একজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে এবং অন্যজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এছাড়া, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কেউ শনাক্ত হয়নি, তবে এই সময়ে ১৫৪ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে মোট ১ হাজার ৩১ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ১০ জন হাম রোগী হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে, বাকিরা সন্দেহভাজন রোগী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর আড়ানী স্টেশনের নিকটবর্তী রেললাইন ভেঙে যাওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভাঙা অংশ মেরামত করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ৬টা থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই রেলওয়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সকালে রেললাইন ভেঙে যাওয়ার কারণে রাজশাহী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রাজশাহী স্টেশনে বনলতা ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে।
এছাড়া সাগরদাঁড়ি, মধুমতি ও বরেন্দ্র ট্রেনও বিভিন্ন স্টেশনে থেমে থাকে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভাঙা অংশ মেরামতের পর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিলাম এবং গ্রাহক পর্যায়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রতিবেদন নতুন বৈদেশিক মুদ্রা বাজার (এফএক্সএম) ব্যবস্থার মাধ্যমে সেপ্টেম্বর থেকে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার নিলাম, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন এবং গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন যথাযথভাবে সম্পন্ন ও প্রতিবেদন করার জন্য এফএক্সএম ব্যবস্থা চালু করেছে। পূর্বে এসব কার্যক্রম ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করা হতো, তবে এখন থেকে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এফএক্সএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপমূলক নিলাম, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থাপনা করা হবে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পট, ফরওয়ার্ড ও সোয়াপ চুক্তি এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এফএক্সএমে ক্রয় বা বিক্রয় আদেশ দিতে পারবে। নিলামের ফলাফল ও বরাদ্দও একই ব্যবস্থায় জানানো হবে। পরে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ও টাকা নিষ্পত্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
আন্তঃব্যাংক লেনদেনে বিক্রেতা ব্যাংক এফএক্সএমে আদেশ দেবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতা ব্যাংক তা গ্রহণ করবে।
পরে উভয় ব্যাংকের ব্যাক অফিসের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও টাকা নিষ্পত্তি করা হবে। সোয়াপ লেনদেনের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ও পরবর্তী-দুই ধাপের নিষ্পত্তিও এফএক্সএমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের তথ্য সংগ্রহ ও রেফারেন্স বিনিময় হার প্রস্তুতের জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি কর্মদিবসে গ্রাহক পর্যায়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য তিন দফায় জমা দিতে হবে।
প্রথম দফায় সকাল ১১টা পর্যন্ত সংঘটিত লেনদেনের তথ্য সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংঘটিত লেনদেনের তথ্য বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে জমা দিতে হবে। বিকেল ৪টার পর দিনের বাকি সময়ে সংঘটিত লেনদেনের তথ্য পরবর্তী কর্মদিবসের সকাল ১১টার মধ্যে জমা দেওয়া যাবে।
যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদনযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন না থাকে, তবুও সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে এফএক্সএমে শূন্য প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
রেফারেন্স বিনিময় হার প্রস্তুতের জন্য সাধারণভাবে ১ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি পরিমাণের গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেনের তথ্য জমা দিতে হবে। তবে প্রবাসী আয় বা মজুরি-ভিত্তিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণ যতই হোক, প্রকৃত লেনদেনের তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
এফএক্সএমে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত ছক অনুযায়ী এক্সেল ফাইল আপলোড অথবা পৃথক লেনদেনের তথ্য সরাসরি প্রবেশ করিয়ে প্রতিবেদন দিতে পারবে। তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদনকারী কর্মকর্তা তা যাচাই করে অনুমোদন করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের লেনদেন আরো স্বচ্ছ, দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে লেনদেন পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন, তথ্য সংরক্ষণ ও নিরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। ম্যানুয়াল কার্যক্রম ও প্রক্রিয়াগত সময় কমবে।
এফএক্সএম ব্যবহার সহজতর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক পরিচালন নির্দেশিকাও জারি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’—প্রিয়জনের কাছে মনের বার্তা পাঠানোর জন্য খামের ওপর ডাকটিকিট ব্যবহার করার দিনগুলো আজ স্মৃতির পটে ভাসছে। কাগজের বুকে আঙুলের স্পর্শ, কালির গন্ধ এবং ডাকপিয়নের ঘণ্টার শব্দের জন্য যে অপেক্ষার আকুলতা ছিল, তা আধুনিক যুগের কোনো খুদে বার্তায় পাওয়া যায় না।
হারিয়ে যাওয়া সেই আবেগ ও হাতের লেখার শিল্পকে স্মরণ করে আজ ১ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস’ পালন করা হচ্ছে।
এক সময় মানুষের যোগাযোগের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল চিঠি। শেরশাহর ঘোড়ার ডাক থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্র, বন্ধুত্ব কিংবা প্রেমের মান-অভিমান—সব জায়গায় এই কাগজের চিঠির রাজত্ব ছিল। মুখে না বলতে পারা আবেগ এবং মনের গহিনের কত কথা যে অক্ষরে অক্ষরে জমা থাকত চিঠির মধ্যে! শুধু প্রিয়জনের খবরই নয়, হাতের ছোঁয়ামাখা একটি চিঠির জন্য ডাকপিয়নের পথ চেয়ে থাকার সেই মধুর প্রতীক্ষায় কত ইতিহাস ও স্মৃতি লুকিয়ে ছিল।
ইংরেজি সাহিত্যিক সমারসেট মম যেমনটি বলেছিলেন, আজকের বাস্তবতায় তা সত্যি হতে চলেছে—চিঠি লেখা আসলেই এক হারিয়ে যাওয়া শিল্প। বর্তমানের ব্যস্ত সময়ে মুঠোফোন এবং খুদে বার্তার ভিড়ে চিঠির আবেদন কমলেও, অনুভূতি প্রকাশের জন্য কাগজের গুরুত্ব আজও শেষ হয়ে যায়নি। দাপ্তরিক কাজের ঝক্কি ছাড়া মানুষ এখন আর ডাকঘরে না গেলেও, অন্তরের কথা জানাতে আজও অনেকে চিঠিকেই বেছে নেন।
চিঠি লেখার এই স্মৃতি ও শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ২০১৪ সাল থেকে অস্ট্রেলীয় লেখক রিচার্ড সিম্পকিনের উদ্যোগে প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি নিজ দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের চিঠি পাঠাতেন। সেই উত্তর পাওয়ার আনন্দ তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে, হারিয়ে যাওয়া এই চর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে আনতেই তিনি দিবসটির প্রচলন করেন। ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের হাজারো মাধ্যম এলেও, চিঠির উষ্ণতা ও আবেগ চিরকাল অনন্যই থেকে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ