প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আইসল্যান্ডকে নিরাপত্তা জোরদারের নতুন পথ খুঁজতে হবে, কারণ ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আবার শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার পরিকল্পনা করছে।
সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থর্গেরদুর গুনারসদোত্তির। শনিবার, আইসল্যান্ডের নাগরিকেরা ব্রাসেলসের সঙ্গে ইইউর সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরুর সরকারি প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন। এতে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে।
ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকদের মধ্যে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ এই ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন। ভোটের পর গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউর সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। সংসদে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর রয়টার্সকে তিনি জানান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তাই, নিরাপত্তা বাড়াতে অন্য পথ খুঁজতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইসল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য ও নীতি একটি বড় কারণ। ট্রাম্প একাধিকবার প্রতিবেশী গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ন্যাটোর প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব কারণে আইসল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
ইইউর সদস্যপদ নিয়ে গণভোটের আগে আইসল্যান্ড সরকার ভোটারদের জানিয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলে দেশের নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হতে পারে। তবে ভোটাররা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও ইইউ আইসল্যান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, আইসল্যান্ডের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। গুনারসদোত্তির জানান, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি জাপান ও কানাডাকেও আইসল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র একটি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ডে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। দেশটি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর সদস্য। তবে আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই।
দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মূলত ন্যাটোর সদস্যপদ এবং ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আইসল্যান্ডের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইসল্যান্ড এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য নয়। তবে ১৯৯৪ সাল থেকে দেশটি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার (ইইএ) অংশ। এই চুক্তির মাধ্যমে আইসল্যান্ড ইইউর একক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পায়। ফলে ইইউর সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার কাঠামো ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ইইএ চুক্তির আওতায় আইসল্যান্ডের সহযোগিতা আরো বাড়াতে হবে। গণভোটের একটি ইতিবাচক দিক হলো, এখন দেশটির সব রাজনৈতিক দলই ‘ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)’ চুক্তির পক্ষে একমত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন