বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৫ পি.এম
“পদ্মা নদী স্কুল ভবন থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত। এটি যে কোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। আগামী বছর হয়তো আমাদের এই প্রিয় স্কুলের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। এর সাথে সাথে ঐতিহ্যবাহী পিঁয়াজখালী হাট, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শত শত বসতবাড়ি, হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।
পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ এবং স্থায়ী নদী শাসনের দাবি জানিয়ে আয়োজিত একটি বিশাল মানববন্ধনে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী এভাবে নিজের হতাশা ও আকুতি প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আকোটেরচর ইউনিয়নের শয়তানখালীতে বিদ্যালয়ের পাশে পদ্মানদীর পাড়ে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আকটেরচর কালীবাজার থেকে শয়তানখালীঘাট পর্যন্ত স্থায়ী নদী শাসনের দাবি জানিয়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী জনসংঘ স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী মুনতাহা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “যেভাবে পদ্মানদী আমাদের এলাকা গ্রাস করে চলেছে, তাতে খুব শীঘ্রই আমাদের স্কুলসহ পুরো জনপদ তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে। আমরা পড়াশোনা করতে চাই, আমাদের স্কুল বাঁচানোর আকুল আবেদন জানাই।”
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দিয়ারা নারিকেলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন। তিনি মন্তব্য করেন, “নদী ভাঙন শুরু হলে কেবল জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা করা হয়, যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যদি পরিকল্পিতভাবে নদী শাসন করা না যায়, তবে এই জনপদকে মানচিত্র থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।”
স্থানীয় আকোটেরচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী জানান, “প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর রোষানলে পড়ে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিটার ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তবে এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা ভেঙে গেছে। আগামী বছর হয়তো আমাদের নিজেদের ঘরবাড়িও থাকবে না। এই জনপদ রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ জরুরি।”
ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে নদীপাড়ে হাজার হাজার এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে দ্রুত স্থায়ী নদী শাসন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্মি মেডিক্যাল কোর এবং আর্মি ডেন্টাল কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসের আর্মি মেডিক্যাল কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে (এএমসিসিএন্ডএস) এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বক্তব্য প্রদান করেন আর্মি মেডিক্যাল কোর এবং আর্মি ডেন্টাল কোরের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে।
এ সময় সেনাপ্রধান বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন, যার মধ্যে আর্মি মেডিক্যাল কোর এবং আর্মি ডেন্টাল কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সেনাপ্রধান আর্মি মেডিক্যাল কোর এবং আর্মি ডেন্টাল কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি চিকিৎসাসেবায় তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং অবদানের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এছাড়া, সততা, সত্যনিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধে ব্রতী হয়ে সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কোরগুলোর প্রশংসনীয় ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়া শহরে জন্মদিনের দাওয়াতের মাধ্যমে বাড়িতে ডেকে হানিট্র্যাপ ও পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা দাবির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী যুবক বলেছেন, বন্ধুর স্ত্রীর আমন্ত্রণে গিয়ে তিনি দুদফা হামলার শিকার হন। তার অভিযোগ, জড়িতরা বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা এবং মোবাইল ব্যাংকিং কার্ডের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছেন বগুড়া সদর থানার ওসি মো. ইব্রাহীম আলী। এর আগে, মঙ্গলবার শহরের জহুরুল নগর এলাকায় একটি বাড়িতে হানিট্র্যাপ ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন দুপচাঁচিয়া উপজেলার বড়ধাপ গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে গোলাম রব্বানী (২৬) এবং তার বন্ধু কাহালু উপজেলার বীরকেদার এলাকার সোবহান আলীর ছেলে আল আমিন (৩২)।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, জহুরুল নগর মহল্লার রনি, তুহিন ও হিরা নামের তিন যুবকের সঙ্গে গোলাম রব্বানীর বন্ধুত্ব ছিল। সম্প্রতি বন্ধু রনির স্ত্রী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেন। গত মঙ্গলবার, আল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে গোলাম রব্বানী বন্ধু রনির বাড়িতে যান। জন্মদিনের আয়োজনে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মদ ছিল। সেখানে আরও কয়েকজন যুবক উপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে জোরপূর্বক মাদক সেবন করানোর চেষ্টা করা হয়। দুই যুবককে মারপিট করে পিস্তল ও ধারালো চাকু ঠেকিয়ে ঘরবন্দি রাখা হয়। জড়িতরা তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। দুদফা মারপিটের পর তাদের সামনে ইয়াবা, মদ, পিস্তল ও চাকু রেখে ভিডিও ধারণ করা হয়। সাড়ে তিন লাখ টাকা আদায় করে দুজনকে ছেড়ে দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইব্রাহীম আলী জানিয়েছেন, বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমার সঙ্গে এখন পর্যন্ত বাদীপক্ষের সরাসরি দেখা হয়নি। ঘটনা সত্য হলে মামলা রেকর্ড করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোন হ্যাকিং, ভয়েস ক্লোনিং এবং জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংঘটিত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘মোবাইল ফোন নিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল তিনজন সংসদ সদস্য আমাকে জানিয়েছেন, তাদের নম্বর থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। আরেকজনের নম্বর থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং অন্য একজনের নম্বর থেকে ২৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, যেসব সংসদ সদস্যের নম্বর ব্যবহার করে এসব বার্তা পাঠানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি তাদের ফোনে পাননি।
তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো তাদের মোবাইল (নম্বর) হ্যাক করা হয়েছে।’
চিফ হুইপ সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই বিষয়টি সম্পর্কে সকল আইনপ্রণেতার সচেতনতা থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আপনারা (সংসদ সদস্যরা) বিষয়টি জানলে পুরো দেশ জানবে। টেলিভিশনের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে বিষয়টি জানানো হোক।’
তিনি আরও বলেন, প্রতারকরা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ভয়েস ক্লোনিং এবং জাল নথিও ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ স্বাক্ষর জাল করে নথি তৈরি করছে। এটিও একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি জানান, বিরোধী দল ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন।
চিফ হুইপ সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, কোনো সংসদ সদস্য যদি ভয়েস ক্লোনিং বা অন্য কোনো ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হন, তবে এ ঘটনায় তাদের দায়ী করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নির্বাহী বিভাগ বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর জবাবে চিফ হুইপ মনি বলেন, বুধবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বিটিআরসি ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘বিটিআরসি এ সমস্যা সমাধানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে ৬৩টি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৮৬টি মিশন প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করছে, যা প্রবাসীদের দোরগোড়ায় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে। এসব ক্যাম্পে পাসপোর্ট সহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পের স্থান, তারিখ ও সময় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচারণা চালানো হয়। এর ফলে দূতাবাস থেকে দূরে বসবাসকারী প্রবাসীরা সহজেই এসব সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৭ এর সরকারি দলের সদস্য বিলকিস ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন ও অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা চালু থাকায় প্রবাসীরা নিজ অবস্থান থেকেই প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রবাসী আইনি জটিলতা, চলাচলে সীমাবদ্ধতা অথবা অন্যান্য বাস্তব সমস্যার কারণে দূতাবাসে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেন না, তারা সংশ্লিষ্ট মিশনের জরুরি হটলাইন বা ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী মিশনগুলো তাদের নিকটবর্তী কনস্যুলার ক্যাম্প সম্পর্কে অবহিত করতে পারে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও আইনগত সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো—প্রবাসীরা যে দেশেই এবং যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, তাদের জন্য কনস্যুলার সেবা যেন সহজলভ্য, দ্রুত ও নাগালের মধ্যে থাকে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পের সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
অপরদিকে, জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ৬৩টি দেশে বাংলাদেশের মোট ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এর মধ্যে ৬২টি দূতাবাস ও হাইকমিশন এবং ২৪টি কনস্যুলেট, উপ-হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন ও স্থায়ী মিশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ