০৮:৪১ এম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিবৃতি প্রদান করেছে চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সর্বস্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপাচার্য হিসেবে সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আন্দোলন কেবল একজন ব্যক্তিকে একটি পদে পুনর্বহালের দাবি নয়; বরং এটি চুয়েটের স্বার্থ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মর্যাদা এবং ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সম্মান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে প্রফেসর ড. আরাফাত রহমান রানা স্যারের কিছু কর্মকাণ্ড আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে। আন্দোলনরত চুয়েট পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সর্বাত্মক আন্দোলন চলাকালে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ও স্বচ্ছতা বজায় না রেখে শরীফ স্যার এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: এইচএসসির সঙ্গে সমন্বয়ে আলিম পরীক্ষার নতুন বিষয় কোড প্রকাশ
আমরা মনে করি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটময় মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। অথচ আন্দোলনরত চুয়েট পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে অবিশ্বাস ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও সম্মিলিত অবস্থানকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা সংকট নিরসনের পরিবর্তে সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।
এছাড়া, প্রফেসর ড. আরাফাত রহমান রানা স্যারের বিরুদ্ধে অতীতেও ক্যাম্পাসে সম্মানিত শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং তাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ও এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মান, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, সম্মিলিত অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের অভিযোগকে আমরা কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখছি না। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত, ন্যায়সংগত দাবি এবং পারস্পরিক সম্মানের প্রতিফলন ঘটুক। কোনো ধরনের গোপনীয়তা, একতরফা পদক্ষেপ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভিন্নমত থাকতে পারে, সেটি তিনি আলোচনার মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালানো পর্যন্ত তার গণতান্ত্রিক অধিকারের মাঝে পড়ে। কিন্তু তার প্রত্যক্ষ মদদে ক্যাম্পাসের হৃৎপিণ্ড-ভিসি ভবনের মতো জায়গায় যখন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বহিষ্কৃত সন্ত্রাসী প্রবেশ করে তখন সেটা ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুন্দর পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তার এহেন আচরণ চুয়েটের শিক্ষার্থীসমাজ কখনোই মেনে নিবে না।
আরও পড়ুন: শিশুরা বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না: ববি হাজ্জাজ
উপরোক্ত পরিস্থিতি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গভীর ক্ষোভ এবং তার ভূমিকা নিয়ে সৃষ্ট গুরুতর আস্থার সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রফেসর ড. আরাফাত রহমান রানাকে চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে।
আমরা পুনরায় স্পষ্ট করে জানাতে চাই, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষাঙ্গনে জবাবদিহিতা ও সম্মানজনক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমাদের অবস্থান সুদৃঢ়। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ, স্বচ্ছতা এবং চলমান সংকটের ন্যায়সংগত সমাধান প্রত্যাশা করছি।
চুয়েটের স্বার্থ সবার আগে।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সম্মিলিত অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির আবেদন ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন