ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খাবার পৌঁছে দেওয়ার ফাঁকে কবিতা লিখতেন, ডেলিভারি রাইডার জিতলেন সাহিত্য পুরস্কার


খাবার পৌঁছে দেওয়ার ফাঁকে কবিতা লিখতেন, ডেলিভারি রাইডার জিতলেন সাহিত্য পুরস্কার

খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজের মাঝে কাগজের টুকরোয় কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন ওয়াং জিবিং। তার এই লেখালেখিই তাকে চীনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য সম্মাননা এনে দিয়েছে।

ডেলিভারি রাইডারদের কঠিন ও সংগ্রামময় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা তার কবিতা ‘লো ফ্লাইট’ সম্প্রতি লু শুন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছে। আধুনিক চীনা সাহিত্যের জনক ডি লু শুনের নামেই এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী ওয়াং ২০১৯ সালে খাবার সরবরাহকারী রাইডার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তার কবিতা এবং প্রবন্ধগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তিনি একজন পরিচিত লেখক হয়ে ওঠেন।

ওয়াং জিবিং এই ক্রমবর্ধমান শ্রমজীবী লেখকদের একজন, যারা তাদের সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে স্বীকৃতি অর্জন করছেন। তাদের লেখায় চীনের বিশাল ‘গিগ ইকোনমি’তে কাজ করা মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম, চাপ ও বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াংয়ের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারটি দীর্ঘ কয়েক দশক বিভিন্ন খণ্ডকালীন এবং কঠোর পরিশ্রমের কাজ করার পর এসেছে।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

১৫ জুলাই পুরস্কারজয়ের খবর প্রকাশ পেলে তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি খুবই উদ্বিগ্ন ও নার্ভাস ছিলাম। খবরটি প্রকাশের পর যেন স্বস্তি ফিরে এসেছে।’ তিনি আরো জানান, গণমাধ্যমের অতিরিক্ত আগ্রহ তাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি চাপের মধ্যে ফেলেছিল।

লু শুন সাহিত্য পুরস্কারের সঙ্গে কত অর্থ দেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে বর্তমানে কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ১ লাখ চীনা ইউয়ান (প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার)। চীনের জিয়াংসু প্রদেশে জন্ম নেওয়া ওয়াং জিবিং পারিবারিক আর্থিক সমস্যার কারণে কিশোর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করার আগে তিনি নির্মাণশ্রমিক, আবর্জনা সংগ্রহকারী এবং রাস্তার দোকানে পণ্য বিক্রেতাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে লেখালেখির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্যেও বই পড়ার প্রতি ওয়াং জিবিংয়ের আগ্রহ কখনো কমেনি। গত এক দশক ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশ করে আসছেন।

২০২২ সালে তার ‘ম্যান ইন এ হারি’ শিরোনামের একটি কবিতা অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কবিতাটি ২০১৯ সালের একটি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়, যখন এক গ্রাহক ভুল ঠিকানা দেওয়ার ফলে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি ‘ম্যান ইন এ হারি : পোয়েমস অব এ ফুড ডেলিভারি রাইডার’ নামে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেও ওয়াং জানিয়েছেন, চাকরি ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চান। গ্লোবাল টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এখন জীবিকা নির্বাহের জন্য এই চাকরির ওপর আমার নির্ভর করতে হয় না। তবে আমি এই কাজটি চালিয়ে যেতে চাই, কারণ এর পরিবেশ আমার ভালো লাগে এবং এটি আমাকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখে। আমি সাধারণ জীবনযাপন করতে চাই। এই পুরস্কার আমার পরিচয় বা জীবনদর্শন বদলে দিতে পারবে না।’

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘লো ফ্লাইট’ হলো ডেলিভারি রাইডারদের জীবন ও অভিজ্ঞতার ওপর লেখা কবিতার একটি সংকলন। বইটি রচনার জন্য ওয়াং জিবিং প্রায় ২০০ জন ডেলিভারি রাইডারের সাক্ষাৎকার ও মতামত সংগ্রহ করেছেন। সংকলনের একটি উল্লেখযোগ্য পঙ্ক্তি হলো, ‘কে বলে ডানা মেললেই আকাশে উঁচুতে ওড়া? নিচুতে ওড়াও তো এক ধরনের ওড়া।’ এই লাইনটি সাধারণ মানুষের সংগ্রাম এবং মর্যাদাকে তুলে ধরে।

ওয়াংয়ের এই সাফল্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন চীনে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং জীবনসংগ্রাম তুলে ধরছেন এবং সাহিত্য অঙ্গনে স্বীকৃতি অর্জন করছেন। প্রাক্তন কুরিয়ার হু আনিয়ানের ২০২৩ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘আই ডেলিভার পার্সেলস ইন বেইজিং’ চীনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কেড়ে নেয়। বইটির ইংরেজি অনুবাদ গত বছর প্রকাশিত হয়।

এ ছাড়া ‘আই অ্যাম ফ্যান ইউসু’ নামে একজন অভিবাসী শ্রমিকের আত্মজীবনীমূলক প্রবন্ধ ২০১৭ সালে চীনের ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা ওই লেখাটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছিল যে, গণমাধ্যমের অতিরিক্ত আগ্রহ ও চাপের কারণে লেখক ফ্যান ইউসুকে কিছু সময়ের জন্য তার বাড়ি ছেড়ে থাকতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

ওয়াং জিবিং যে লু শুন সাহিত্য পুরস্কারটি পেয়েছেন, সেটির নামকরণ করা হয়েছে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী চীনা লেখক লু শুনের নামে। তিনি ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও উপন্যাসের মাধ্যমে চীনের তৎকালীন সমাজব্যবস্থার সমালোচনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। চীনা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব লু শুন আজও ব্যাপকভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার লেখাগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যেও নতুনভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কয়েক বছর আগে তার একটি উপন্যাসের চরিত্র ‘কং ইজি’ চাকরি খুঁজতে হিমশিম খাওয়া চীনা তরুণদের হতাশা ও মোহভঙ্গের প্রতীক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি জনপ্রিয় ‘মিম’-এ পরিণত হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাতকে চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


ছাতকে চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

 

সুনামগঞ্জের ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি মোটর এবং একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাতক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— গণেশপুর ছড়ারপাড় এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হক (২২), মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে জুবের মিয়া (২৩), মৃত দুদু মিয়ার ছেলে আবু বক্কর (২২) এবং ছাতক উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের মৃত আমির মিয়ার ছেলে রমজান মিয়া (৪০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুলাই রাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস পূর্বপাড়া গ্রামের কাটাগাং নদীর তীরে অবস্থিত বশির কোম্পানির বালুর স্টক থেকে ছয়টি মোটর চুরি হয়।

এরপর শনিবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চোরাই মোটরগুলো বিক্রির উদ্দেশে ছাতকের রেলওয়ে কলোনি এলাকার সুরমা নদীর তীরে নিয়ে আসে চোরচক্র।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাতক নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রেলওয়ে কলোনি এলাকায় রমজান আলীর ভাঙারির দোকান থেকে ছয়টি মোটর এবং একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সুরমা ও পিয়াইন নদীর দুই তীরের বিভিন্ন ক্রাশারমিল ও বালুর স্টক থেকে মোটর, কনভেয়ার বেল্ট, ট্রান্সফরমারসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি করে আসছিল।

তাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ছাতক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর

জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

এ সময় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হলে তরুণদের জামায়াতের রাজনীতি ও তাদের কথিত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। নুরুল হক নুর তুলে ধরেন, দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াতের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতের কথিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। তিনি জানান, বর্তমানে জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেও ভিতরে ইতিবাচক আলোচনা করছে।

এতে নুর বলেন, বাইরে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করা হচ্ছে, যার ফলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অতীত অধ্যায়। দলটির কোনো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নেই দাবি করে সরকারের প্রতি দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানান তিনি।

নুরুল হক নুরের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ব্যবহার করে জামায়াতপন্থীদের পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত ও বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নুর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যেন জামায়াতই দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করা হয়েছে। অনেক আসনে বাস্তবতার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারের কোনো মিল ছিল না। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু তরুণ রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার আগেই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জামায়াতকে যারা সমর্থন করে, তারা জামায়াতেই আছে। কিন্তু নতুন করে যদি আরেকটি প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বিদেশি শক্তির প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। তার অভিযোগ, জামায়াতকে সামনে রেখে দেশে উগ্রবাদের উত্থানের একটি বয়ান তৈরি করে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

তিনি বলেন, জামায়াতের উত্থান হলে আগামী দিনে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই এখনই সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে নুর বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে সফল হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে ব্যর্থ করার যেকোনো অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দেশের জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাঙা আঙুলে ১১ সেভ করে ফাইনালে ট্র্যাজিক হিরো মার্তিনেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


ভাঙা আঙুলে ১১ সেভ করে ফাইনালে ট্র্যাজিক হিরো মার্তিনেজ

 

লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ মিশন সফল হলো না। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পাওয়ার সম্মান অর্জন করেছে স্পেন।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে। স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতে দেখা যায় লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, পাও কুবার্সিসহ স্প্যানিশ ফুটবলারদের মধ্যে উল্লাস। অন্যদিকে হতাশা ও দুঃখে ডুব দেন লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দে পল এবং আর্জেন্টিনার অন্যান্য সতীর্থরা।

তবে, এই ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র যিনি, তিনি হলেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। ভাঙা আঙুল নিয়েই তিনি পুরো টুর্নামেন্টের এই কঠিন লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের আক্রমণের বিরুদ্ধে তিনি যেন একজন অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

ম্যাচজুড়ে নিকো উইলিয়ামস, লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, মার্ক কুকুরেয়া ও ফেরান তোরেসদের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন মার্তিনেজ। প্রথমার্ধে ইয়ামাল এবং মিকেল ওইয়ারসাবালের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর, দ্বিতীয়ার্ধেও আলেক্স বায়েনা, ফেরান তোরেস এবং ইয়ামালের একাধিক শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় থামিয়ে দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও রক্ষা করতে সক্ষম হন এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

শেষ পর্যন্ত ১১টি সেভ করার মাধ্যমে পুরুষদের বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ সেভের নতুন রেকর্ড গড়েন ৩৩ বছর বয়সী মার্তিনেজ। এর আগে ফাইনালে সর্বোচ্চ ৯টি সেভের রেকর্ড ছিল। কিন্তু ইতিহাস গড়া এই অসাধারণ পারফরম্যান্সও আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি।

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শট ঠেকাতে পারেননি মার্তিনেজ। সেই একমাত্র গোলেই স্পেন নিশ্চিত করে বিশ্বকাপ শিরোপা।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অসাধারণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর অন্যতম নায়ক ছিলেন মার্তিনেজ। এবারও চোট থাকা সত্ত্বে মাঠে নেমে তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও দলকে জয় এনে দিতে না পারায়, ইতিহাস গড়া সত্ত্বেও ট্রফির বাইরে থাকতে হলো এই তারকা গোলরক্ষককে।

 

রেকর্ড গড়া ১১ সেভ, অদম্য লড়াই এবং অসাধারণ দৃঢ়তার পরও শিরোপা স্পর্শ করতে না পারায়, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো হয়েই মাঠ ছাড়লেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেইমারকে বিশ্বকাপ ট্রফি উৎসর্গ করলেন স্পেনের স্ট্রাইকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


নেইমারকে বিশ্বকাপ ট্রফি উৎসর্গ করলেন স্পেনের স্ট্রাইকার

নেইমারকে বিশ্বকাপ ট্রফি উৎসর্গ করেছেন নিকো উইলিয়ামস। ছবিটি তোলা হয়েছে রয়টার্সের দ্বারা।

ক্যারিয়ারের আজীবন স্বপ্ন হিসাবে নেইমার বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলেন। সে ৪ বার খেলার সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু নিজস্ব স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা। প্রতিবারই তাকে চোখের জল ফেলে স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে হয়েছে।

২০৩০ বিশ্বকাপে নেইমার খেলবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। যদি শেষ পর্যন্ত শতবর্ষী বিশ্বকাপে তিনি না খেলতে পারেন, তাহলে সোনালি ট্রফিটি ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের কাছে এক অপূর্ণতা হয়ে থাকবে। যদিও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও নেইমারকে সেই ‘স্বাদ’ দিচ্ছেন নিকো উইলিয়ামস।

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন বিশ্বকাপ জিতে সোনালি ট্রফিটি নেইমারকে উৎসর্গ করেছে উইলিয়ামস। এটি যেন নেইমারের জন্য ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো’ হয়ে রইল।

নেইমারকে আদর্শ হিসেবে মানেন উইলিয়ামস। সেই দিক দিয়ে তিনি তাঁর প্রিয় খেলোয়াড়ের প্রতি অর্ঘ্য প্রদান করেছেন স্পেনের স্ট্রাইকার হিসেবে। ফাইনাল শেষে মেটলাইফ মাঠে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘আমি খুবই খুশি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। নেইমার আমার আইডল। আশা করি, তিনি আমাদের খেলা দেখেছেন। এই শিরোপা তার জন্যও।’

ট্রফি জয়ের মুহূর্তটি আরো স্মরণীয় করে তোলার সুযোগ পেয়েছিলেন উইলিয়ামস। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে তিনি পরিস্থিতিটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়কে মিকেল মেরিনো ফাউল করায় গোলটি বাতিল হয়। তবে জয়ী ম্যাচে তিনি অবদান রেখেছেন ঠিকই। তার অ্যাসিস্ট থেকেই জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। বাতিল হওয়া গোল নিয়ে উইলিয়ামস বলেছেন, ‘গোল বাতিল হওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। আমরা তো জিতেছি!’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%