ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী


ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে দেশ গঠন করতে চাইলে কোনো বাধাই তা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আগামী তিন মাস ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, নিজেকে সুস্থ রাখি, সমাজকে সুস্থ রাখি। প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতার জন্য সময় দিলে অবশ্যই পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে পরিবর্তন সম্ভব। এবার রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করি।
 

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে করমর্দন করেন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য

উল্লেখ্য, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএনসিসিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করবেন ১৫০০ স্বেচ্ছাসেবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


ডিএনসিসিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করবেন ১৫০০ স্বেচ্ছাসেবক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে ১৫০০ স্বেচ্ছাসেবক ২৪টি দলে কাজ করবেন। তারা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, সোর্স রিডাকশন এবং জন সচেতনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আগামীকাল জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সকাল নয়টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

এছাড়া, জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি স্টল স্থাপন করা হবে। এই স্টলে নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এর করণীয় বিষয়ক বিভিন্ন উপকরণ প্রদর্শন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর ভার্চ্যুয়াল শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। 
উদ্বোধনী কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মানবেন্দ্র মজুমদার, সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়াসিম আকরাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোহিনূর জাহান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার স্কাউট দলের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। 
অভিযানকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। 
 
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে বালিয়াকান্দিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও জোরদার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
 
পরে উপজেলা অডিটরিয়ামের পাশে পরিচ্ছনতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে সিপিএলে অভিষেক রাঙালেন মিরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে সিপিএলে অভিষেক রাঙালেন মিরাজ

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। সেই সঙ্গে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

ঘরের মাঠ প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে লো স্কোরিং ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক গায়ানা। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নাইট রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রান তোলে। ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ।

পরে লক্ষ্য তাড়ায় ১৮.৪ ওভারে গন্তব্যে পৌঁছে যায় ইমরান তাহিরের নেতৃত্বাধীন গায়ানা। এর আগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো শুরু পেয়েছিল। ৪.৩ ওভারে ৪১ রান তোলার পর তাদের প্রথম আঘাতটা দেন মিরাজ।

১৬ বলে ২৬ রান করা কলিন মুনরোকে বোল্ড করে দেন বাংলাদেশি তারকা। ২২ রান করা অ্যালেক্স হেলসকে থামান আগের ম্যাচে সর্বোচ্চ বয়সে (৪৭) ফাইফারের বিশ্বরেকর্ড গড়া ইমরান তাহির। জাস্টিন গ্রিভস মাঝে ৩৭ বলে ৩৫ রান করেন।

এ ছাড়া ত্রিনবাগোর আর কোনো ব্যাটারই দলের হাল ধরতে পারেননি। নিকোলাস পুরানকে প্রথম বলেই বোল্ড করার পর জিড গুলি ও সুনীল নারিনকেও আউট করেছেন মিরাজ। ত্রিনবাগোকে ১২৬ রানে থামিয়ে দেওয়ার পথে টাইগার স্পিনার ৪টি এবং শামার জোসেফ ২ উইকেট শিকার করেন।

পরে লক্ষ্য তাড়ায় গায়ানা দুই ওপেনার মাভেন্দ্র দিনদিয়াল ও গ্লেন ফিলিপসকে হারায় ৩৬ রানের মাথায়। এরপর শিমরন হেটমায়ার (৩৫ বলে ৪২) ও শাই হোপ (১৯ বলে ২৮) দলকে জয়ের পথে টেনে নিয়ে যান। শেষদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুই করতে পারেননি মিরাজ। ১৪ বল খেলে করেছেন স্রেফ ২ রান। তবে জয় পেতে অসুবিধা হয়নি গায়ানার।

আগে থেকেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটির ৯ ম্যাচে পয়েন্ট ১৬। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩ পয়েন্টে পিছিয়ে দুই নম্বরে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারে ৯ বছরের শিশুর রহস্যজনক: মৃত্যু আত্মহত্যা নিয়ে প্রশ্ন, মায়ের নতুন বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্য-মামলা নেয়নি পুলিশ, পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


সাভারে ৯ বছরের শিশুর রহস্যজনক: মৃত্যু আত্মহত্যা নিয়ে প্রশ্ন, মায়ের নতুন বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্য-মামলা নেয়নি পুলিশ, পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা

ঢাকার সাভারে ৯ বছরের শিশু মিফতাহুল জান্নাত ওরফে শালমী মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির বাবা রিপন মন্ডলের অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিনি সাভার মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন এবং দুই ব্যক্তিকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে-মাত্র ৯ বছর বয়সী একটি শিশু কীভাবে আত্মহত্যা করল, আর মৃত্যুর পর তার মায়ের ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তাধীন। শিশুটির মৃত্যুকে হত্যা নাকি আত্মহত্যা হিসেবে গণ্য করা হবে, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

৯ বছরের শালমীর মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন:
মিফতাহুল জান্নাত ওরফে শালমী মন্ডল (৯) আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকার মর্নিং গ্লোরী স্কুলের বাংলা ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়। তার মা মৌসুমী আক্তার কর্মস্থল ঢাকার আজিমপুর সিভিল সার্জন অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন এবং শালমী আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকায় অবস্থিত স্কুলে যায়। স্কুল শেষে অন্যান্য দিনের মতো শিশুটি তার মায়ের বর্তমান বাসায় ফিরে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটির বাবার কাছে আসে তার মৃত্যুর সংবাদ। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইনচার্জ মার্গারেট দুলি ফোন করে শিশুটির বাবা রিপন মন্ডলকে জানান, তার মেয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে মারা গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাবা।

মরদেহ দেখে বাবার সন্দেহ: রিপন মন্ডলের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিশুটির গায়ে স্কুল ড্রেস ছিল। তবে নিচের অংশে পাজামা ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। মেয়ের শারীরিক অবস্থা এবং ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তা তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয় বলে দাবি করেন রিপন। তার সন্দেহ, তার মেয়েকে কোনো কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করা হতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।

‘৯ বছরের শিশু কীভাবে আত্মহত্যা করে?’
শিশুটির বাবার অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও এখন সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো-মাত্র ৯ বছরের একটি শিশু কেন এবং কীভাবে আত্মহত্যা করবে? তবে বয়স কম হওয়া আত্মহত্যাকে অসম্ভব করে না; আবার শুধু বয়সের ভিত্তিতে এটিকে আত্মহত্যা বা হত্যা-কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। শিশুটি কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, তার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, মৃত্যুর আগে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং ঘটনাস্থলে কী ধরনের আলামত পাওয়া গেছে-এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাই দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে না দেখে গভীরভাবে তদন্ত করা হোক।

মায়ের নতুন সম্পর্ক ও বিয়ে ঘিরে প্রশ্ন: অভিযোগপত্রে শিশুটির বাবা তার সাবেক স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরবর্তী বিবাহ নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। রিপন মন্ডলের দাবি, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে মৌসুমী আক্তার তাকে তালাক দেন। এরপর তার সঙ্গে ডা. আশরাফুল ইসলাম আরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে মৌসুমী আক্তার ও ডা. আশরাফুল ইসলাম আরিফ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে এই সম্পর্ক বা পরবর্তী বিয়ের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না-এমন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে শিশুটির বাবা যেহেতু তার অভিযোগে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তাই তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের পারিবারিক পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী পক্ষ।

‘মৃত্যুর পরও কেন এই প্রশ্ন?’
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক স্ত্রী পরবর্তীতে অন্য একজন চিকিৎসকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ কারণে সামাজিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে-শিশুটির সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক কেমন ছিল, মৃত্যুর আগে শিশুটির পারিবারিক পরিবেশ কেমন ছিল এবং ওইদিন বাসায় ঠিক কী ঘটেছিল? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান বা সামাজিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

থানায় এজাহার, এখনো মামলা হয়নি-অভিযোগ: শিশুটির বাবা রিপন মন্ডল সাভার মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে লিখিত এজাহার দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, এত গুরুতর একটি ঘটনার পরও পুলিশ এখনো মামলা গ্রহণ করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মেডিকেল থেকে আসার পর সেটি পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এই বক্তব্যের ফলে এখন সবার নজর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ শালমী মন্ডলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও আলামত যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। শিশুটির মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে-তা নির্ধারণে ময়নাতদন্তের তথ্য তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে শুধু পোস্টমর্টেম রিপোর্টই নয়, ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, শিশুটির স্কুলে উপস্থিতি ও ছুটির তথ্য, বাসায় ফেরার সময় এবং মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সেখানে ছিলেন-সবকিছু একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্তে সামনে আসতে পারে আরও তথ্য: ঘটনাটি তদন্ত করতে হলে ১৮ আগস্ট সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিশুটির গতিবিধির একটি পূর্ণাঙ্গ টাইমলাইন তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে কখন স্কুলে পৌঁছায়, কখন স্কুল ছুটি হয়, কার সঙ্গে স্কুল থেকে বের হয়, কখন বাসায় ফিরে আসে এবং বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে কারা ছিলেন- এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজ পরীক্ষা করা যেতে পারে। মৃত্যুর আগে শিশুটির সঙ্গে কারও ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, কোনো মেসেজ বা ডিজিটাল যোগাযোগ ছিল কি না-প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থার নজরে ঘটনাটি: শিশুটির পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনাটিকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের পর বিষয়টি একটি মানবাধিকার সংগঠনের নজরেও এসেছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার সংবাদ ও সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রনি শিকদার জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, “ন্যায়বিচারের জন্য যতটুকু করার প্রয়োজন, ততটুকু করব আমরা। আমরা তদন্তে আছি।” রনি শিকদারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত সহযোগিতার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।

হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা: মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছে। জনস্বার্থে বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা। তবে আদালতে যাওয়ার বিষয়টি এখনো একটি সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

‘শিশুটির মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই’
শিশুটির পরিবারের দাবি, তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আগেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। তারা চান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।
যদি তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তাহলে শিশুটি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল এবং তার পেছনে কোনো প্ররোচনা, নির্যাতন বা পারিবারিক কারণ ছিল কি না-সেটিও তদন্তে উঠে আসুক। পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যেন কোনোভাবেই আড়ালে না থাকে। তদন্তের স্বার্থে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি শালমী মন্ডলের মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে রয়েছে-

১. ৯ বছরের শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী?
২. মৃত্যুর আগে সে কার সঙ্গে ছিল?
৩. স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল?
৪. মৃত্যুর সময় বাসায় কারা উপস্থিত ছিলেন?
৫. শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না?
৬. ঘটনাস্থল থেকে কী কী আলামত উদ্ধার করা হয়েছে?
৭. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে কি না?
৮. স্কুল থেকে শিশুটির ফেরার সময় ও পথের কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না?
৯. শিশুটির মৃত্যুর আগে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না?
১০. ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ কী উল্লেখ করা হয়?
১১. অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র তদন্তে পাওয়া যায় কি না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।

অভিযোগ বনাম প্রমাণ-তদন্তই নির্ধারণ করবে সত্য: শিশুটির বাবা যে অভিযোগ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে গুরুতর। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। বিশেষ করে শিশুটির মায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিবাহ এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে শিশুটির মৃত্যু আত্মহত্যা-এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দেওয়া উচিত নয়। কারণ একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য নির্ধারণের জন্য আবেগ নয়, প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। এখন নজর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের দিকে সাভারে ৯ বছরের স্কুলছাত্রী শালমী মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এখন পরিবারের দাবি, পুলিশের বক্তব্য এবং মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগ-তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।

পরিবার চাইছে ন্যায়বিচার।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মানবাধিকার সংগঠন বলছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পর তদন্ত কোন দিকে যায়, পুলিশ মামলা গ্রহণ করে কি না এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা আলামত বেরিয়ে আসে কি না-সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে নিহত শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা। একটি ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু যেন কোনোভাবেই অমীমাংসিত না থাকে-এটাই পরিবারের প্রধান দাবি।

এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত হত্যা, সম্পর্ক, বিবাহ ও অন্যান্য অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর বক্তব্য ও থানায় দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো কোনোভাবেই প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। এই সংবাদ ধারাবাহিক চলব........

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%