বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ২৮৯ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার অভিযান দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত থাকলেও ৮২৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ এখনও সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মৃতের সংখ্যা ২৮৯ জনে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই হিসাব পাওয়া গেছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮২৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে—১০৮টি। এছাড়া নওয়ালপরাসি ইস্টে ৬২, ধাদিংয়ে ২৭, গোরখায় ২০, রাসুয়ায় ১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫, নুয়াকোটে ১২ এবং তানাহুনে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বন্যার সূত্রপাত ঘটে হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের পর। এর ফলে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও পাথর নেমে এসে সীমান্তবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে হিমবাহ-সম্পর্কিত ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আরও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রহনপুর পৌরসভাকে একটি জঞ্জালমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে সরাসরি মাঠে নেমেছেন নবনিযুক্ত পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পৌরসভার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এই কর্মঠ কর্মকর্তা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে পৌর এলাকার সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম গতিশীল করতে তিনি নিজেই সরেজমিনে উপস্থিত হন। কড়া রোদ ও ধূলাবালি উপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড, মোড় ও অলিগলির দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ সরাসরি তদারকি করেন তিনি।
অভিযান চলাকালে পৌর প্রশাসক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকিকালে ইউএনও জিল্লুর রহমান বলেন, "নাগরিকদের সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। রহনপুর পৌরসভাকে একটি জঞ্জালমুক্ত, সুপরিকল্পিত ও আধুনিক পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, আমরা তা-ই করব। এই উদ্যোগ কেবল এক দিনের নয়, এটি নিয়মিত অভিযান হিসেবে অব্যাহত থাকবে।"
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এ সময় পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব পেয়েই রহনপুর পৌরসভার খোলস বদলে দেওয়ার এমন ব্যতিক্রমী, আন্তরিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপে চরম সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ। এলাকাবাসীর মতে, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন সরাসরি মাঠে নেমে কাজ করার মানসিকতা রহনপুর পৌরসভার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথকে বহুদূর এগিয়ে নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি নিয়োগ পেয়েছেন। এই নিয়োগের ফলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছেছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তার এই নিয়োগ শপথের দিন থেকে কার্যকর হবে।
বিচারপতি হাবিবুল গনি হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছিলেন।
বর্তমানে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগে বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি দায়িত্ব পালন করবেন।
বিচারপতি হাবিবুল গনি ২০১১ সালে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার পর তিনি আপিল বিভাগে উন্নীত হলেন।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিপুল সংখ্যক আপিল বিচারাধীন অবস্থায় তার এই নিয়োগ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আপিল বিভাগের বিচারকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি দ্রুত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিভারপুল প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) সঙ্গে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে পৌঁছেছে ফরাসি উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে ভেড়ানোর জন্য। বৃহস্পতিবার রাতে দুই ক্লাবের মধ্যে চুক্তির কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হওয়ার খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান, যা দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে এসেছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লিভারপুল বারকোলার জন্য প্রথমে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের কিছু বেশি পরিশোধ করবে। এরপর ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্যের ওপর নির্ভর করে আরও প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড যোগ হতে পারে। তবে চুক্তির পুরো কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
লিভারপুল গ্রীষ্মজুড়ে বারকোলাকে তাদের প্রধান ট্রান্সফার টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করেছে। শুরুতে ২৩ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের জন্য পিএসজি প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড দাবি করায় আলোচনা জটিল হয়ে পড়ে। তবে ফরাসি ক্লাবটি তাদের মূল্যায়ন কমিয়ে আনার ফলে সমঝোতার পথ তৈরি হয়।
বারকোলা বর্তমানে পিএসজির সঙ্গে চুক্তির শেষ দুই বছরে রয়েছেন। তিনি ক্লাবকে জানিয়েছেন যে নতুন চুক্তিতে সই করবেন না। নতুন মৌসুমে পিএসজির ম্যাচডে স্কোয়াডেও তিনি জায়গা পাননি।
২০২৩ সালে লিঁও থেকে ৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে বারকোলাকে দলে নিয়েছিল পিএসজি। লুইস এনরিকের অধীনে ক্লাবটির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে গত মৌসুমে বড় ম্যাচগুলোতে দেজিরে দুএ, উসমান দেম্বেলে ও খভিচা কাভারাসখেলিয়াকে বেশি পছন্দ করায় মূল একাদশে নিজের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন বারকোলা।
লিভারপুলের হয়ে বারকোলা চুক্তিটি সম্পন্ন হলে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামের খেলোয়াড় হতে পারেন। এর আগে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে আলেকজান্ডার ইসাককে দলে এনে রেকর্ড গড়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।
বারকোলাকে দলে পেলেও মোহাম্মদ সালাহর জায়গায় ডান প্রান্তের বিকল্প খুঁজছে লিভারপুল। ইয়ানকুবা মিনতেহকে পেতে ব্রাইটনের কাছে দেওয়া দুটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ক্রিস্টাল প্যালেসের ইসমাইলা সার নিয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে তারা, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি।
লিভারপুল যদি শেষ পর্যন্ত আরও দুই উইঙ্গারকে দলে নেয়, তাহলে কোডি গাকপোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। নেদারল্যান্ডসের এই ফরোয়ার্ডকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে টটেনহাম ও ম্যানচেস্টার সিটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলম্বো টেস্টের শেষ দিনে রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটার সোনাল দিনুশা ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। তার অপরাজিত সেঞ্চুরির ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই পাল্টে গেছে।
ভারতের প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৫০৩ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা মাত্র ২৯০ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে। এই অবস্থায় ভারতের সামনে ম্যাচটি সহজেই জিতে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৯ রান। তখন তাদের লিড ছিল মাত্র ১৬ রান। ফলে পঞ্চম দিনের শুরুতে ভারত দ্রুত স্বাগতিকদের অলআউট করে সহজ লক্ষ্য পাওয়ার আশা করেছিল।
কিন্তু দিনুশা সেই সমীকরণ পরিবর্তন করে দেন। তিনি ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং করে কেশারা নুয়ান্থার সঙ্গে ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ১৫০ বলে ৪৬ রান করে নুয়ান্থা আউট হওয়ার পর প্রবাথ জয়সুরিয়া মাত্র ২ রান করে ফিরে গেলেও দিনুশা নিজের লড়াই চালিয়ে যান।
এরপর তিনি লাহিরু কুমারাকে সঙ্গে নিয়ে দলকে বড় লিডের দিকে এগিয়ে নেন। পঞ্চম দিনের খেলায় তিনি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন। এই শতকের মাধ্যমে চলতি সিরিজের দুই ম্যাচের চার ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩৮৭ রান। অর্থাৎ ভারতকে ইতোমধ্যে ১৭৪ রানের লিড দিয়েছে স্বাগতিকরা। দিনুশা ১০০ রানে অপরাজিত রয়েছেন, অন্য প্রান্তে লাহিরু কুমারা অপরাজিত ২ রানে।
দুই ম্যাচের চার ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করার কীর্তি এর আগে মাত্র দুই শ্রীলঙ্কান ব্যাটারের ছিল। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করলেন দিনুশা।
ফলে পঞ্চম দিনের শেষ ভাগে এসে কলম্বো টেস্টের সমীকরণ নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। ভারত যেখানে দ্রুত জয় নিশ্চিত করার অপেক্ষায় ছিল, সেখানে দিনুশার প্রতিরোধে এখন লঙ্কানদের লিড আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ