মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
০৮:৪০ পি.এম
গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে শেরপুর জেলার সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে তিন সন্তানের জননী রুফিয়া বেগম (৩৫) কে ভাসুরের ছেলে (ভাতিজা) নেশাগ্রস্ত যুবক আরিফ হোসেন নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে।
রুফিয়া বেগম তার বাড়ির উঠানে তার কোলে থাকা ছোট শিশু চার মাস বয়সের আব্দুল্লাহকে চেয়ারে বসে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। আব্দুল্লাহর চাচা আরিফ হোসেন মাদকাসক্ত ছিল। সে কারণে পারিবারিক তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে ছোট্ট শিশু আব্দুল্লাহর সামনে তার মাকে গলায় ছুরি চালিয়ে জবাই করে হত্যা করেন চাচা আরিফ হোসেন।
এ ঘটনায় পরে তাকে শেরপুর সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।
এদিকে আব্দুল্লাহ তার মাকে হারিয়ে এবং তার হতদরিদ্র বাবা তাকে নিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছিল। একই সাথে আর্থিক দৈন্যতায়ও ছিলেন আব্দুল্লাহর বাবা রিকশাচালক লাল মিয়া।
এমত অবস্থায় ১৪ অক্টোবর বুধবার শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের গণশুনানিতে আব্দুল্লাহকে নিয়ে আসেন তার বাবা ও চাচি। এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহকে কোলে নিয়ে আদর করেন এবং বেশ কিছুক্ষণ খুনসুটি করেন মাতৃহারা আব্দুল্লাহকে নিয়ে। এ সময় আব্দুল্লাহর ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং কিছু কাপড়-চোপড় কিনে দেন জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, চার মাস বয়সের এই শিশু আব্দুল্লাহ তার মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় নৃশংসভাবে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং মর্মান্তিক। এই অসহায় আব্দুল্লাহর বাবা দরিদ্র রিকশাচালক বিধায় তার ভবিষ্যৎ ভরণ পোষণে আমি সহযোগিতা করে যাব।
এদিকে শিশু আব্দুল্লাহকে জেলা প্রশাসক আর্থিক অনুদান সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে খুশি আব্দুল্লাহর বাবা লাল মিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদক কেনাবেচা, অস্ত্র প্রদর্শন এবং দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে তানজিনা আক্তার তিন্নি, তাসফি, তুষার ও তাকবিরের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে মারধর করে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন আবদুর রহিম (৩৪)।
৪০ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ, মারধরের অভিযোগ
অভিযোগকারী আবদুর রহিম উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আঃ রব সরদার। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিপিইডি কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে আবদুর রহিম দাবি করেন, তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে ৪০ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পাওনা টাকা চাইতে গেলে ওই আত্মীয়কে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাসার সামনে গেলে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আবদুর রহিম। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁর গলা চেপে ধরেন এবং তাঁর পকেটে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে রক্ষা করতে তাঁর ভাই, বড় মামি ও খালা এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।
কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদক কেনাবেচা, সামান্য বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে অস্ত্র প্রদর্শন এবং দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, তানজিনা আক্তার তিন্নি, তাসফি, তুষার ও তাকবিরের বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পলাশপুর ও রসুলপুরসহ আশপাশের এলাকায় তাঁদের চলাচল ও তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চললেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, অভিযুক্তদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং মাদক কারবার বা অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ
আবদুর রহিম জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ কারণে কোতোয়ালী মডেল থানা, বিএমপি, বরিশালের অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
অভিযোগটি থানায় গ্রহণ করা হয়েছে কি না, এ ঘটনায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছে কি না এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
তানজিনা আক্তার তিন্নি, তাসফি, তুষার ও তাকবিরের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা প্রয়োজন। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেনি অভিযুক্তদের অভিভাবকদের কাছেও যোগাযোগ করে সাড়া পাওয়া যায়নি পরবর্তীতে তাদের বক্তব্য পেলে তুলে ধরা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনকালে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও স্থানীয় শীর্ষ নেতা মহসিন উল ইসলাম হাবুলকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ব্যস্ততম সদর রোড এলাকা থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি টিম তাঁকে তুলে নিয়ে যায়।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা অপ্রীতিকর বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তাঁকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, "জাতীয় পার্টির নেতা মহসিন উল ইসলাম হাবুল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে তাঁর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় শীর্ষ স্তরের এই নেতাকে রাজপথ থেকে হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ নওয়াবকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদুল্লাহ খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মোশারফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ নওয়াবকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে সালাহ উদ্দিন আহমেদ নওয়াবকে নারান্দিয়া দাখিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়। গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বোর্ড থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অনুমোদিত কমিটির মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় মাস।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অভিভাবক সদস্য মো. আনিছুর রহমান, সাধারণ শিক্ষক সদস্য মো. আজাহারুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে মাদ্রাসার সুপার বা ভারপ্রাপ্ত সুপার।
প্রজ্ঞাপনে কমিটিকে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন, পরীক্ষার ফলাফল উন্নত করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমেদ নওয়াবের নেতৃত্বে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, পরীক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন এবং একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে নতুন কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল আহমেদকে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়লে গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুলবুল আহমেদকে বালিয়াডাঙ্গি থানা থেকে ক্লোজড করা হয়েছে। এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গি থানায় কর্মরত একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্যটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার কথা জানা গেছে।
তবে ঠিক কী কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি তিনি বালিয়াডাঙ্গি থানায় যোগদান করেছিলেন। ফলে তার প্রত্যাহারের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
এদিকে, অন্য কোনো জেলার অভিযোগের সঙ্গে এ প্রত্যাহারের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
বিঃদ্রঃ প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা অনুমানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।g
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ