শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২৪ এম
ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার চিন্তার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে একটি নতুন গবেষণা।
দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা প্রায় ২৭ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে ৮৪৬ জন জানিয়েছেন যে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করেছেন।
গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে, যারা ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ প্রকাশের সম্ভাবনা ৯৩ শতাংশ বেশি ছিল, তুলনায় যারা ওষুধ ব্যবহার করেননি। একইভাবে, আত্মহত্যার চিন্তা থাকার সম্ভাবনা ১৬৮ শতাংশ বেশি ছিল।
গবেষকরা প্রায় এক দশক ধরে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহারকারীদের তথ্যও পর্যালোচনা করেছেন। এতে দেখা যায়, যারা ওষুধ সেবনের পর পুনরায় ওজন বাড়ানোর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. কিউং-ইয়ং সন এবং তার সহকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যাপ্রবণতার একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে চিকিৎসার পর পুনরায় ওজন বৃদ্ধি পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে।
ওজন পুনরায় বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্য
গবেষকরা জানান, চিকিৎসার মাধ্যমে ওজন কমার পর আবার ওজন বেড়ে যাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তার ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে গবেষণার ফলাফল কেবল একটি সম্পর্ক নির্দেশ করে এবং এটি প্রমাণ করে না যে ওজন কমানোর ওষুধ সরাসরি বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তার কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা চিকিৎসা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধগুলোর সম্ভাব্য মানসিক প্রভাব নিয়ে চলমান গবেষণায় এ ফলাফল নতুন তথ্য প্রদান করেছে।
আগে থেকেই ছিল উদ্বেগ
ওজন কমানোর ওষুধ ও আত্মহত্যার চিন্তার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে পূর্ব থেকেই উদ্বেগ বিদ্যমান ছিল। এ কারণে বিভিন্ন দেশে এসব ওষুধের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন শত শত রোগীর কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়েছে, যেখানে ওজন কমানোর ওষুধ সেবনের সময় আত্মহত্যার চিন্তা, চরম হতাশা বা গভীর নিরাশার অনুভূতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু রোগী জানিয়েছেন, ওষুধ গ্রহণের আগে তাদের কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না, তবে ওষুধ ব্যবহার শুরু করার পর তারা এ ধরনের উপসর্গ অনুভব করতে শুরু করেন।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে নিহতের সংখ্যা ২১ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১০০-এর বেশি বলে জানায় পাকিস্তানের উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর পুলিশ লাইনের ভেতরে এক সন্ত্রাসীকে স্নাইপারের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ লাইনের দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এরপর সন্ত্রাসীরা ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। বিস্ফোরণের ফলে মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
পুলিশের তথ্যমতে, মোট সাতজন সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়। এর মধ্যে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। বাকি একজন পুলিশ লাইনের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের ভেতরে অবস্থান নিয়ে মাঝেমধ্যে গুলি চালাচ্ছিল। কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা তাকে ভবনটির মধ্যে আটকে রেখে অভিযান চালাচ্ছে।
আহতদের দ্রুত কোহাটের সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করার সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।
নিহত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফাহিম, ফরিদ, ইসমাতউল্লাহ, সামিউল্লাহ, আবদুল ওয়াহাব, ইন্সপেক্টর ইশতিয়াক ও এসপি ট্রাফিক আকবর শিনওয়ারি।
নিহত বেসামরিকদের মধ্যে ডা. ইসরাফিল এবং দুই শিশু আবদুল্লাহ ও আসাদ রয়েছেন। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণে এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি প্রেমিক ও সহযোগীকে ব্যবহার করে নিজের স্বামীকে হত্যা করেছেন। পুলিশ জানায়, ওই নারী পরে লাশ গোপন করতে এবং সরিয়ে ফেলতে তাদের সহায়তা করেছেন।
ঘটনার দুই দিন পর, খালের পাশে একটি কাঠের বাক্সের ভেতর থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্ত নারী, তার প্রেমিক এবং প্রেমিকের সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নারীর ১৬ বছর বয়সি ছেলেকেও আটক করা হয়েছে।
লখনৌ দক্ষিণের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) মোহাম্মদ মুস্তাক জানান, অভিযুক্ত নারী সুফিয়া বানুর সঙ্গে নিহত রামকিশোর বাল্মীকির প্রায় চার বছরের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়।
তিনি আরও জানান, সুফিয়ার সঙ্গে ৫২ বছর বয়সি মুন্না ওরফে মুচ্ছড়ের সম্পর্কও ছিল। রামকিশোর যখন এই বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। বিশেষ করে রামকিশোর তার প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর কাছে আবার যাতায়াত শুরু করেন এবং তাকে আর্থিক সহায়তা দিতে থাকেন। এতে সুফিয়া ক্ষুব্ধ হন।
পুলিশের দাবি, এর পর মুন্না এবং তার সহযোগী ৪০ বছর বয়সি মোহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওই নারী। ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের ভোরের মধ্যে সুফিয়া ওই দুই ব্যক্তিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন এবং পূর্ব থেকেই ঘরের দরজা খোলা রাখেন। পরে তারা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত রামকিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।
হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে ঘরের মেঝেতে প্লাস্টার করা হয়। রক্তমাখা ঝাড়ু, রামকিশোরের পোশাক এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও লুকিয়ে রাখা হয়। পরে সুফিয়া তার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে ডেকে আনেন। চারজন মিলে রামকিশোরের লাশ খাটের নিচে রাখা একটি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখেন।
১৫ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের রাতে ই-রিকশায় করে লাশটি কানাখা এলাকার ভাবাখাদা এলাকায় একটি খালের সেতুর নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। ১৭ সেপ্টেম্বর রামকিশোরের প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।
ডিসিপি জানান, ই-রিকশাটির সম্ভাব্য চলাচলের পথে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
পরে সুফিয়া বানু, মুন্না ও মোহাম্মদ ইকবালকে গ্রেফতার করা হয় এবং সুফিয়ার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত ই-রিকশাটিও উদ্ধার করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, "জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন, আজকে আট দফা, মনে রাখবেন এটা নয় দফাও হতে পারে, ১০ দফাও হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যে কোনো সময় এটা এক দফায় পরিণত হতে পারে।"
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন, "যখন এক দফায় পরিণত হবে, তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।" তিনি বলেন, "সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন। যদি দাবি মানতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি- কোনো চোখ রাঙানিতে কাজ হবে না। আমরা কোনো কিছুকে পরোয়া করব না।"
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। মাথা গরমের কিছু লক্ষণ গত দুইদিন ধরে রাজধানীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা অনুরোধ করব হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরঞ্চ জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। তারা ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।"
সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, যিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিজ্ঞানীরা বলিভিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর নতুন একটি প্রজাতির বন্য বিড়ালের সন্ধান পেয়েছেন। এই বিড়ালটিকে ‘ট্লিকায়ো’ নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং এটি গত ১০০ বছরের মধ্যে শনাক্ত হওয়া প্রথম নতুন বন্য বিড়াল প্রজাতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
নতুন প্রজাতির এই প্রাণীটির শরীরে চিতাবাঘের মতো দাগযুক্ত লোম রয়েছে। এটি বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের নিকটবর্তী পার্বত্য ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয়েছে।
গবেষণায় যুক্ত জীববিজ্ঞানী ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার পাওলা নোগালেস-আসকারুনজ জানিয়েছেন, বলিভিয়ান আন্দিজ অঞ্চলের স্থানীয় অনেক মানুষ দীর্ঘকাল ধরে প্রাণীটিকে সাধারণ গৃহপালিত বিড়াল বলে ভুল করতেন।
নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘লিওপার্ডাস ট্লিকায়ো’ রাখা হয়েছে, যা স্থানীয়দের দেওয়া ‘ট্লিকায়ো’ নাম থেকেই উদ্ভূত।
পাওলা নোগালেস-আসকারুনজ এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ১০০ বছরে কোনো নতুন বন্য বিড়াল প্রজাতি শনাক্ত হয়নি। সর্বশেষ ১৯২৩ সালে উরুগুয়ের পাম্পাস ক্যাটকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
আকারে ট্লিকায়ো একটি গৃহপালিত বিড়ালের তুলনায় সামান্য ছোট। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার এবং কান গোলাকার। এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া দুটি ট্লিকায়ো বিড়ালের সম্পূর্ণ জিনোম আধুনিক জেনেটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা তাদের আলাদা প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছে।
শনাক্ত হওয়া দুটি প্রাণীর মধ্যে একটি পুরুষ ট্লিকায়ো বর্তমানে ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলের একটি প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। স্থানীয় একটি পরিবার প্রাণীটিকে কিছুদিন পালন করার পর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে, একটি স্ত্রী ট্লিকায়ো স্থানীয়দের হামলা থেকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে সেটিকে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নতুন এই প্রজাতি নিয়ে গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘কারেন্ট বায়োলজি’-তে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতেই এই আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এখন পর্যন্ত ট্লিকায়োর উপস্থিতি শুধু বলিভিয়াতেই পাওয়া গেছে। বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে এ প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ এখনও মেলেনি।
বর্তমানে প্রাণীটিকে বিরল এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এর সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বিরল বন্য প্রাণী হিসেবে আরও উচ্চ ঝুঁকির সংরক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ