০৭:১৬ পি.এম
নারীর ক্ষমতায়ন, ভূমি ও কৃষিতে প্রবেশাধিকার এবং সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য বলে মনে করেন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। তারা উল্লেখ করেছেন যে, যদিও শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবুও সমাধিকার এবং কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের জন্য নারীদের অনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
রবিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ও বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।
‘ভূমি ও কৃষিতে নারী কৃষকের অধিকার এবং খাদ্য নিরাপত্তা : আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) চেয়ারপারসন খুশী কবির। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের পরিচালক সুরাইয়া বেগম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাজিম উদ্দীন, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রেজিয়া খাতুন এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার অধিকার: প্রধানমন্ত্রী
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির উপনির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি। তিনি বলেন, দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও স্বাস্থ্যকর খাবার সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ পাঁচটি সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। খাদ্যনিরাপত্তা কেবল উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং খাদ্যের দাম, প্রাপ্যতা ও সুষম বণ্টনের ওপরও নির্ভর করে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ কৃষিশ্রমশক্তির প্রায় ৫৮ শতাংশ নারী হলেও কার্যকর ভূমি মালিকানায় তাদের অংশ মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চনা এবং জমির মালিকানা না থাকার কারণে অনেক নারী কৃষিঋণ, প্রশিক্ষণ, কৃষি কার্ড, ভর্তুকি ও সরকারি প্রণোদনা থেকে বাদ পড়ছেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আন্না মিনজ মন্তব্য করেন, পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে রয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতেও নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষিতে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও তাদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। নারীর বিপুল শ্রম এখনো অবৈতনিক থেকে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার এ সকল বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
সভাপতির বক্তব্যে খুশী কবির বলেন, কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে নারীর অবদান উপেক্ষা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা: প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত
তিনি আরও বলেন, নারীর ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে খাসজমি বিতরণ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পরিবর্তন করতে হবে। কৃষকের কাছে উন্নত বীজ ও প্রযুক্তি পৌঁছানোর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে নারী কৃষকদের সরকারি সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা, কৃষি কার্ডে তাদের নাম নিশ্চিত করা, খাসজমি বন্দোবস্তে অগ্রাধিকার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ন্যায্যমূল্য, কৃষিবিমা এবং সমমজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নারীবান্ধব কৃষিপ্রযুক্তি, স্থানীয় বাজারে সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ এবং কৃষি ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী কৃষকের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন