শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৭ পি.এম
ঝিনাইদহ শহরের পুরনো ডিসি কোর্টের সামনে থেকে পুলিশ দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে, পুরনো ডিসি কোর্টের সামনের এলাকা থেকে এই বস্তু দুটি উদ্ধার করা হয়।
আরো পড়ুন
গ্রিসে বিস্ফোরণে ভবন ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৫
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা দুটি বস্তু ককটেল কিনা তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কার্যক্রম শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা। ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেলপথ অবরুদ্ধ থাকার পর রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন, ফলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে এ মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার প্রায় ২ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রেলপথ অবরোধের কারণে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ‘রকেট মেইল’ ট্রেনটি চিলাহাটি স্টেশনে আটকে ছিল। অন্যদিকে খুলনা থেকে আসা ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটিকে ডোমার স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। একাধিক ট্রেনের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘদিন অকার্যকর ও চালু না থাকায় সার্বিক যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসানের নেতৃত্বে রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করেন। এ সময় উত্থাপিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তারা। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের অবরোধ তুলে নেন। এ সময় ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ডোমার থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
অবরোধ প্রত্যাহারের পর দুপুরের দিকে নীলফামারী রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয় এবং বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়া ট্রেনগুলো নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা আগাছা, লতাপাতা ও জঙ্গল পরিষ্কারের জন্য একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে।
সড়কের পরিবেশ সুন্দর রাখার পাশাপাশি পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রায়গঞ্জ পৌরসভার লক্ষ্মীকোলা ব্রিজ এলাকা থেকে ভাতারিয়া সড়কের দু’পাশে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ভিপি আইনুল হক।
উদ্বোধনের পর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সড়কে নেমে আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে অংশগ্রহণ করেন।
এই কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সামছুল ইসলাম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব দুলাল হোসেন খান, রায়গঞ্জ উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি লেলিন খান, সাধারণ সম্পাদক মো. প্যারিস খান, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ বিএনপি, যুবদল ও কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক মন্তব্য করেন, "একটি সড়ক কেবল যানবাহন চলাচলের মাধ্যম নয়, এর চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের পাশে ঝোপঝাড় বেড়ে উঠলে যেমন সৌন্দর্য নষ্ট হয়, তেমনি পথচারী ও চালকদের দৃষ্টিসীমা ব্যাহত হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। জনস্বার্থেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লক্ষ্মীকোলা ব্রিজ থেকে ভাতারিয়া সড়কের দু’পাশে দীর্ঘদিন ধরে আগাছা ও ঝোপঝাড় জমায় হাঁটাচলা ও যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছিল। এই উদ্যোগের ফলে সড়কের পাশের অংশ দৃশ্যমান ও পরিষ্কার হওয়ায় তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে একদিনের কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ না রেখে এটি নিয়মিত বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এলাকাবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণ প্রসান সৌদি আরবে পাঁচ বছর কাজ করার পর জমানো অর্থ নিয়ে নেপালে ফিরে এসেছিলেন। সেই অর্থ দিয়ে তিনি নিজের বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে তার বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিদেশে গিয়ে আবারও কাজ করে তিনি বাড়িটি পুনর্নির্মাণ করেন।
পরিবারের সঙ্গে নতুন করে স্বাভাবিক জীবন শুরু করেছিলেন প্রসান। কিন্তু গত মাসের ভয়াবহ বন্যা তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। বন্যায় তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তার বাড়িটি অবস্থিত হওয়ায় সেখানে পুনরায় বসবাস করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পরিবারকে কোথায় পুনর্বাসন করা হবে, সে বিষয়েও এখনও কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে আবারও বিদেশে গিয়ে কাজ করার চিন্তা করছেন তিনি। প্রসান বলেন, "এই বন্যা সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমি জানি না এখন কী করব।"
নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার এক মাস পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। প্রসানের মতো হাজার হাজার মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ আরো হাজার হাজার মানুষের সন্ধান চলছে। নিখোঁজদের মধ্যে অনেকেই ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর নেপাল সরকারকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রিয়জন হারানোর পাশাপাশি বাড়িঘর ও জীবিকা হারানোর কষ্টও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণে দেশটির সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে এবং নেপালের এই দুর্যোগ পুরো বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
শাহ বলেন, "এই দুর্যোগ শুধু একটি স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমরা কি সত্যিই সেই সতর্কবার্তা শুনেছি?"
তিনি নেপালের পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। শাহ বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন কোনো সীমানা চেনে না। হিমবাহ ও বন্যা স্ট্যাম্প বা পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করে না।"
ডিএনএ পরীক্ষায় বিলম্বিত হচ্ছে মরদেহ হস্তান্তর। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসের পর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৬৪৪ জন। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে মাত্র ১১২টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় আরো ১ হাজার ৩৩২টি মরদেহ সাময়িকভাবে সমাহিত করা হয়েছে।
প্রতিবেশী চীনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। মরদেহ শনাক্ত করতে কাঠমান্ডুর নেপাল পুলিশ হাসপাতালে একটি অস্থায়ী তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এসব নমুনা উদ্ধার করা মরদেহ ও দেহাবশেষ থেকে সংগৃহীত ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পরই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গোপনীয়তার কারণে পরীক্ষাগারের কর্মকর্তারা বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি। তবে তারা জানিয়েছেন, মরদেহ শনাক্তের কাজে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী রবি কুমার থাপা মাগার বন্যায় তার স্ত্রী, ভাই, ভাবি ও মাকে হারিয়েছেন।
তিনি জানান, একটি ছবি দেখে তিনি তাঁর স্ত্রীর মরদেহ শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের কেউ মরদেহ দেখার আগেই সেটি দাফন করে ফেলা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ স্বজনদের দেওয়া হবে না। এই পরীক্ষা শেষ হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে। পরে পরিবারটি একটি প্রতিমূর্তি দিয়ে প্রতীকীভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে। বন্যায় সন্তান হারানো অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি।
৩২ বছর বয়সী পাসং মায়া তামাং বন্যায় তার ছোট ছেলেকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো স্বপ্নে ছেলেকে দেখতে পান। স্বপ্নে ছেলে যেন তাঁকে সাহায্যের জন্য ডাকছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নুয়াকোটের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে তামাং বলেন, "আমার ছেলের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু আমি তাকে শেষবার দেখতে পারিনি। এ জন্য আমার খুব কষ্ট হয়। স্বপ্নে শুনি, সে বলছে—কেন আমি তাকে একা রেখে চলে গেলাম?"
বন্যার সময় তার ছেলে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল। পরে খবর পাওয়ার আগেই স্কুলটি পানিতে ভেসে যায়। তিন দিন পর দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলা থেকে তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পারেননি।
গত ২৬ আগস্ট সকালে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে নেপালে। তখন অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে পৌঁছাচ্ছিল বা স্কুলের পথে ছিল। এতে অনেক শিশুও বন্যার পানিতে ভেসে যায়। নুয়াকোটের বাসিন্দা আস্তা মান ডাঙ্গোল বলেন, পরে কয়েকজন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের কারও কারও গায়ে তখনও স্কুলের লোগোযুক্ত টাই ছিল।
তিনি বলেন, "বড় শিক্ষার্থীরা দৌড়ে উঁচু জায়গায় উঠে যেতে পেরেছিল। কিন্তু ছোট শিশুরা দ্রুত দৌড়াতে পারেনি। তারা পানিতে ভেসে যায়।" এদিকে, বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ আবার চালু করতে কাজ করছেন কর্মীরা।
নেপাল সরকারের হিসাবে, বন্যার পর পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে প্রায় ৪৭৭ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাড়িঘর।
বর্তমানে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও সেতু মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সড়ক প্রকৌশলী ইশমিতা শাহ জানান, বন্যার দ্বিতীয় দিন থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাস্তা চালু করতে নেপালের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছেন তারা। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। তবে আগামী কয়েক দিনে আরও খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় পুনরুদ্ধারের কাজ কঠিন হতে পারে বলে জানান তিনি।
ইশমিতা শাহ বলেন, "আবহাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দিন কঠিন হতে পারে। তবে আমরা এর জন্য প্রস্তুত আছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় অভিনেত্রী বর্ষিণী ভেঙ্কটকে চাঁদাবাজি ও এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি শর্টফিল্মে বিনিয়োগ না করার কারণে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে তার কাছ থেকে নগদ এবং ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার রুপি আদায় করা হয়েছে। পুলিশ বর্ষিণীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থের লেনদেনের প্রমাণও পেয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী বর্ষিণী ভেঙ্কট এবং তার কয়েকজন বন্ধু তরুণ নামের এক ব্যবসায়ীকে তাদের প্রস্তাবিত শর্টফিল্মে অর্থ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী এতে রাজি হননি।
অভিযোগ রয়েছে, ২২ আগস্ট ভোরে তরুণ যখন বাইরে থেকে তার কক্ষে ফিরে আসেন, তখন সেখানে বর্ষিণী, তার বন্ধু সঞ্জয় এবং আরও দুজন আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন। তারা তরুণকে মারধর করেন এবং জোর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার রুপি নগদ নিয়ে নেন।
এরপর সঞ্জয়ের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তরুণ বর্ষিণীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ রুপি এবং সঞ্জয়ের অ্যাকাউন্টে আরও ২ লাখ রুপি পাঠান। এইভাবে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার রুপি দেওয়ার পরও তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তার কাছে আরও ২৭ লাখ রুপি দাবি করা হয়।
ঘটনার পর তরুণ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে গুইন্ডি থানা পুলিশ মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যাংক লেনদেন যাচাই করে পুলিশ। এতে তরুণের অ্যাকাউন্ট থেকে বর্ষিণীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ রুপি স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর মাইলাপুরের বাসিন্দা বর্ষিণী ভেঙ্কটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোনও জব্দ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিনেত্রীকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ