আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি
০২:২২ এম
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের বড় ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সহকারী প্রধান (পানি প্রকৌশল) আহমাদ শামস কাদির স্বাক্ষরিত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির আহ্বায়কের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বরমচাল ইউনিয়নের বাসিন্দা লুৎফুর রহমান রাজু কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে ই-মেইলে অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বড় ছড়া থেকে অবৈধ ও অননুমোদিত ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার দুই তীরের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও সরকারি স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি ছড়া সংলগ্ন সিলেট–ব্রাহ্মণবাজার সড়কসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেতুর স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন জেলা প্রশাসককে অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত পদক্ষেপ কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
চিঠির অনুলিপি সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবং অভিযোগকারী লুৎফুর রহমান রাজুর কাছেও পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের এ নির্দেশনা অভিযোগের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহে আবারও একটি ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এবার জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হওয়ায় ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর নতুন বাজার রেলক্রসিং এলাকায়, যখন ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে প্রবেশ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক জহিরুল ইসলাম নয়ন বলেছেন, স্টেশনে প্রবেশের সময় ট্রেনের পেছনের দিকের ‘খ’ বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এরপর, লাইনচ্যুত বগিসহ আরও একটি বগি ঘটনাস্থলে রেখে ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ থেকে জামালপুর অভিমুখে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁচ্ছেছে এবং লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে রেললাইন সচল করার চেষ্টা করছেন। বগিটি সরিয়ে নেওয়ার পরেই রুটে ট্রেন চলাচল সাভাবিক হবে। এর আগে, একইদিন সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের আগে একটি গ্যাংকারের চাকা লাইনচ্যুত হয়। ওই ঘটনায়ও ময়মনসিংহের সঙ্গে মোহনগঞ্জ ও জারিয়া রুটে ট্রেন চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের পুনরুদ্ধারে সরকার জরুরি সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩২৭ মেট্রিক টন ধানবীজ, ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি গবাদিপশুকে টিকাদান এবং ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বিতরণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভারীবর্ষণ ও বন্যায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতি এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে পাঁচ জেলায় মৎস্য খাতে ২০০ কোটির অধিক টাকা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বন্যায় ব্যাপক বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের পুনর্বাসনে ৩২৭ মেট্রিক টন ধানবীজ প্রয়োজন হবে। সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বীজ মজুত রয়েছে। যেসব কৃষকের জমি বীজ বপনের উপযোগী হয়েছে, তাদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে বীজ সরবরাহ করা হবে। আর যাদের জমি এখনও প্রস্তুত হয়নি, তাদের জন্য সরকারি খালি জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেখান থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর গবাদিপশুর খুরা রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগামীকাল থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যার কারণে খড় ও অন্যান্য পশুখাদ্য নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে এসব গোখাদ্য বিতরণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরো সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোতে তথ্য সংগ্রহ করেছে। যেখানে ক্ষতির পরিমাণ বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি বা খামারি যাতে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে সম্পর্কে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রামের জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে গেছে। বর্তমানে এর পরিমাণ ৩৬ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণমাধ্যমকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই যুগ্ম পরিচালক জানিয়েছেন, ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৬ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী এর পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস হিসাবে জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ (১ দশমিক ৫৪২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৪ জুলাই একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ৫০ লাখ (১১৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রাবণের প্রথম দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যেও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রয়েছে। এদিকে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল পর্যন্ত দেশের ১০ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থা।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে এই সময়ে বান্দরবানে ২৭ মিলিমিটার ছাড়াও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২৪, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ১৭, চট্টগ্রামে ১৩, খুলনায় ১২, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১১, কক্সবাজারে ১০, ভোলায় ৯ মিলিমিটারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বর্ধিত ৫ দিনে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ