ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ইরান: পার্লামেন্ট স্পিকার


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ইরান: পার্লামেন্ট স্পিকার

ইরানকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জুনে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি, এমন দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর মতে, ইরানকে ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধের জন্য সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যেতে হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ উল্লেখ করেন, ইরানের যুদ্ধকৌশলে সামরিক পদক্ষেপ ও আলোচনা একত্রিত করতে হবে। এর মাধ্যমে এমন প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্ব ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো বুঝতে পারে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে না।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের হামলা ঠেকানোর জন্য শুধু আলোচনা ও চুক্তি অথবা কেবল যুদ্ধ চালিয়ে সফল হওয়া সম্ভব নয়। বরং ‘যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা’—এই তিনের সমন্বয়ে এগোতে হবে। সামরিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে আলোচনার টেবিলে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে হবে।

আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু

গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী হয়ে ওঠার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের মনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা দেশটিতে হামলার কথা বিবেচনা না করে।

তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া কাঠামোগত চুক্তির বিষয়ে তেহরান আগে থেকেই ধারণা করেছিল যে ওয়াশিংটন নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নাও করতে পারে। এই কারণে চুক্তিটি দুই ধাপে সাজানো হয়েছিল।

গালিবাফের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথমে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করে ইরান। তিনি চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘পরাজয়ের দলিল’ বলেও উল্লেখ করেন।

গালিবাফের মতে, এই চুক্তি ইরানকে সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সম্পদ দিয়েছে। এতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

গালিবাফ বলেন, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা শুধুমাত্র সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না। দেশটির ভাষায়, ‘প্রতিরোধের ফ্রন্ট’-এর শক্তি, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় ঐক্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং জনসংখ্যাও প্রতিরোধ ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তিনি দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে বর্তমান সংঘাতের সময় পর্যন্ত ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

গালিবাফ বলেন, প্রতিপক্ষের কাছে ইরানে হামলাকে অনাকাঙ্ক্ষিত করে তোলার মতো শক্তি অর্জন না করা পর্যন্ত যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির এই কৌশল চলবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করে ইরানের জনগণের বৈধ দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

চলতি বছরের ১৮ জুন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাঠামোগত চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কয়েক মাসের সংঘাতের পর এ চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করে।

আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়

চুক্তিতে সংঘাত বন্ধের পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দুই দেশের অমীমাংসিত বিরোধ নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়া এবং চুক্তির শর্ত পালন নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন জটিল হয়ে পড়েছে।

ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিলসহ নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে আলোচনার আগে ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে বলে তারা জানিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলপথে সামুদ্রিক উত্তেজনা বেড়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে এবং ইরান তাদের অনুমোদনহীন বলে বিবেচিত নৌপথে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীর ৯ সন্ত্রাসী নিহত

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সংস্কার কার্যক্রম সারা দুনিয়ায় চলমান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। এই আলোচনা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে, যদিও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচি, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্মূলধায়ন, ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কিছু পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে, এবং সরকার এসব বিষয়কে আলোচনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হবে।

আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। কর্মসূচির শর্ত, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। আগামী কয়েক মাসের আলোচনার মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় কত অর্থ পাওয়া যাবে এবং কী কী শর্ত থাকবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার বাস্তবায়ন করা।

আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংক সরকারের সংস্কার কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলেছে কি না—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, এ ধরনের কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। সরকার যেসব সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইএমএফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া লাগেজ উদ্ধার, পাঁচ পেশাদার অপরাধী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া লাগেজ উদ্ধার, পাঁচ পেশাদার অপরাধী আটক

রাজশাহী শহরে বিসিবির কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি হওয়া আটটি ক্রিকেটারদের লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে লাগেজগুলো উদ্ধার করে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মামুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আটককৃত ব্যক্তিরা পেশাদার অপরাধী। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া ও চারঘাট উপজেলায় অবস্থিত। চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের দরজা খুলে মালামাল চুরির অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিসিবির কাভার্ড ভ্যান থেকে ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরি করে তারা।

তবে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেননি। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী সুমন জানান, লাগেজ উদ্ধারের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তারা জেলা ডিবি কার্যালয়ে যান। সেখানে আটক পাঁচজনকে দেখেছেন তারা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ ক্রিকেটারদের লাগেজে থাকা পোশাক পরিধান করেছিলেন। আবার কেউ কেউ লাগেজে পাওয়া দামি সুগন্ধিও ব্যবহার করেছেন।

তিনি আরও জানান, ক্রিকেটারদের লাগেজে থাকা প্রায় সব মালামালই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একজন ক্রিকেটারের লাগেজে থাকা তিন লাখ টাকা এখনও পাওয়া যায়নি। ওই টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে ডিবি পুলিশ তাদের জানিয়েছে।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে আকাশপথে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফেরে বিভাগীয় ক্রিকেট দল। দলের ৫৪টি লাগেজ বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আনা হচ্ছিল।

বুধবার সকালে রাজশাহীর একটি হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় আটটি লাগেজ নিখোঁজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় দলের ক্রিকেটার এসএম মেহেরব হাসান রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে চুরি হওয়া লাগেজ উদ্ধারে অভিযান শুরু করে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীরা পুলিশের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীরা পুলিশের নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন

দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া একাধিক ছাত্রছাত্রী ও বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মারধর, দুর্ব্যবহার ও ভয় দেখানোর কাজ করেছে।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও প্রদর্শন করেছেন। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিবিসি আটক হওয়া শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং তাদের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

নির্যাতনের বর্ণনা

আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্রী এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সদস্য শরণ্যা শর্মাকে ১১ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালীন আটক করা হয়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশকর্মীরা তাকে ধাক্কা মেরে বাসে তুলে দেন।

শরণ্যার দাবি, নারী পুলিশকর্মীরা তার পোশাক টেনে তুলছিলেন এবং পুরুষ কমান্ডোরা তাকে জোর করে বাসে তুলছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘একজন নারী পুলিশকর্মী আমার টি-শার্ট টেনে মাথার ওপরে তুলে দিয়েছিল। আমাকে অপমান করার জন্যই করেছিল।’

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তার চুল টানা হয়েছে এবং বাসে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকছিল না। বাসটিতে চার-পাঁচটি ছোট খোপ ছিল।

শরণ্যা বলেন, ‘যখন আমাকে ঠেলে ঢোকানো হচ্ছিল, আমি পুরোপুরি ভেতরে যেতে পারিনি। আমার পা তখনও বাইরে ছিল। কমান্ডোরা লোহার দরজা বন্ধ করে দেয় আর আমার পা দরজায় আটকে যায়। ভেতরে থাকা চারটে মেয়ে চিৎকার করছিল। তারা বলছিল, ওর পা আটকে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা অনুরোধ করছিল, এক মিনিটের জন্য দরজাটা খুলে দিন। তাহলে ও ভেতরে ঢুকতে পারবে। কিন্তু পরের ৩০ সেকেন্ড ধরে তিনজন পুরুষ ওই দরজা জোর করে ঠেলতে থাকে।’

তার বক্তব্য অনুযায়ী, আনুমানিক বেলা ১১টা নাগাদ তাকে আটক করে নাঙ্গলোইয়ের একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাতে মুক্তি দেওয়া হয়। সেখানে খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধার অভাব ছিল বলে অভিযোগ করেছেন শরণ্যা শর্মা।

আটকের উদ্দেশ্য ছিল ভয় সৃষ্টি করা

এসএফআইয়ের দিল্লি সভাপতি এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ছাত্রী নাদিয়াকে ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় আটক করা হয়।

নাদিয়ার অভিযোগ, পুলিশ তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল এবং বাধা দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, ‘পুরো বাসে আমি ছাড়া অন্য একটা মেয়ে ছিল। এবারের আটকের ঘটনা খুবই কষ্টদায়ক ছিল। জেনেশুনে পুলিশকর্মীরা টেনে টেনে বাসে তুলছিল, চিমটি কাটছিল। পা দিয়ে মারছিল আমাদের, গলা চেপে ধরে বসানো হচ্ছিল।’

নাদিয়া অভিযোগ করেছেন যে, তার গলা টিপে ধরারও চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি মনে করেন, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই এভাবে আটক করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাসে যেতে যেতে পুলিশকর্মীরা আমাদের কাছে জানতে চায় আমরা কোথায় থাকি। আজ আর তোমরা বাড়ি ফিরতে পারবে না বলে ভয় দেখাতে থাকে। আমি ফোন বের করে রেকর্ড করতে গেলে একজন ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারপরের ১৫ মিনিট আমার ওপর নৃশংসতা হয়েছে। অত্যাচার চালানোর মতোই ছিল সেটা। (হাতের আঘাত দেখিয়ে) এগুলো আঘাতের চিহ্ন। এগুলো মূলত টানা হেঁচড়ার সময় হয়েছে। কিন্তু তার পরেরটুকু খুবই খারাপ ছিল (অন্য হাতের কালসিটে পড়া দাগ দেখিয়ে)। মূলত চারজন পুলিশকর্মী আমার ওপর চড়াও হন।’

নাদিয়া অভিযোগ করেন, এদের মধ্যে কেউ তাকে চিমটি কাটছিলেন, কেউ চুল ধরে টানছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। ওরা আমাকে বলছিল, তোমাকে আধমরা অবস্থায় ছাড়ব। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কত মারবে আমাকে? উত্তরে বলেছিল এখান থেকে আধমরা অবস্থায় ফিরবে তুমি।’

নাদিয়া বিক্ষোভে সামিল অন্যান্য নারীদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। তার মতে, ‘কারো কারো শার্ট টেনে মাথার ওপর তুলে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা অসম্মানিত বোধ করেন।’

নাদিয়ার মতে, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই এভাবে আটক করা হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন উঠছে, তা বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই অংশ। তিনি জানান, জবাবদিহি না মেলা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ তারা চালিয়ে যাবেন।

তিন ঘণ্টা বাসে বসিয়ে মারধর

দিল্লিতে পিএইচডি করছেন নোভেল। হাতে ভগৎ সিংয়ের পোস্টার নিয়ে তিনি ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ তাকে আটক করছে এবং তার পোস্টার নিয়ে নিচ্ছে।

নোভেলের দাবি, তাকে একটি কমলা রঙের দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাসে বসিয়ে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা ছিলেন। সে সময় পুলিশ তাকে বারবার চড় মেরেছে বলে অভিযোগ করেছেন।

তার কথায়, ‘চার পাঁচজন মিলে আমাকে তাড়া করেছিল। তারা বলতে থাকে বাসে চলো কিছু হবে না। আমি প্রথমে বাধা দেইনি। আমি বাসের কাছে যেতেই কয়েকজন পুলিশ বলে ওঠে- এই ছেলেটার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে একে ধর, একে ধর। তারপর আমাকে ধাক্কা দিয়ে তোলা হয়। ওই বাসটা কিন্তু পুলিশের প্রিজন ভ্যান ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘এটা পুলিশের বাস ছিল, তাদের যাতায়াতের জন্য ছিল। আমাকে বাসে টেনে তোলা হয়, ধাক্কা দেওয়া হয়। আমি পড়ে যাই, আর পড়ে যেতেই তিন-চারজন পুলিশ মিলে আমাকে ক্রমাগত মারতে থাকে।’

নোভেলের অভিযোগ, তার জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং লাথি মেরে চশমা ভেঙে দেওয়া হয়।

নোভেল জানান, তিনি পুলিশদের অনুরোধ করেন তাকে ছেড়ে দিতে। তাদের জানান যে তিনি পিএইচডি করছেন এবং পাশাপাশি শিক্ষকতাও করছেন। তার বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ, এসব সত্ত্বেও মারধর চলতে থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুট দিয়ে মারধরের অভিযোগ

১১ অক্টোবর কনট প্লেসে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক হওয়া সমাজকর্মী অর্জুনের অভিযোগ, পুলিশ তার বুকে ও গোপনাঙ্গে লাথি মেরেছে এবং একাধিকবার ঘুষি মেরেছে। তার পোশাক ছিঁড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘ভ্যানে তিনজন পুলিশ এবং একজন কমান্ডো ছিল। একজন আমাকে মারধর করল তারপর অন্যজনের কাছে আমাকে ঠেলে দিল। সে আমার যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মারে। তারপর তৃতীয় জনের কাছে আমাকে ঠেলে দেওয়া হয়। সে আমার বুকে লাথি মারে। তারপর চতুর্থজন আমার গলা টিপে ধরে। তারপর আমাকে ওই প্রিজন ভ্যানের খুপরিগুলোর মধ্যে একটাতে পাঠানো হয়। আমি বাধা দেইনি কারণ আমি জানতাম এর পরিণতি কী হবে।’

অর্জুন আরো অভিযোগ করেন, বাসে কয়েকজন নাবালকও ছিল, যাদের মধ্যে কয়েকজনের চোট লাগে। এমনকি কারো কারো হাড়ও ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কিন্তু তার দাবি, পুলিশ এমনভাবে আঘাত করছিল যাতে শরীরে স্পষ্ট দাগ না থাকে।

সাংবাদিকদেরও আটক করা হয়

১০ ও ১১ই অক্টোবর বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিককেও আটক করা হয়। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও পুনেতে অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫ জনেরও বেশি দিল্লির সাংবাদিক ছিলেন।

১০ অক্টোবর আটক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন স্ক্রল.ইন-এর শোয়েব দানিয়াল ও আয়ুষ তিওয়ারি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অনুষ্কা ভরদ্বাজ ও নিউজলন্ড্রি-এর অশ্বিনী কুমার সিং, আস্থা সব্যসাচী ও অনমোল প্রীতম।

বিক্ষোভস্থল থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়।

২ অক্টোবর থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ১০ অক্টোবর তা আরো তীব্র আকার নেয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন।

দিল্লি পুলিশ ১০ অক্টোবর যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পাশাপাশি, দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল।

দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ গত শুক্রবার বলেছিলেন যে জন-নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে যারা আইন লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাদের আটক করা হয়েছিল তাদের বাওয়ানা, মুন্ডকা, বুরারি এবং নারেলার মতো দূরবর্তী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সিপিজের তথ্য বলছে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বিক্ষোভস্থল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার ফলে পরিবার ও সহকর্মীদের পক্ষে তাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

এদিকে, ১১ অক্টোবর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যায় না। আদালত স্পষ্ট জানায়, কাউকে আটক করলে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।

দিল্লিতে বিক্ষোভ এখনো অব্যাহত রয়েছে। আটকের অভিজ্ঞতার পর অনেকে মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে নতুন করে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ০.৫% ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ০.৫% ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা বাড়ছে

॥ ওবাইদুর রহমান ॥

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের জন্য প্রণোদনা প্রদান করছে। এ জন্য রিচার্জ করা এনার্জির ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় (রিবেট) প্রদান করা হচ্ছে। প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জ করা এবং খরচ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে গ্রাহকের অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসছে।

প্রিপেইড মিটারের আওতায় গ্রাহক সহজেই রিচার্জ, অবশিষ্ট ব্যালেন্স এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব জানতে পারেন। এর ফলে গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জ করতে সক্ষম হন এবং মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। অন্যদিকে, পোস্টপেইড মিটারে মাস শেষে বিলের পরিমাণ জানা যায়, যা পূর্বে ব্যয়ের হিসাব রাখা তুলনামূলকভাবে কঠিন করে তোলে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে- অগ্রিম রাজস্ব আদায়, সিস্টেম লস হ্রাস, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, লোড ম্যানেজমেন্ট এবং বিলিংয়ের নির্ভুলতা। এছাড়া, বিল তৈরি ও বিতরণে জনবল ব্যয় কমানো, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি, জরুরি ব্যালেন্স ও ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ সুবিধা এবং সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ভাড়াটিয়া ও সরকারি আবাসনে বিলিং সংক্রান্ত জটিলতা কমাতেও এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানায়, গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারে মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো সময় রিচার্জ করতে পারেন। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশন, পিওএস এজেন্ট এবং ব্যাংকের বুথ থেকেও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। ব্যালেন্স কমে গেলে মিটারে সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। নির্ধারিত ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ারে’ ব্যালেন্স শেষ হলেও জরুরি ক্রেডিট সুবিধায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাওয়া। মিটারে থাকা ব্যালেন্স পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে মাস শেষে হঠাৎ বড় অঙ্কের বিল আসার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা সালেহ হাসান বাসসকে জানান, প্রিপেইড মিটারে মাসের শুরুতে কত টাকা রিচার্জ করছেন, তার ওপর নির্ভর করে তিনি মাসজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। ঘরে বসেই সহজে মিটার রিচার্জ করা যায়। একই সঙ্গে মিটারে কত টাকা অবশিষ্ট আছে, সেটিও জানা যায়। ফলে প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার বিষয়ে তিনি এখন বেশি সচেতন।

বগুড়া শহরের বাসিন্দা ও নেসকোর গ্রাহক মুজাহিদ শেখও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বাসসকে বলেন, অল্প কিছুদিন আগে তার বাসায় প্রিপেইড মিটার বসানো হয়েছে। আগে মাস শেষে কত টাকা বিল আসবে, তা জানা যেত না। এখন তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী রিচার্জ করেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন থাকেন।

তার মতে, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে বিদ্যুতের মূল খরচ একই হলেও সচেতনভাবে ব্যবহার করলে প্রিপেইড মিটারে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী বিল তৈরি ও বিতরণের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এতে জনবল ও যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অগ্রিম বিল পরিশোধের কারণে বিতরণ সংস্থাগুলোর রাজস্ব আদায়ও সহজ হয় এবং বকেয়া বিল আদায়ের জটিলতা থাকছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রিপেইড সংযোগ নিতে কোনো নিরাপত্তা জামানত দিতে হয় না। আবাসিক গ্রাহকের অনুমোদিত লোডের প্রতি কিলোওয়াটের জন্য মাসে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জের সময় ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সমন্বয় করা হয়। এরপর অবশিষ্ট অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হয়।

উদাহরণ অনুযায়ী, ২ কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের একজন আবাসিক গ্রাহক জানুয়ারিতে প্রথমবার ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটারের ভাড়া বাবদ ১৭১ টাকা ৬২ পয়সা কাটা হবে। অবশিষ্ট টাকার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হওয়ার পর বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মিটারে জমা থাকবে ৮৩২ টাকা ৫২ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রিপেইড মিটারে কোনো ব্যালেন্স অবশিষ্ট থাকলে পরবর্তী মাসে নতুন করে রিচার্জ না করেও ওই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। কোনো মাসে রিচার্জ না করলে ওই মাসের এবং আগের মাসগুলোর প্রযোজ্য ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া পরবর্তী রিচার্জের সময় সমন্বয় করা হয়।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি এনালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও সমস্যা কমাতে এবং এ ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, ডেসকোর অ্যাপে মিটারের অবশিষ্ট ব্যালেন্স ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়, যা বিল নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া, জরুরি ব্যালেন্স ব্যবহারের সুবিধা থাকায় রিচার্জের টাকা শেষ হয়ে গেলেও গ্রাহকেরা সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এড়াতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন সুবিধা ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি এবং গ্রাহকদের উদ্বেগ কমাতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে তথ্য প্রচার করা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রায় ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১২ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) ২৩ লাখের বেশি গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৪ লাখ গ্রাহক।

অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) ১৪ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ জন গ্রাহকের মধ্যে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮১ জন প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৪ জন গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটার রয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৭ জনের।

এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) মোট গ্রাহক সংখ্যা ৪৬ লাখ ৫ হাজার ১৯ জন। যার মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন ৩৬ লাখ ৮ হাজার ৩৩১ জন।

এর বাইরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীন গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ। এর মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহক।

বিদ্যুত বিভাগ জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় হটলাইন ১৬৯৯৯ চালু রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোও নিজস্ব হটলাইন চালু রেখেছে।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউর রহমান বাসসকে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। এটা অনেকাংশে বাস্তবায়নও হয়েছে। শুরুতে কিছু এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে এ ব্যবস্থা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ছিল। তবে বর্তমানে তেমন সমস্যা নেই। ইতোমধ্যে নেসকোর ৬০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) নূর আহমদ বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে রিবেটসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এতে গ্রাহকের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমতে পারে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ কমিয়ে আনা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%