১১:১৮ এম
যৌন অসদাচরণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার আদালতের পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন।
আইসিসির নির্বাহী কমিটি অভিযোগ-সংক্রান্ত শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম আদালতের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ অধিবেশনে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেয়। সেখানে করিম খানের ভবিষ্যৎ পদে বহাল থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হানিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আজ রায়
ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালে। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই আইসিসির প্রসিকিউশন বিভাগে অস্থিরতা তৈরি হয়।
অভিযোগকারী নারী কর্মী, যিনি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আইসিসির সদর দপ্তরে করিম খানের অধীনে কাজ করতেন।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের ২১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মনে করেছেন যে, যৌন অসদাচরণের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে করিম খান গুরুতর আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
তবে এ বিষয়ে আইসিসির পরিচালনা পর্ষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত রায়ের ইঙ্গিত নয়। এর আগে তিনি তদন্ত চলার সময় স্বেচ্ছায় আদালতের তদন্ত ও বিচার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নেতৃত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
আইসিসি জানিয়েছে, জাতিসংঘের একটি তদারকি সংস্থার প্রতিবেদন, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে করিম খান দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগকারী নারীর প্রতি জবরদস্তিমূলক ও সম্মতিহীন যৌন আচরণ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মসূত্রে বিভিন্ন সফরের সময় হোটেল কক্ষে, তার দপ্তরে ও ব্যক্তিগত বাসভবনে এসব ঘটনা ঘটেছে।
তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন করিম খান। তার আইনজীবীরা আগের এক বিবৃতিতে বলেন, করিম খান কোনো ব্যক্তি হয়রানি বা দুর্ব্যবহার করেছেন, নিজের পদ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কিংবা জবরদস্তিমূলক, শোষণমূলক বা পেশাগতভাবে অনুপযুক্ত কোনো আচরণে জড়িত ছিলেন— এমন অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল সড়ক, টোল নির্ধারণ
আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের বিশেষ অধিবেশনে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। সেখানে ভোটাভুটির মাধ্যমে করিম খানকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আদালতের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন