ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুয়ার আসক্তিতে একে একে ১৪ জনকে বিয়ে করেন এক নারী


জুয়ার আসক্তিতে একে একে ১৪ জনকে বিয়ে করেন এক নারী

জুয়ার নেশার অর্থ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের সামনে আসার পর সাজার বদলে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তিনি প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন।

অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ‘ভিকি লিয়াং’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের কাছে দাবি করতেন যে, চীনে থাকা অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ দরকার। এই অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেছেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই অর্থ আত্মীয়দের চিকিৎসায় ব্যয় নয়, বরং তা লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেই ব্যয় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের জন্য এমপিদের স্বাক্ষরের তালিকা চায় ইসি

পুলিশের তথ্যমতে, গত এক বছরে চেন জুয়া খেলতে গিয়ে তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন। গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহারে সম্মত হয় প্রসিকিউশন। পাশাপাশি আদালতে তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশও করা হবে।

আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা হবে। আইন অনুযায়ী বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, তবে প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তিনি অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই চেন বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। এক ভুক্তভোগীর দাবি, অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর চেন অবগত করেন যে তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না।

জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়েতে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এছাড়া লাস ভেগাসে বিয়ে করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় শহরটিকেই তিনি তার প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন।

আরও পড়ুন: সৌদির দাবি, ৫ ড্রোন ধ্বংসের মধ্যে ৪টি মদিনার দিকে ছিল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই ক্যামেরার পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


এআই ক্যামেরার পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার পাশাপাশি নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। ডিএমপি বর্তমানে ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম খরচের ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান রাজধানীর ডিএমপি সদর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানালেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ডিএমপি আশা করছে, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কম খরচে রাজধানীর আরও বেশি এলাকায় নজরদারির আওতা প্রসারিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন অনেক বেশি কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

ভবিষ্যতে যানজট নিরসনে নতুন কোনও প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাফিকের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সে দিকটি নিয়েই কাজ করছি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে একটি নতুন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে আমরা যে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করছি, সেগুলো কার্যকর হলেও তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের জন্য খুব দ্রুত আমাদের নজরদারির আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে নতুন ক্যামেরা নিয়ে আসছি। এসব ক্যামেরার দাম তুলনামূলকভাবে কম হলেও আমাদের উদ্দেশ্য পূরণে এটি কার্যকর হবে।’

তিনি আশা করেন, এসব ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ালে ট্রাফিকে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে নতুন পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি সবসময়ই নগরবাসীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কারণ আমাদের এআই ক্যামেরার এই নতুন পথচলা মাত্র দুই মাসের হলেও ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নগরবাসী এতটা দৃশ্যমান সহযোগিতা করবেন, শুরুতে তা আশা করিনি।’

তিনি বলেন, ‘তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং আধুনিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসাও করছেন। এর অর্থ হলো, কাউকে জোর করে আইন মানানো হচ্ছে না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম মেনে চলছেন।’

মো. আনিছুর রহমান আরও বলেন, ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে মিশ্র যানবাহন। এ শহরে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন একসাথে চলাচল করে। অটোরিকশা এখন আরেকটি বড় সমস্যা। বর্তমানে এটি সবার জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই যানবাহনের ওপর চালকের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্যদিকে, একটি শহরের যানবাহন ধারণক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে। কিন্তু এই মহানগরে যানবাহনের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি কোথায় গিয়ে থামবে, সেটি বলা কঠিন।

অন্যদিকে, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক আনফিট গাড়ি চলাচল করছে বলছেন তিনি। তিনি জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই মেগাসিটির জন্য এখনো উন্নত কোনো গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত কখনোই সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

আনিছুর রহমান বলেন, পথচারীদের চলাচলের ধরনও সমস্যা সৃষ্টি করছে। প্রায়ই দেখা যায়, অনেকে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করেন। তাদের নিয়মের মধ্যে আনা কঠিন। তিনি আরো জানান, আমরা এখন কিছু জায়গায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করেছি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি গাড়ি হয়তো এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছে; অথচ এই স্বল্প সময়ের জন্যও পথচারীরা অপেক্ষা করতে চান না। তারা হাত তুলে রাস্তা পার হতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু গাড়ির চালক, মালিক বা ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভর করে না। এর একটি বড় অংশ মূলত সড়ক ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে পথচারীদের মানসিকতা ও আচরণগত অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। আমাদের বাস্তবতায় সেই পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি আসেনি।’

জনাব আনিছুর রহমান জানালেন, যেসব এলাকায় যানজট বেশি, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তাই ঢাকা মহানগরীতে কোথায়, কখন যানজট বেশি হয়, সে বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। কোথাও পিক আওয়ার, আবার কোথাও অফ-পিক আওয়ার থাকে। সে অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এলাকা এবং যানজটের মাত্রা বিবেচনায় কোথাও কম, কোথাও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর প্রায় ২৫টি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ সেখানে সার্বক্ষণিক যানবাহনের চাপ থাকে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিকেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন এভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল পরিচালনা করবেন যে রেফারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ এম


আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল পরিচালনা করবেন যে রেফারি

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচে রেফারিং নিয়ে একের পর এক বিতর্কের মধ্যেই সেমিফাইনালের ম্যাচ কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা করেছে ফিফা। বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড লড়াই পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ রেফারি ইসমায়েল এলফাত।

বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেন্‌জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে এলফাতকে সহায়তা করবেন তারই স্বদেশি সহকারী রেফারি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস। চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি।

৪৪ বছর বয়সি এলফাত এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস–জাপান ও উরুগুয়ে–স্পেন ম্যাচে দায়িত্ব পালনের পর শেষ ষোলোয় ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচেও বাঁশি ছিল তার হাতে। ওই ম্যাচে নরওয়ে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

মরক্কোয় জন্ম নেয়া এলফাত ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে টেক্সাসে বসবাসকারী এই রেফারি ২০১২ সাল থেকে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ম্যাচ পরিচালনা করছেন। ২০১৬ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে অভিষেক হয় এলফাতের। সেই আসরের আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স ফাইনালে তিনি চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া এমএলএস কাপ ফাইনাল ও কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ফাইনালের মতো বড় ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগে পানিবন্দী মানুষের আশার আলো-সন্দ্বীপের ইউএনও আমজাদ হোসেনের মানবিক তৎপরতায় প্রশংসার জোয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


দুর্যোগে পানিবন্দী মানুষের আশার আলো-সন্দ্বীপের ইউএনও আমজাদ হোসেনের মানবিক তৎপরতায় প্রশংসার জোয়ার

গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এই দুর্ভোগের সময়ে উপজেলা প্রশাসন পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সরাসরি মাঠে নেমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন।

উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দেখা গেছে ইউএনও আমজাদ হোসেন কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম উড়িরচর ইউনিয়নের মানুষের জন্যও খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইউএনও। এ ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে স্থানীয়দের মাঝে। অনেকেই বলেছেন, “আমজাদ হোসেনের মতো মানবিক ইউএনও আগে কখনো দেখিনি।”

ইউএনও আমজাদ হোসেন বলেছেন, “উপজেলার সব ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষের পাশে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি। শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন আরও জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কোনো মানুষ যেন খাদ্য সংকটে না পড়ে, সে লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে দায়িত্বশীল ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সরাসরি মাঠে কাজ করে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করছেন।

এছাড়া দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে ইউএনও হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে উক্ত নম্বরে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

তিনি আরও জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিনিয়ত সন্দ্বীপের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন। তিনি নিশ্চিত করছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রীর যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।

জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১ আগস্ট থেকে শুরু টাইফয়েড টিকাদান, যাঁরা পাবেন টিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


১ আগস্ট থেকে শুরু টাইফয়েড টিকাদান, যাঁরা পাবেন টিকা

দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

আগামী ১ আগস্ট থেকে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

 

এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালে জাতীয় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের পর জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে ইপিআইয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এক ডোজ টিসিভি প্রদান করা হবে।

একই সেশনে এমআর-২ (গজ-২) টিকার সঙ্গে এই টিকা একযোগে দেয়া যাবে।

মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত, টিকার চাহিদা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সেশনে টিকাদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া শিশুদের ভ্যাক্স : ইপিআই অ্যাপে নিবন্ধন, টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং টিকা প্রদানের পর স্মার্ট হেলথ্ বিডি/ই ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভার মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সহজীকরণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত কর্মসূচিতে ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে এবং ভ্যাকসিন ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে।

মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে, যাতে ভ্যাকসিনের অপচয় কমানো সম্ভব হয়।

এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে টাইফয়েড টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%