ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে মোদিকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করলেন কেজরিওয়াল


দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে মোদিকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করলেন কেজরিওয়াল

দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জার্মানির নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে মোদি সরকার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি মোদিকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে।

রোববার (১১ অক্টোবর) টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে কেজরিওয়ালের এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এর পূর্ববর্তী দিন শনিবার, দিল্লিতে কক্‌রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। দলটি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর যন্তর মন্তরে সমাবেশের আয়োজন করেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, শনিবারের অভিযানে তরুণী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণে দমন-পীড়নের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেজরিওয়াল মন্তব্য করেন যে, শুধু জ্ঞানেশ কুমার নয়, মোদিকেও পদত্যাগ করতে হতে পারে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করার সময় কেজরিওয়ালসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। আটক নেতাদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের কারণে সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল। পরে কক্‌রোচ জনতা পার্টির নেতাদের ছাড়া আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দেয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দলটির নেতা অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালানোর পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাঁদেরও মুক্তি দেওয়া হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি এবং বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অনিয়মের প্রতিবাদ দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই, সংরক্ষিত আসনে পুরুষদের বসার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


ঢাকার ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই, সংরক্ষিত আসনে পুরুষদের বসার অভিযোগ

রাজধানীর লোকাল বাসে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং প্রবীণ যাত্রীদের চলাচল বর্তমানে দুর্ভোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও বাসে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে, তবে তা মানা হচ্ছে না। প্রায় ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার না থাকার কারণে যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে চলন্ত বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) যৌথ পর্যবেক্ষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) উক্ত দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত এক মাস ধরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটের অর্ধশতাধিক বাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ সময় যাত্রী, পরিবহন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেন পর্যবেক্ষকরা।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে জানান, ঢাকা শহরের লোকাল বাসগুলো নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে চলাচল করছে। তিনি বলেন, "বাসমালিকদের যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফার দিকেই নজর বেশি।" এসব অনিয়ম বন্ধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ নাগরিকদের জন্য প্রতিটি বাসে ৯টি আসন সংরক্ষিত রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিছু বাসে এ নির্দেশনার কথা লেখা থাকলেও অধিকাংশ বাসে তা উল্লেখ নেই। তবে কোনো বাসেই নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। যাত্রীভর্তি লোকাল বাসে সংরক্ষিত আসনগুলোতে পুরুষ যাত্রীদের বসে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং প্রবীণদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে তাদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি অস্বস্তি এবং নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে।

লোকাল বাসে হেলপার না থাকাকে যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে উক্ত দুই সংগঠন। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই। এসব বাসে চালক মালিকের কাছ থেকে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া নেন। পরে একজন কন্ডাক্টর নিয়ে বাস চালান। দিন শেষে মালিকের পাওনা পরিশোধ করে বাকি অর্থ চালক ও কন্ডাক্টর ভাগ করে নেন। খরচ কমানোর জন্য হেলপার রাখা হয় না বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হেলপার না থাকায় কন্ডাক্টরকে একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে হয়, অন্যদিকে বিভিন্ন স্টপেজে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো এবং নামানোর কাজও করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যত্রতত্র বাস থামিয়ে তাড়াহুড়া করে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং প্রবীণদের ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠতে এবং নামতে হয়। বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেশি থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চার দফা সুপারিশ করেছে উক্ত দুই সংগঠন। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—নগর পরিবহনের সব বাসে নারী, শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ৯টি আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা; চালক এবং কন্ডাক্টরের পাশাপাশি প্রতিটি বাসে একজন হেলপার নিয়োগ দেওয়া; চালক বা কন্ডাক্টরের কাছে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া দেওয়ার প্রথা বন্ধ করা এবং সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো কঠোরভাবে প্রতিহত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

রাজধানীর উত্তরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমান চার্জ) গঠনের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।

নির্ধারিত সময় রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেল এ আদেশ প্রদান করেন।

প্যানেলের অন্যান্য দুই সদস্য হচ্ছেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে, ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে আদেশ প্রদান করেছিল।

জুলাই আন্দোলনে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে অভিযোগ গঠনের আদেশ না দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করে। কিন্তু সেদিনও তা পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আজ সেই শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম লিটন আহমেদ। স্টেট ডিফেন্সের পক্ষে ছিলেন আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম। তারা পলাতক আসামির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অন্য স্টেট ডিফেন্স শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামির আইনজীবীরাও শুনানি করেন।

এই মামলায় পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ মোট ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন, বাকি ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।

গ্রেফতার হওয়া আট আসামির মধ্যে রয়েছেন—ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী ইরফানুল হক গাজী।

পলাতক ১৮ আসামির মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল আবু ছায়েম, সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার ও সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান।

পলাতক অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম শামীম, সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল এবং তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাসপাতালে নিতে সাহায্য করার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বিইউপির শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ছাত্র-জনতার কয়েকজন তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় মুগ্ধসহ ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

একই দিনে উত্তরায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন এবং সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ওই দিন উত্তরায় একটি এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ এবং নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী মারুবেনি, সহযোগিতার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী মারুবেনি, সহযোগিতার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

আজ রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশন বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন শিল্পখাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প এবং জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি, পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার, অটোমোবাইল, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এই খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

তিনি আরো বলেন, পাটশিল্পকে প্রচলিত পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তুলা, ভিসকস এবং পলিয়েস্টারের সাথে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে চায় সরকার।

বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসাইউকি ওমোতো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন এবং কাফকোর আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে মারুবেনির সিইও জানান, যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইটি অফশোরিং খাতে এ সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ, টয়োটা গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার, সিইপিএর সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানোর এবং শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকে পর্যটকদের জন্য নতুন যাতায়াত সময়সূচি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


সাজেকে পর্যটকদের জন্য নতুন যাতায়াত সময়সূচি ঘোষণা

রাঙামাটির সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সড়ক অবরোধের কারণে। রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় একবার সরকারি নিরাপত্তা স্কর্ট চলবে, যা নিয়মিত দুইবারের পরিবর্তে। এই ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকেরা ফিরতে পারবেন এবং নতুন পর্যটকেরাও সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছে সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি।

সমিতির দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক জানান, অবরোধের কারণে দুপুর ২টায় একবার স্কর্ট চলবে, যা নিয়মিত দুইবারের পরিবর্তে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ওই স্কর্টের মাধ্যমে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকেরা ফিরে আসতে পারবেন এবং নতুন পর্যটকেরাও সাজেকে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

রবিবার সকাল থেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এর ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ফিরে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধ সমর্থকেরা।

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%