০২:৩৮ পি.এম
বৈরুতের ওপর ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরাইলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে অনুরোধ জানান যে, ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নিতে। তবে নেতানিয়াহুর সেই আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরাইল ইরানে হামলা চালিয়ে যায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরাইলি বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ওরি গোল্ডবার্গ জানিয়েছেন, ইরানের হামলার জবাবে ট্রাম্পের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান উপেক্ষা করা নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্ক ‘উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায়’ রয়েছে। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর।
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গোল্ডবার্গ আরও বলেন, ইরানে হামলার পূর্বে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ফোনালাপে ট্রাম্প বৈরুতের ওপর আরও বিমান হামলা পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষও প্রকাশ করেন। বিষয়টি প্রথমে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং পরে ট্রাম্প একে নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে ২৫টি পোশাক কারখানা আজও বন্ধ
গোল্ডবার্গ জানান, ‘জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকার সময় নেতানিয়াহু যেসব পদক্ষেপ নিতে পারতেন, ট্রাম্পের আমলে সেগুলো আর তত সহজ হবে না।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরাইলের পক্ষে বড় ধরনের সংঘাতে ফিরে যাওয়া কঠিন। এই বিশ্লেষক বলছেন, ‘আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় ক্ষেত্রে ইসরাইল রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট দুর্বল। মার্কিন সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই।’
এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেই রোববার (৭ জুন) ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, ফোনালাপের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে এই হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত না করতে অনুরোধ জানান। ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে, ‘চুক্তির মাধ্যমে আমরা ভালো কিছু অর্জনের খুব কাছাকাছি রয়েছি।’
ওই মার্কিন কর্মকর্তার মতে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষে তিনি প্রেসিডেন্টের অনুরোধে ‘একপ্রকার সম্মতি’ জানান।
আরও পড়ুন: বেলজিয়াম ও সুইডেনের সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন