০৭:৪৪ পি.এম
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলকে একত্রিত করে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে সংসদীয় ককাস, এমনটি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, সেগুলো মোকাবিলার জন্য সংসদীয় ককাস গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এই উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সময় পর সকলকে নিয়ে ককাসটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত সংস্থাটির ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর ‘ইন্ট্রোডিউসিং দ্য পার্লামেন্টারি ককাস অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিসপ্লেসমেন্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, বর্তমান সংসদ হচ্ছে জনগণের সংসদ, যা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত। এই সংসদ জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুপারিশ প্রদান করতে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় সাধনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
কায়সার কামাল আশা প্রকাশ করেন যে, তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সংসদীয় ককাস সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের দায় খুব সামান্য হলেও, দেশটি এর বিরূপ প্রভাবের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক সংসদীয় ককাসের চেয়ারপারসন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তার বক্তব্যে এই ককাসকে সর্বদলীয় ককাস হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা দূরীকরণ এবং দুর্যোগ থেকে তাদের সুরক্ষায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাধ্যমতো অবদান রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সংসদীয় ককাসের সদস্য সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, আবুল হোসেন খান ও মো. আনোয়ারুল হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন