ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জলবায়ু ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত সমস্যা সমাধানে সংসদীয় ককাসের কাজ: ডেপুটি স্পিকার


জলবায়ু ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত সমস্যা সমাধানে সংসদীয় ককাসের কাজ: ডেপুটি স্পিকার

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলকে একত্রিত করে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে সংসদীয় ককাস, এমনটি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, সেগুলো মোকাবিলার জন্য সংসদীয় ককাস গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এই উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সময় পর সকলকে নিয়ে ককাসটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত সংস্থাটির ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর ‘ইন্ট্রোডিউসিং দ্য পার্লামেন্টারি ককাস অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিসপ্লেসমেন্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সোলায়মানের জন্য ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, বর্তমান সংসদ হচ্ছে জনগণের সংসদ, যা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত। এই সংসদ জনগণের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুপারিশ প্রদান করতে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় সাধনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

কায়সার কামাল আশা প্রকাশ করেন যে, তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সংসদীয় ককাস সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের দায় খুব সামান্য হলেও, দেশটি এর বিরূপ প্রভাবের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন: নিউমার্কেটে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ৩ নেতার পদ স্থগিত

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক সংসদীয় ককাসের চেয়ারপারসন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তার বক্তব্যে এই ককাসকে সর্বদলীয় ককাস হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা দূরীকরণ এবং দুর্যোগ থেকে তাদের সুরক্ষায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাধ্যমতো অবদান রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সংসদীয় ককাসের সদস্য সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, আবুল হোসেন খান ও মো. আনোয়ারুল হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ছয় ইসরায়েলি সেনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের লাগাম টানতে স্বচ্ছতা ছাড়া কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


চীনের লাগাম টানতে স্বচ্ছতা ছাড়া কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন

চীনের ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতার নীতি যথেষ্ট নয়। ফিলিপাইন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সামুদ্রিক এলাকায় চীনের জাহাজের উপস্থিতি, বাধা সৃষ্টি এবং জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং তথ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ফিলিপাইনের পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, পালাওয়ান প্রদেশের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের নিকটবর্তী এলাকায় চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬২২ নম্বর চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজটি ২২টি ছোট নৌযান নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুনরায় একই স্থানে ফিরে এসেছে। টাস্কফোর্সের তথ্যমতে, সেখানে তারা অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা এবং সমুদ্রে বর্জ্য ফেলার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়া, ৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন শোল এলাকায় ফিলিপিনো সেনাদের চিকিৎসা ও উদ্ধার মিশনে জলকামান ব্যবহার করে চীনা কোস্টগার্ড। ওই মিশনের উদ্দেশ্য ছিল বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে জাহাজ থেকে এক ফিলিপিনো সেনাকে সরিয়ে নেওয়া। চীনের নিকটবর্তী মিসচিফ রিফে সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে ফিলিপাইন ইচ্ছাকৃতভাবে আয়ুঙ্গিন শোল বা দ্বিতীয় টমাস শোলে জাহাজটি স্থাপন করেছিল।

অচল অস্থায়ী সমঝোতা

উত্তেজনা কমাতে এবং ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ২০২৪ সালে চীন ও ফিলিপাইন একটি অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে, ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরপি সিয়েরা মাদ্রেতে সেনা পরিবর্তন ও রসদ সরবরাহের মিশনে চীনের কোস্টগার্ড এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বাধা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন।

এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর ফিলিপিনো জেলেদের কাছে জ্বালানি পৌঁছানোর পথে চীনের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজের ধাক্কায় ফিশিং সাপোর্ট ভেসেল ‘বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফিলিপাইনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক মাসে পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের সামরিক ও কোস্টগার্ড জাহাজের উপস্থিতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফিলিপাইন জানায়, পাক-আসা দ্বীপ, আয়ুঙ্গিন শোল, এসকোদা শোল এবং চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকা স্কারবরো শোলের আশপাশে ১০১টি চীনা নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৫৬।

চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন কৌশল : কতটা কার্যকর?

সমুদ্রে অনুপ্রবেশ ও চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি পশ্চিম ফিলিপাইন সাগর নিয়ে চীনের তথ্য প্রচার ফিলিপাইনের জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনআস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। চীনের তথ্য প্রচারের মধ্যে ইতিহাসের পুনর্ব্যাখ্যা, ফিলিপাইনের স্বাধীনতাকে খাটো করে দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয় রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির প্রভাবশালী মহলে প্রভাব বিস্তার করে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির পথও তৈরি হতে পারে।

সিঙ্গাপুরে সাম্প্রতিক ফোর্বস গ্লোবাল সিইও সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা সামাল দেওয়া এবং সংঘাতের বিস্তার এড়ানোর বাস্তবতা মেনে নিয়েছে তার দেশ। তবে, এই অবস্থানকে চীনের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং ফিলিপাইন নীরব কূটনীতির পরিবর্তে সামুদ্রিক এলাকায় চীনের কর্মকাণ্ডের ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের নীতি গ্রহণ করেছে। এর উদ্দেশ্য জনসচেতনতা বাড়ানো, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিশি রায় বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা।

তবে, এ কৌশল একা চীনের আচরণ পরিবর্তন করতে পারছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফিলিপাইনকে আরও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রতিরক্ষা বলয় ও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ

প্রতিরক্ষা কৌশলের ক্ষেত্রে মার্কোস জুনিয়র সরকারের কমপ্রিহেনসিভ আর্কিপেলাজিক ডিফেন্স কনসেপ্ট বা সমন্বিত দ্বীপপুঞ্জ প্রতিরক্ষা ধারণা সামরিক ঘাঁটি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া, দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর ভিত্তি তৈরি করেছে। চীনের প্রবেশ-প্রতিরোধ ও এলাকা-নিয়ন্ত্রণ কৌশলের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এ ধারণা বিবেচিত হতে পারে।

সুতরাং, ফিলিপাইনের উচিত বিদেশি সামরিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করা এবং ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ, অস্ত্র মোতায়েন ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সামরিক সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে চীনের তথ্যপ্রভাব মোকাবিলায় শুধু ঘটনা প্রকাশ করলেই চলবে না। জাতীয় স্বার্থ, অভিন্ন মূল্যবোধ ও কোন সীমা অতিক্রম করা যাবে না—এসব বিষয়ে বক্তব্য ও পদক্ষেপের মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে।

ফিলিপাইনের অধিকাংশ মানুষ খবর ও তথ্যের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রসমর্থিত বা তাদের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের ভূমিকা বিবেচনায় নিতে হবে।

সম্ভাবনার সুযোগ

এছাড়া, ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতিত্বের দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার সুযোগ রয়েছে ফিলিপাইনের সামনে। মিয়ানমার সংকট, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা মোকাবিলায় আসিয়ান কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে আঞ্চলিক নেতৃত্বের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠার সময় আসিয়ানের ঐকমত্য ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি যে বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার থেকে অনেকটাই আলাদা। তাই আঞ্চলিক নীতিমালা হালনাগাদ এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ ফিলিপাইনের রয়েছে।

পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরে চীনের তৎপরতা মোকাবিলায় তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও কার্যকর প্রতিরোধ, সমন্বিত কৌশল, প্রযুক্তি খাতে জবাবদিহি এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের সমন্বয় ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনা কঠিন—এমনটাই অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


সাজেকে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে প্রশাসনকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা করেছে পাহাড়ের দুটি সংগঠন। সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা এই ঘোষণা প্রদান করেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাজেকের মাচালং এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এই অবরোধের ফলে সাজেকে বেড়াতে আসা এক হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েন।

পরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সোমবার ও মঙ্গলবার অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় পুনরায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, পাহাড়ের দুই সংগঠনের সড়ক অবরোধ, সাজেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (খাগড়াছড়ি) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও মানবন্ধন করেছে ব্যবসায়ী এবং জনসাধারণ।

এদিকে, অবরোধের ঘোষণায় সাজেকের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল মালিক, কর্মচারী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পর্যটন মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হলে সাজেকের পর্যটন ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, পরিবহন খাত এবং জীবিকা নির্বাহে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

এ অবস্থায় সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত থেকে ১৮ কোচ আসছে, চালু হতে পারে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


ভারত থেকে ১৮ কোচ আসছে, চালু হতে পারে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ১৮টি কোচ ভারতীয় রেলওয়ে পাঠিয়েছে। গত ১২ অক্টোবর, ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসেস লিমিটেডের (রাইটস) সঙ্গে ২০২৪ সালের ২০ মে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০০টি লিংকে-হফম্যান-বুশ (এলএইচবি) ব্রডগেজ কোচ সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে এসব কোচের সরবরাহ, পরীক্ষণ ও চালুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রথম চালানের ১৮টি কোচের মধ্যে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, তিনটি এসি চেয়ার কার, দুটি এসি স্লিপার কার এবং দুটি এসি পাওয়ার কার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাওয়ার কার দুটিতে গার্ডের কক্ষ ও মালপত্র রাখার জায়গা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশের গেদে-দর্শনা আন্তদেশীয় রেল সংযোগের মাধ্যমে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরের পর ভারতীয় রেলওয়ের একটি কারিগরি দল সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে কোচগুলো চালুর প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি এসব কোচ বাংলাদেশের রেলওয়ের পরিচালনব্যবস্থা ও যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে একাধিক অবস্থানে হেলানো যায় এমন বিশেষ আসন, স্টেইনলেস স্টিলের হাতল এবং পায়ের বিশ্রাম রাখার ব্যবস্থা। কোচগুলোর কাঠামোতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলার উপযোগী করে এগুলো নকশা করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য কোচগুলোতে দুর্ঘটনার অভিঘাত মোকাবেলার বিশেষ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব বায়ো-টয়লেটের পাশাপাশি ইলেকট্রো-নিউম্যাটিক চাপযুক্ত ফ্লাশিং ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।

রাইটসের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ৩০টি এবং ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরো ১০টি ব্রডগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সরবরাহ করে। পরে ২০১৮ সালের ১ জুন সরবরাহ করা হয় ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ। এসব লোকোমোটিভ ও কোচ ভারত সরকারের ঋণসহায়তার আওতায় বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়েছিল।

সম্প্রতি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, একটি প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও জানান, কোচগুলো দেশে আসার পর নতুন ট্রেনের রুট নির্ধারণ করা হবে।

রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কোচ সরবরাহের ভিত্তিতে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা ব্রডগেজ রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে যমুনা সেতু-পাবনা, ঢাকা-পদ্মা সেতু এবং খুলনা-মোংলা রেলপথসহ বেশ কয়েকটি রেলপথ চালু হয়েছে। তবে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের সংকটের কারণে এসব পথে পর্যাপ্ত ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। ভারত থেকে ২০০টি কোচ এলে নতুন রেলসেবা চালুর ক্ষেত্রে সেই সংকট কিছুটা কাটতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চকরিয়া পৌর শহরের ফুটপাত সড়ক মুক্ত করতে উচ্ছেদ ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


চকরিয়া পৌর শহরের ফুটপাত সড়ক মুক্ত করতে উচ্ছেদ ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরকে যানজটমুক্ত ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নিরাপদ করার লক্ষ্যে একটি ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে ফুটপাত ও ড্রেন দখল করে গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট এবং ভাসমান স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে ৫টি মামলায় ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পৌরসভার প্রায় শতাধিক কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

অভিযানের সময় সহযোগিতা প্রদান করেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলম। উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) মাছুম আহমেদ এবং পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. লোকমান হাকিম।

পৌরশহরের গুরুত্বপূর্ণ চিরিঙ্গা বাজার, ওয়াপদা সড়ক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উভয় পাশে গড়ে ওঠা অননুমোদিত শেড, চৌকি ও অন্যান্য অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করার ফলে দীর্ঘদিন পর ফুটপাতগুলো পথচারীদের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও হকার প্রধান সড়কের ফুটপাত এবং ড্রেনের ওপর পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। ফলে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হতে হতো। এর ফলে একদিকে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল, অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছিল। আজকের এই অভিযানে সাধারণ পথচারী ও অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম জানান, অবৈধ দখল ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে সড়ক পরিবহন আইন, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫টি মামলায় মোট ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার মন্তব্য করেন, “জনসাধারণের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে ব্যবসা পরিচালনা করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুরো পৌরশহরকে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদকৃত স্থানগুলো যেন পুনরায় দখল না হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%