প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে প্রশাসনকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা করেছে পাহাড়ের দুটি সংগঠন। সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা এই ঘোষণা প্রদান করেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাজেকের মাচালং এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এই অবরোধের ফলে সাজেকে বেড়াতে আসা এক হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েন।
পরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সোমবার ও মঙ্গলবার অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় পুনরায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, পাহাড়ের দুই সংগঠনের সড়ক অবরোধ, সাজেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (খাগড়াছড়ি) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও মানবন্ধন করেছে ব্যবসায়ী এবং জনসাধারণ।
এদিকে, অবরোধের ঘোষণায় সাজেকের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল মালিক, কর্মচারী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পর্যটন মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হলে সাজেকের পর্যটন ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, পরিবহন খাত এবং জীবিকা নির্বাহে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
এ অবস্থায় সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন