০৭:১০ এম
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল ভূয়া সনদ দিয়ে শিক্ষকরা চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় হতে তিনটি শিক্ষা প্রতিন্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন।
উপজেলায় আরো একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারিরা জাল ভূয়া সনদ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসছেন। এই নিয়ে সাধারণ শিক্ষক কর্মচারীদের ভিতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর গত ১ মার্চ পরিচালক, প্রফেসর এম.এম. সহিদুল ইসলাম তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা, তদন্ত প্রতিবেদনের তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল, ভূয়া সনদ, অগ্রহণযোগ্য সনদ, ভূয়া নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট ও আইটিসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মে রয়েছে তাদের সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরতের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলার যে প্রতিণ্ঠানগুলোতে ভূয়া সনদ দিয়ে চাকরি করে আসছে, তাদের মধ্যে রয়েছে লস্করপুর ডিগ্রী কলেজ, পুঠিয়া মহিলা ডিগ্রী কলেজ, গাওপাড়া সেনবাগ উচ্চ বিদ্যালয়, পুঠিয়া গোটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, জামিরা উচ্চ বিদ্যালয়, ধোপাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বরবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় ধোকড়াকুল উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও শিবপুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়েছে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক
তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো একাধিক শিক্ষক কর্মচারীরা দির্ঘদিন ধরে জাল ভূয়া সনদের মাধ্যমে চাকরি করে আসছেন। যা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করলে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নাম আসবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা গিয়োছে, বেশ কয়েক বছর পর পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর অডিট করে থাকেন। তাদের নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের দিয়ে জাল ভূয়া সনদসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রকম কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজগুলি করে থাকেন।
মন্ত্রণালয় হতে যাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। তাদেরকে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মোট অংকের টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করতে হয়। আর যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমঝোতা করেন না, তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় হতে পরিদর্শন দল আসলে, শিক্ষক কর্মকার্তাদের চাকরি বাঁচানো জন্য অনেক টাকা খোয়াতে হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের টাকা দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল ভূয়া সনদ ও হিসাব নিকাশ ভুলতুটি থাকলেও সঠিক করে মন্ত্রণালয়ে তারা অডিটের প্রতিবেদন জমা দিয়ে থাকেন।
এভাবেই উপজেলায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল ভূয়া সনদ দিয়ে যুগের পর যুগ তারা চাকরি করে আসছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমি শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আখতার জাহান যুগান্তরকে বলেছেন, মন্ত্রণালয় হতে এখনো চিঠি আমরা পায়নি। চিঠি পেলে আমাদের উর্ধবত কর্মকর্তাদের নিদের্শ মোতাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আরও পড়ুন: মাগুরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন