সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩০ পি.এম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হওয়ার ঘটনা নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
নুরুল হক নুর উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা বাতিল হওয়া ৪ হাজার বাংলাদেশির বিষয়টি সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই অবগত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বহুল প্রত্যাশিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায়, ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রবিবার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই তার নিজ জেলায় প্রথম সফর। এদিন রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সার্কিট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এরপর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি যোগদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সর্বোচ্চ প্রয়াত নেতা মোজতবা খামেনির সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি বিলাসবহুল পেন্টহাউস লন্ডনে বিক্রির জন্য বাজারে তুলতে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন এসব ভবনের নিবন্ধিত মালিক। বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি বিলাসবহুল ভবন দুটি নিলামে তুলছেন।
এটি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিদেশি সম্পত্তি নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ‘দ্য সানডে টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনসিংটন প্যালেসের সম্মুখভাগে অবস্থিত লন্ডনের অভিজাত এলাকা ‘৩এ প্যালেস গ্রিন’-এর এই অ্যাপার্টমেন্ট দুটি মোট ৩৫.৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ডলার বা ১৭৭ মিলিয়ন দিরহাম) মূল্যে কেনা হয়েছিল। তবে বর্তমানে এগুলোর নিয়ন্ত্রণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় (রিসিভারশিপে) চলে গেছে।
একটি পেন্টহাউস ২০১৬ সালে ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড দিয়ে কেনা হয়েছিল, যা এখন ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের সামান্য কম দামে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। অর্থাৎ এটি কেনার দামের চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ পাউন্ড কম।
দ্বিতীয় পেন্টহাউসটি ২০১৪ সালে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড দিয়ে কেনা হয়েছিল। এটি এখন ‘রিসিভারশিপ’ বা ঋণদাতার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থাপনার আওতায় চলে গেছে। যদিও এটি প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত না করায় এর সম্ভাব্য দাম জানা যায়নি।
ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য ঋণদাতা নিরপেক্ষ ‘রিসিভার’ বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করেন, এই প্রক্রিয়াকে ‘রিসিভারশিপ’ বলা হয়। ঋণদাতার পাওনা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ওই রিসিভার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন।
বেসরকারি ঋণদাতারা যারা এই সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থায়ন করেছিল, তারা এখন তাদের পাওনা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ‘রিসিভার’ নিয়োগ করেছে। সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঋণদাতাদের পাওনা পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ আনসারির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত সম্ভবত জব্দ বা অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।
প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত এই সম্পত্তিতে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। ৩,৯৪৪ বর্গফুটের এই ডুপ্লেক্সটি ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলাজুড়ে বিস্তৃত এবং এতে কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত ছাদ-সংলগ্ন চত্বর (রুফ টেরেস) রয়েছে। এখান থেকে কেনসিংটন গার্ডেন্সের দৃশ্য উপভোগ করা যায় এবং ‘নাইট ফ্রাঙ্ক’ ও ‘সোথবি’স ইন্টারন্যাশনাল রিয়েলটি’ যৌথভাবে এটি বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্রে সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য একটি অস্বাভাবিক জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ‘দ্য সানডে টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পত্তিটি বর্তমানে রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এজেন্টদের কাছে সাধারণত যেসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা নথিপত্র থাকে, তার সবই তাদের কাছে নেই।
তবে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য ক্রেতা যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টগুলো পরিদর্শন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পেন্টহাউসটি ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলাজুড়ে অবস্থিত। সংবাদপত্রের উদ্ধৃত ‘ল্যান্ড রেজিস্ট্রি’র নথিপত্র থেকে জানা যায়, আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘টেনিও’-কে এর রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
‘দ্য সানডে টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপার্টমেন্টগুলো কেনার পর থেকে ‘প্যালেস গ্রিন’ আবাসন প্রকল্প এলাকায় আনসারি বা খামেনি কাউকেই দেখা যায়নি।
নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল
আনসারির আর্থিক নেটওয়ার্ক বা কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারির মধ্যেই এই বিক্রয় প্রক্রিয়াটি চলছে। ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর’-এর কর্মকাণ্ডে আর্থিকভাবে সহায়তা করার অভিযোগে ব্রিটেন ২০২৫ সালের অক্টোবরে আনসারির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আওতায় তার সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতা ঘোষণা করা হয়। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ওই ইরানি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, তিনি বিদেশে রিয়েল এস্টেট ও বাণিজ্যিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় অসংখ্য ‘শেল কোম্পানি’ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন।
এতে বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কটি ব্রিটেন, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, স্পেন এবং সাইপ্রাস জুড়ে বিস্তৃত ছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, আনসারির নামে থাকা অনেক আর্থিক সম্পদের চূড়ান্ত সুবিধাভোগী ছিলেন খামেনি, তার পরিবার, ইরানের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় আনসারিকে বর্তমানে বিলুপ্ত ‘আয়ান্দেহ ব্যাংক’-এর সাথেও যুক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সেখানে নিজের পদ ব্যবহার করে অতিরিক্ত ঋণ নিয়েছেন এবং বিদেশে নিজের ব্যবসার প্রসারের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনসারি কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।
লন্ডনের অভিজাত সম্পত্তি চাপের মুখে
‘প্যালেস গ্রিন’-এর পেন্টহাউসগুলোর ভাগ্য নিষেধাজ্ঞা অভিযানের একটি বাস্তব পরিণতি তুলে ধরে। পশ্চিমা কর্তৃপক্ষ ইরানের নেতৃত্বের সাথে যেসব মূল্যবান বিদেশি সম্পদের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে, সেগুলোর অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা বা নগদীকরণ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা দিয়ে এটি প্রমাণ হয় না যে, খামেনি নিজে নগদ অর্থের সংকটে পড়েছেন। তবে সম্পদ জব্দ হওয়া, একজন প্রধান অর্থায়নকারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা এবং রিসিভারশিপ বা তত্ত্বাবধায়কের অধীনে চলে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো ইঙ্গিত দেয়, ইরানের নেতৃত্বের জন্য লাভজনক বলে বিবেচিত বিদেশি আর্থিক কাঠামোর অন্তত একটি অংশের ওপর চাপ বাড়ছে। সম্পত্তিগুলোর অসাধারণ অবস্থানের বিষয়টিও এদের গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলে।
প্যালেস গ্রিন এলাকা কেনসিংটন প্যালেস এবং কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেন্সকে ঘিরে গড়ে ওঠা কূটনৈতিক এলাকার পাশেই অবস্থিত। ব্রিটেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো ইসরায়েলি দূতাবাসের খুব কাছে অবস্থিত; দূতাবাসটিও একই রাস্তায় রয়েছে। আপাতত বিক্রয়লব্ধ অর্থের ওপর ঋণদাতাদেরই প্রথম দাবি থাকবে।
১৯ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের পেন্টহাউসটি যদি বর্তমানের ১২ মিলিয়ন পাউন্ডের কম চাহিদামূলকের কাছাকাছি দামে বিক্রি হয়, তবে তা এক দশক আগের কেনা দামের তুলনায় বড় ধরনের দরপতনের বিষয়টি স্পষ্ট করবে। আর বন্ধকী ঋণ পরিশোধের পরও যদি কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকে, নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় সেই উদ্বৃত্ত অর্থ আনসারিকে ফেরত না দিয়ে জব্দ করে রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
ওয়াশিংটন কর্তৃক ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক মহলের সাথে সম্পৃক্ত বলে চিহ্নিত বিদেশি সম্পত্তি নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে, সম্পত্তি বিক্রির চেয়েও হয়তো এই বিষয়টিই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। লন্ডনে অবস্থিত তাদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্পত্তিগুলো এখন আর কেবল সম্পদ ধরে রাখার মাধ্যম নয়, আর্থিক ও নিষেধাজ্ঞাজনিত চাপের মুখে সেগুলোর মালিকানা বা অস্তিত্ব গুটিয়ে ফেলা হচ্ছে।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডা ঘোষণা করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জন্য ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কানাডা যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন জানিয়েছেন, ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে কানাডা শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেন এবং পশ্চিমা মিত্রদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স যে সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তাতে অটোয়ার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এছাড়া, ওয়াশিংটনের পরিচালিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অধীনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এবং চলমান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে কানাডা।
কানাডা জানায়, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা ইরানের ৪৯২ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে, অটোয়া মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইরানের ওপর এই চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
এছাড়া, কানাডা অভিযোগ করেছে যে, তেহরান গোপনে অবৈধ পারমাণবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরানের দাবি, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ করছে না এবং তাদের সব পারমাণবিক কার্যক্রম শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইন্দোনেশিয়ায় আটটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে। এর ফলে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। এই তথ্যটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এক হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইটের সময়সূচি বিলম্বিত হয়েছে।
বিবিসি জানায়, রবিবার সকালে বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশসীমায় ‘আনাক ক্রাকাতাউ’ আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত হওয়ার পর জাকার্তার সুকর্ণ-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। এরপর ভূ-কম্পন, লাভা উদগিরণ ও বিকট শব্দ শোনা যায়। রবিবার ভোরেও আরও দুবার অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সিঙ্গাপুর থেকে আসা-যাওয়া করা ফ্লাইটসহ দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরের মতো আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো বেশি প্রভাবিত হয়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি বলেন, আগ্নেয়গিরির ছাই পশ্চিম জাভার দিকে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আরও কয়েকটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফ্লাইট বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরির ছাই পূর্ব দিকে জাভা অঞ্চলে ২০ হাজার ফুট এবং পশ্চিম দিকে সুমাত্রা অঞ্চলে ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটির সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশটির বাসিন্দাদের ঘরে থাকার এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ছাইয়ের কারণে চোখ, ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদপত্র কম্পাস জানিয়েছে, ছাইয়ের কারণে চোখে জ্বালাপোড়ার অভিযোগে শনিবার কয়েকটি স্কুলের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চোখে ব্যথার কারণে অনেক জেলেও মাছ ধরতে সমুদ্রে যাননি।
আনাক ক্রাকাতাউয়ের অর্থ ‘ক্রাকাতাউয়ের সন্তান’। এটি ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট বিশাল ক্যালডেরার মধ্যে গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়লে ভয়াবহ সুনামি হয়। এতে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং জাভা ও সুমাত্রার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে থাকা ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরির বড় একটি অংশ এই ভূমিকম্পপ্রবণ বলয়ের মধ্যে রয়েছে।
সূত্র:
,
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ