বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৭ পি.এম
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশ দলের জন্য ভালো কাটলেও, দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই তারা ব্যাটিং ধসের সম্মুখীন হয়েছে। ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দিন শুরু করার পর, টাইগাররা মাত্র ৫৯ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে। তবে, বাংলাদেশের এই ব্যাটিং ধসের পেছনে ব্যাটারদের দায়ের তুলনায় উইন্ডিজ বোলারদের কৃতিত্ব বেশি রয়েছে।
দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের প্রথম ৩ উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। এই উইকেটগুলোর মাধ্যমে উইন্ডিজ একটি সুযোগ পেয়ে যায়। মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামের পিচ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে উঠবে, এটি পূর্বাভাস করা সম্ভব ছিল। প্রথম দিনের তুলনায় এই পিচে অনেক বেশি টার্ন দেখা যাচ্ছে। তাই, দ্বিতীয় দিন শুরু থেকেই স্পিন বোলিং নিয়ে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারা সাফল্যও অর্জন করেছে। উইন্ডিজের দুই স্পিনার, ওয়ারিক্যান এবং বিশপ, দুজনেই উইকেট থেকে যথেষ্ট সহায়তা পেয়েছেন।
শামার জোসেফ পরপর দুই ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে ব্যাটিং ধসকে আরও ত্বরান্বিত করেন। তিনি সকালের ময়েশ্চার এবং নতুন বলের সুবিধা গ্রহণ করেছেন। আর শেষদিকে, ওয়ারিক্যান চাপ দিয়ে বোলারদের উইকেট তুলে নেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে বোলারদের অফস্ট্রাইকে যাওয়ার সুযোগ তিনি দেননি। ফলে, লিটনকে অন্য পাশে রেখে সফরকারীরা বাংলাদেশকে অলআউট করতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশকে দ্রুত গুড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে উইন্ডিজ বোলারদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং এবং কন্ডিশন বোঝার ক্ষমতাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা কন্ডিশন বুঝতে পেরে দিনের প্রথম থেকেই স্পিনার এনেছে। আবার নতুন বলে এক প্রান্ত থেকে পেস বোলিং আক্রমণও চালিয়েছে। নিচের দিকের দুই-একজন ব্যাটার কিছু ভুল করলেও, বেশিরভাগ উইকেটই ভালো পরিকল্পনা এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের দুই ঘণ্টা পর পোশাকশ্রমিকেরা সেখান থেকে সরে গেছেন। শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দেওয়ার ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তারা মাসিক বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে পোশাকশ্রমিকেরা সড়ক ছাড়েন।
এর আগে পল্লবী ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাজিয়া আফরোজ জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করেন। তবে কোন কোন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সকালে কয়েকটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক তাদের মাসিক বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, ‘ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বরে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম জানান, ‘ফার্মগেট থেকে মিরপুর-১০ নম্বর পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে রয়েছে। গোলচত্বর এলাকায় যান চলাচল সীমিত রাখায় যানজট আরও বেড়েছে।’ এদিকে মিরপুর ট্রাফিক ডিভিশনের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়েছে, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের জন্য এই মুহূর্তে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে আকাশ মেঘলা হয়ে রয়েছে, মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এমন প্রতিকূল আবহাওয়া ও অলস পরিবেশের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচন জমে উঠেছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল ঢিলেঢালা, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অলস সময় কাটানোর দৃশ্য দেখা গেছে, তবে কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মী নারী ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৪৮ নম্বর ‘দৌলতপুর সোলেমান খান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়’ কেন্দ্রে গিয়ে একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম, তবে নারী ভোটারদের মধ্যে লাইন ও উৎসাহ ছিল উল্লেখযোগ্য।
ভোট প্রদান শেষে সাধুপাড়ার শেফালী রানী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "কেন্দ্রে এসে খুব ভালো লাগছে। পরিবেশ বেশ শান্ত ও সুন্দর, কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছি।" একই কেন্দ্রে পদ্মারানী ও অঞ্জনাদের মতো অনেক নারী ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার মো. রিজওয়ানুল হক জানান, মোট ৩ হাজার ৫ জন ভোটারের মধ্যে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৬৫০টি ভোট (প্রায় ২০%) কাস্ট হয়েছে, যার বড় একটি অংশই নারী ভোটার।
উল্লেখ্য, সংসদীয় আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চললেও সামগ্রিক উপস্থিতি আশানুরূপ না হওয়ায় অনেক কেন্দ্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অলস সময় কাটিয়েছেন। তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরই তাদের নড়েচড়ে বসতে দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার কারণে সরকার তিন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের ওএসডি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এই কর্মকর্তাগণ ২৯তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া, এবং তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়ার সময় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়, যার ভিত্তিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মামলা করা হয়।
ওএসডি হওয়া তিন কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন— জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার সময় অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেননি। তবে সরকারি নথিতে তাদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, নথিপত্রে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে ২৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর ছয় প্রার্থীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের প্রশাসন, পুলিশ, পরিবার পরিকল্পনা ও সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন উপসচিব পর্যায়ে কর্মরত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলার ধারাবাহিকতায় এবার ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
অন্য তিন কর্মকর্তা এখনো অন্য ক্যাডারে কর্মরত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুদকের মামলার পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে সরকারি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়টি আবারো সামনে এসেছে।
আওয়ামী আমলে বিসিএসে নজিরবিহীন জালিয়াতি নিয়ে ‘আমার দেশ’ সংবাদ প্রকাশ করে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল। সব ধরনের নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অকৃতকার্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)।
২৯, ৩০ ও ৩১তম বিসিএসে সরাসরি ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয় অন্তত ৬২ জনকে। সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে এমন জালিয়াতি আগে কখনো দেখা যায়নি বলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়া, এই মামলার অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী, এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।
সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং এই বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোন বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে কাদেরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন মাহবুব উল আলম হানিফ। এছাড়া, ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা দেন মাহবুব উল আলম হানিফ।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মাহবুব উল আলম হানিফের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কার্যালয়ে সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী, আতাউর রহমানসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগের নেতারা সভা করেন। সভায় নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র–জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা এই মামলার চার আসামির নির্দেশে ছাত্র জনতার ওপর গুলি চালায় এবং তাদের গুলিতে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ মারা যান।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর এই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। গত ২৩ এপ্রিল এই মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রাখার পর আজ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আজকের রায়ে দণ্ডিত মাহবুব উল আলম হানিফসহ এই মামলার চার আসামি পলাতক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ