বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ পি.এম
দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজ ‘গোপাল ভাঁড়’। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আর সিরিজটির কোনো নতুন পর্ব সম্প্রচার করা হবে না।
মধ্যযুগের কিংবদন্তি রসিক চরিত্র গোপাল ভাঁড়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই অ্যানিমেশন সিরিজটি শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। গোপালের বুদ্ধি, রসবোধ এবং মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের দরবার ঘিরে যে নানা হাস্যরসাত্মক ঘটনা দর্শকদের উপহার দেওয়া হয়েছে, তা দীর্ঘদিন তাঁদের বিনোদন দিয়েছিল।
বছরের পর বছর ধরে টেলিভিশনের পাশাপাশি ইউটিউবের মাধ্যমে সিরিজটির জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। কোটি কোটি ভিউয়ের মাধ্যমে এটি বাংলা অ্যানিমেশন জগতের অন্যতম সফল প্রযোজনার মর্যাদা অর্জন করে নেয়।
সিরিজটি বন্ধ হওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রিয় চরিত্র এবং শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই সিরিজের সমাপ্তিতে অনেক দর্শকই নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন।
নতুন পর্বের পথচলা থেমে গেলেও গোপাল ভাঁড়ের বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, হাস্যরস এবং স্মরণীয় ঘটনাগুলো দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। বাংলা বিনোদন ও পপ-কালচারে ‘গোপাল ভাঁড়’ বিশেষ একটি অধ্যায় হিসেবেই থাকছে স্মরণীয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মগবাজারে ঘটে যাওয়া এক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সকলের নজর কেড়ে নিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই দুর্ঘটনায় একজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায় ফায়ার সার্ভিসের। এরপর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে, এরপরও ভবন থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন বলেন, "মগবাজারে বিশাল সেন্টারের পাশে একটি ভবনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।" তিনি আরো বলেন, "প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে শুধু ধোঁয়া দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, "আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে একজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।"
পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানাধীন ২১৭ ও ২১৭/এ, আউটার সার্কুলার রোড, মগবাজারের একটি ভবনের তৃতীয় তলার মধ্যে আগুন লেগে যায়। ঘটনাস্থলে হাতিরঝিল থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। আগুন দেখতে সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে। নিরাপত্তার কারণে সড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : থানচি উপজেলায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে থানচি উপজেলা জোত মালিক সমিতি ৭ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষচারা বিতরণ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার, বেলা ১১টায় থানচি বাজার প্রাঙ্গণে সমিতির উদ্যোগে বৃক্ষচারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়ে থাকে।
এই কর্মসূচির আওতায় রূপালি আম, আমড়া, মিষ্টি তেঁতুল, বারি-৪ আম, বরইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা স্থানীয় কৃষক, বাগানচাষি, অসহায় পরিবার ও আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও থানচি উপজেলা জোত মালিক সমিতির সভাপতি শৈবাথোয়াই মারমা স্থানীয়দের হাতে বৃক্ষচারা তুলে দেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষচারা বিতরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বৃক্ষচারা বিতরণকালে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মংহাইসিং মারমা, জোত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মংছোরী মারমা, সহ-সভাপতি মংসাগ্য মারমা, হ্লাচিংমং মেম্বার, মংপ্রুসে মারমাসহ বিভিন্ন সমিতির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির সংশ্লিষ্টরা জানান, বিতরণ করা চারাগুলো যদি যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করা হয়, তাহলে থানচির পাহাড়ি পরিবেশ আরও সবুজ, সমৃদ্ধ ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় বিদ্যুতের পরিবর্তে সোলার পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই উদ্যোগের ফলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমে যাবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেছেন। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরির জন্য ঢাকা শহরে নির্ধারিত কিছু কারখানা ঠিক করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
আবদুস সালাম বলেন, ওই সময়সীমার মধ্যে বিদ্যুতের পরিবর্তে সোলার পদ্ধতিতে রিকশাগুলো চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কম পড়তে পারে। তিনি যোগ করেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপও কমবে। সরকারের এই বিষয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তবে আবদুস সালাম সবাইকে জানান, তিন মাস বা দশকের কোনো সরকারের নেতৃত্বে পাঁচ মাসের মধ্যে ১৭ বছরের বা ৫০ বছরের সমস্যা সমাধান হবে না। তিনি বলেন, "ধৈর্য ধরেন, সরকারকে সময় দেন। ইনশাআল্লাহ সরকার সবকিছু করবে।"
তিনি আরও বলেন, আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে, মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দিতে হবে না। এর ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের পেশাগত কষ্টও কমবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, : বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা এবং নবজাতকের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন পাড়ার ১৯ জন শিক্ষার্থীকে দুই সপ্তাহব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।
বান্দরবান ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে, গর্ভাবস্থার ঝুঁকি ও বিপদ চিহ্ন শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন প্রাথমিক সহায়তা, নবজাতকের পরিচর্যা, বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান, সিপিআর, ক্যানুলা প্রয়োগ, স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান তারা নিজ নিজ পাড়া ও গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কাজে লাগাতে পারবেন।
আজ বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় তিনি প্রশিক্ষণটি সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য দুর্গম এলাকায় প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী, ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা, চিকিৎসক, প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাড়াভিত্তিক প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকার মা ও শিশুদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
তারা আরও জানান, পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়নে সেনাবাহিনী কাজ করছে। দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ