১১:০২ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হলের কক্ষে ব্যবহৃত ওয়াইফাই রাউটারে অনুমতিহীন প্রবেশ, নেটওয়ার্কের নাম পরিবর্তন করে ‘অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ’ শব্দ ব্যবহার এবং ডিভাইস ব্লক করে ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) লালন শাহ হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগীরা ওই হলের ৪০২ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে একই ওয়াইফাই রাউটারে অননুমোদিত প্রবেশ ও সেটিংস পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি অনুসন্ধান ও যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। তবে বর্তমানে একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
তাদের দাবি, গত এক মাস ধরে কক্ষটির ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস ধারাবাহিকভাবে ব্লক করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়াইফাই’র নাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধার পাশাপাশি মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ওয়াইফাই ব্যবহার করতে না পারায় তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা বা ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনে প্রয়োজনীয় অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বা তারও বেশি অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন ক্লাস, শিক্ষক-সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ, একাডেমিক উপকরণ সংগ্রহ, গবেষণা ও অন্যান্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঘটনাটি নিজেরাই যাচাই করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে কিছু স্ক্রিনশট ও কারিগরি তথ্য এসেছে। এর মধ্যে ডিভাইস নাম ও এমএসি এড্রেস-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। একটি ডিভাইসকে ৪০৩ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত ‘জিতু’ নামক এক শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করেছেন, শুধুমাত্র ডিভাইস নাম বা এমএসি এড্রেসের ভিত্তিতে তারা কাউকে দায়ী করছেন না। বরং সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের মালিকানা, রাউটারের সঙ্গে তার সংযোগ, এক্সেস হিস্টোরি এবং ওয়াইফাই সেটিংস পরিবর্তনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন এবং হলের ওয়াইফাই ও নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত কারিগরি দায়িত্বে থাকা টেকনিশিয়ান ‘জয়’-এর কাছে থাকা কারিগরি তথ্য, রাউটার-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং পূর্ববর্তী ও বর্তমান ঘটনার বিষয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ও জনসম্মুখে আসলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ‘সাব্বির’ কর্তৃক হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলেছেন এবং পৃথকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাব্বির হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কাউকে কোন হুমকি দেইনি। তাদের রাউটারকে নিয়ন্ত্রণ করছে আমি জানি না।’
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিতুকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এবিষয়ে লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি আবাসিক শিক্ষকদের সাথে এ বিষয়ে বসব এবং অপরাধীদের বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। পরবর্তীতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত সকলের সাথে আলোচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন