বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২০ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের নেতৃত্বে এবং সমন্বয়ে, দীর্ঘদিন আগে চুরি হওয়া স্মার্টফোনগুলো ফিরে পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার ডাকসু সভাকক্ষে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম শিক্ষার্থীদের হাতে উদ্ধার হওয়া মুঠোফোনগুলো তুলে দেন।
ডাকসু সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই তিন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মুঠোফোন দীর্ঘদিন আগে চুরি হয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে জানালে তিনি ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), রাঙামাটির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিবিড় সমন্বয় শুরু করেন। পুলিশের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তিগত তৎপরতায় ফোনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর প্রকৃত মালিকানা যাচাই-বাছাই শেষে আজ তা শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্মার্টফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব জায়গা থেকে আমাদেরকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে পদে পদে বাধা তৈরি করা হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক সংকট—সব ক্ষেত্রেই আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’
ডাকসুর কাজ নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেকে সমালোচনা করে বলতে চান—এটা কি ডাকসুর কাজ? শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রত্যাশা পূরণ করাই তো ডাকসুর কাজ। আর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা মেটাতে যা যা করা দরকার, আমরা ঠিক তা-ই করার চেষ্টা করছি। ফোনগুলো ফিরে পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখেছি, সেটিই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।’
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী টিউশনির টাকা জমিয়ে কষ্ট করে একটা ফোন কেনেন। কিন্তু অনেক সময় তা ছিনতাই বা চুরি হয়ে যায়। থানায় জিডি করলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি হয় না। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের এমন ভোগান্তি নিরসনে আমরা সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছি।’
দ্রুততম সময়ে ফোনগুলো ট্র্যাকিং ও উদ্ধারে সহায়তার জন্য ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির অধিনায়ক রেজাউল করিমসহ সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি।
রিজওয়ান মানসুরীর সঞ্চালনায় উক্ত মুঠোফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আহমেদ শাকিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার ফলে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত সৌদিগামী ও সংযোগকারী (ট্রানজিট) ১০৩টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভোগান্তির শিকার যাত্রীদের মধ্যে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে না পারা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ৪২টি ফ্লাইট রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে পরিচালিত ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইটও রয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, সালামএয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারছেন না। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারার কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা এবং ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।
সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান চলাচলে এই বিঘ্নের প্রভাব সরাসরি ও ট্রানজিট উভয় ধরনের ফ্লাইটেই পড়েছে। ফলে শুধুমাত্র সৌদিগামী যাত্রীরা নয়, বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থগিত ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর পরবর্তী ফ্লাইট সূচি ও বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীন বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, বাংলাদেশও চীনের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকায় চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন। পরে ঢাকার চীনা দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত জানায়।
অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেন, গত ৭৭ বছরে চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অর্জন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয়। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বাংলাদেশ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, ড. লিউ ইউইন উল্লেখ করেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীন পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীন, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাচায় থরে থরে ঝুলছে হলুদ, সবুজ আর ডোরাকাটা বর্ণিল তরমুজ। অসময়ে আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে রঙিন তরমুজ চাষ করে এলাকায় অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছেন নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের পূর্ব ডাঙাপাড়া গ্রামের প্রগতিশীল কৃষক ওমর আলী (৪৫)।
জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজস্ব ৩ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল 'কিং সুগার' ও 'সূর্য ডিম' জাতের প্রায় ৬ হাজার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৬০ দিন অতিক্রম করেছে। আর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই এই সুস্বাদু রঙিন তরমুজ বাজারে বাজারজাতকরণের উপযোগী হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় কৃষক ওমর আলী জানান, "পূর্বে আমি মূলত শসার চাষ করতাম। ইউটিউবে মাচায় রঙিন তরমুজ চাষের আধুনিক কৌশল দেখে ঢাকা ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করি। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার্বিক পরিচর্যায় আমার এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া ও ক্ষেতের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী প্রায় ১৮ হাজার কেজি ফলনের আশা করছেন। বাজারে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে সকল খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ৯ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে এবং সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ৬ লাখ টাকা নিট লাভ থাকবে।
অসময়ে উচ্চমূল্যের এই রঙিন তরমুজ চাষ দেখতে এবং পরামর্শ নিতে প্রতিদিন আশপাশের অনেক কৃষকই ওমর আলীর কৃষি জমিতে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রচলিত ফসলের বাইরে এই আধুনিক ও সুস্বাদু রঙিন তরমুজ চাষ উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ