মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫০ এম
কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার সুপরিচিত সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮) এবং হাইকমিশন।
এই সত্যায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম আবার শুরু হলো। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া বাজারটি খোলার ফলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে মালয়েশিয়া সরকার ওই সময় নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে।
দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর আবার বাজার খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার প্রথম বিদেশ সফর ছিল মালয়েশিয়ায়। সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হয়েছে। তবে দুই দেশের পক্ষ থেকে নতুন করে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি। শ্রমবাজার খুললেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় স্বচ্ছ ও নিরাপদ ব্যবস্থায় যেতে পারবেন কি না, নাকি তথ্যের ঘাটতি ও প্রক্রিয়ার জটিলতার সুযোগে আবারও দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী ও কথিত সিন্ডিকেট সক্রিয় হবে?
মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই তথ্য যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ এখনো জানেন না কিভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।
এ তথ্যের ঘাটতির সুযোগে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে।
ফলে সরকারি তথ্যের পরিবর্তে দালালচক্রের প্রচার অনেকের কাছে নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা না দিতে, টাকা পরিশোধ না করতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করাতে পরামর্শ দিয়েছে।
তবে ২৮ কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো কর্মী পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য ব্যয় এবং পরবর্তী ধাপ নিয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অতীতের অভিজ্ঞতায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে কর্মীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবারও বাজারে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সরকার নির্ধারিত ব্যয় এবং কর্মীদের প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে। বিশেষ ব্যবস্থায় বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখতে চান চাকরিপ্রত্যাশীরা।
তাদের বক্তব্য, সরকারি ব্যবস্থায় কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করা গেলে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব। কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে নানা অভিযোগে একাধিকবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। পরে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় আবার তা খুলেছে। এবারও বাজার খোলার পর পুরোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে ফের সংকট তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
বাংলাদেশ সরকার স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় কর্মী নির্বাচন ও প্রেরণের জন্য ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) চালু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় সরকারি ডাটাবেজ ব্যবহার করে কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী, প্রথমে বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন করার কথা। সেখানে উপযুক্ত কর্মী পাওয়া না গেলে সরকারের অনুমতি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কর্মী বাছাই করার বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতে এ বিধান পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি চাহিদাপত্র পাওয়ার আগেই কর্মী সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। ফলে নতুন করে শ্রমবাজার চালুর শুরুতেই আইনি কাঠামো ও সরকারি ডাটাবেজভিত্তিক কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এবারের শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ থাকে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আচরণ, অনিয়ম ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি প্রতিটি স্কুলে একটি করে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা ও নৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা যায়।
তিনি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি সচেতনতামূলক পোস্টে এই অভিমত প্রকাশ করেন। ফেসবুক পোস্টে এমপি মাজেদ বাবু উল্লেখ করেন, একজন শিক্ষকের কাছে একজন ছাত্রী তার কন্যাসমতুল্য। সমাজে একজন শিক্ষকের সার্বিক আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনুকরণীয় উদাহরণ হওয়া উচিত। কিন্তু বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ঘটনা ঘটলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আগের ও পরের তথ্য-প্রমাণ শনাক্ত করা সম্ভব। এমনকি প্রয়োজনভেদে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উন্মোচন ও প্রয়োজনীয় তথ্য বের করা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সংসদ সদস্য জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দপ্তরি ও আয়া নিয়োগে অবৈধ অর্থ লেনদেনের নানা অভিযোগ শোনা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাগজপত্রের অভাবে তা কাগজে-কলমে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে লিখিত প্রমাণ না থাকলেও প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বলে তিনি মনে করেন। এসব অনিয়ম ও অপকর্ম রোধে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি স্কুলে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বা সংশ্লিষ্টরা নির্ভয়ে যেকোনো অন্যায়ের কথা কর্তৃপক্ষকে জানাতে সক্ষম হবে।
এমপি মাজেদ বাবু এর আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পরিচালনায় কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার গুরুত্ব ব্যক্ত করেছিলেন। তার এই যুগোপযোগী দাবিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন শিক্ষকরা তাদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনে আরো সচেতন হবেন, অন্যদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। এই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীরা হাইওয়ে থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার সেল ও ছররা গুলি ছোঁড়ে, যার ফলে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী হিমেল নামের এক ব্যক্তির দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার পর হিমেলের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে পুলিশ, সংবাদকর্মীসহ আওয়ামী লীগের ১০০ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০০ থেকে ৫০০ অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করেন। উক্ত মামলায় পুলিশ শফিকুল ইসলামকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে।
শফিকুল ইসলাম আজগানা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি। তিনি চিতেশ্বরী শিকদারপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে। দুই চোখ অন্ধ হওয়া হিমেল মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুই চোখ অন্ধ হওয়া হিমেলের মা নাছিমা বেগমের দায়ের করা মামলার তদন্তে শফিকুল ইসলামের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুরে তাকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, হত্যার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লাশ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে মোজাফফর হোসেন পাহাড়ে নিয়ে যান।
তিনি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জানান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন নিজেই ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
তানভীর হাসান জোহা বলেন, মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (সাবেক) মতিউর রহমান তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমানের লাশ পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য। তবে তারা একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের লাশ একটি কবরে দাফন করেন।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেন এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর তার লাশ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার জন্য মতিউর রহমান তাকে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে সকাল ১০টার দিকে সৈনিকদের নিয়ে সার্কিট হাউসে যান মোজাফফর। জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে পাহাড়ে যান, কিন্তু তিনি লাশ পাহাড় থেকে ফেলেননি।
মোজাফফর বলেন, একজন ইমামকে ডেকে এনে তারা জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের লাশ একটি কবরে দাফন করেন। ইমামকে তারা বলেননি যে, এটি রাষ্ট্রপতির লাশ।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জানান, মোজাফফরের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালে দেশে এসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি আরো জানান, এর আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোজাফফর চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু কোনো কারণে পাচ্ছিলেন না। সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত তার দেখা করার ব্যবস্থা করেন।
মোজাফফরকে মিল্লাত বলেছিলেন, "একটা বিয়ে আছে, সেখানে শেখ হাসিনা আসছেন।" পরে সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন মোজাফফর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে মোজাফফর স্যালুট দেন। পরে তিনি জানতে চান, তিনি কী করবেন। তখন শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে যোগদান করার জন্য বলেন। শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণ করার পরামর্শও দেন। পরে মোজাফফর আত্মসমর্পণ করেন। সেনা সদর থেকে একটি চিঠিও যায়। তবে যাওয়ার পর কোনো কারণে মোজাফফরের যোগদান গ্রহণ হয়নি কিংবা দেরি হচ্ছিল। তখন মোজাফফর বাংলাদেশে সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যে ঢুকে পড়েন।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই মেজর মোজাফফর হোসেনকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি বসতবাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নারায়ানপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ৮নং ওয়ার্ডের জোহরপুর নরশিয়া গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে মো. এহুর (৪৭) সেমিপাকা বসতবাড়ির একটি ঘরে মজুদ করা একাধিক ককটেল একযোগে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে ঘরটি বিধস্ত হয়ে যায়। এসময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পদ্মার চরের ওই গ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ওই ঘরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ককটেলগুলো একযোগে বিস্ফোরিত হলে এলাকায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং কেউ আটক হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, ওই বাড়ির মালিক এহু মাছ ব্যবসায় জড়িত। ওই এলাকায় কয়েকদিন যাবৎ প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই গ্রুপের উত্তেজনা চলছিল। আব্দুর রশিদ কালু এবং বাঘা নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। এহু (যার বাড়িতে বিস্ফোরণ) বাঘা গ্রুপের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতির শঙ্কায় রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই উত্তেজনার কারণেই ককটেলগুলো মজুদ করা হয় যা বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও জানান চেয়ারম্যান।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. রবু বলেন, জোহরপুর মাঠপাড়া এলাকায় ভারতের বিলের পানি একটি খাঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশে পদ্মা নদীতে নামে। মৌসুমের এই সময় ওই খাঁড়িতে জাল দিয়ে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এখন খাঁড়িটি বাঘা-এহুর দখলেই রয়েছে। ওই খাঁড়ি দখলদারিত্বের উত্তেজনা থেকেও ককটেল মজুদের ঘটনা হতে পারে বলে জানান ইউপি সদস্য রবু। বর্তমানে এহুর বাড়ি তালা দেওয়া এবং বাড়িতে কেউ নেই বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক কারণে ওই ঘটনা ঘটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ