বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৪৪ পি.এম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যৌতুকের কারণে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় স্বামী আনোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার শাস্তি প্রদান করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় প্রদান করেন। আসামি আনোয়ার হোসেন এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানিয়েছেন, ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ি লম্বা পাড়া গ্রামে স্বামী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে স্ত্রীর মরদেহ, ইসমতারা বেগম, উদ্ধার করা হয়। যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে ইসমতারা বেগমকে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের জন্যই তিনি স্বামী আনোয়ার হোসেনের দ্বারা হত্যার শিকার হন। নিহতের ভাই মজনু মিয়া বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পর মামলায় ৬ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর ১৩ বছর ৭ মাস পর এই রায় ঘোষণা করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে একটি সামাজিক আন্দোলনের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছবি : বাসস
‘জলবায়ুর পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ - এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়েছে।
আজ সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মীর্জা মো. নাসির উদ্দীন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূর বখ্ত, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ফাহিদ হাসান এবং গ্রিন ভয়েসের চেয়ারম্যান রশিদ আলী।
সভায় বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। বক্তারা বৃক্ষরোপণ, নদী-খাল এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাসভা শেষে পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বগুড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় ও বগুড়া জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি নাগরিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের নিজেদের ঘর ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিজের পাড়া এবং মহল্লা পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই সামগ্রিকভাবে শহর, জেলা এবং পুরো দেশকে দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব।’
পরিবেশ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, ১৯৬৮ সালে সুইডেন সরকারের উদ্যোগে জাতিসংঘে চিঠি প্রেরণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি বৈশ্বিক আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে স্টকহোম সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি নিয়মিতভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে দূরদর্শী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ আঙিনায় অন্ততপক্ষে একটি করে হলেও ফলদ, বনজ বা ঔষধি গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানান তিনি। স্মরণ করিয়ে দেন যে একটি সবুজ গাছ আমাদের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান অক্সিজেন সরবরাহ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বগুড়া সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ও বিলাসী জীবনযাত্রার কারণে পাহাড় কাটা, নদী-সাগরের গতিপথ রুদ্ধ করা এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার ফলে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ঝড়, বন্যা ও দুর্ভিক্ষের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
পরিবেশ রক্ষায় তিনি প্রতিটি ঘরে ঘরে গাছ লাগানো, খাল খনন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) নিলুফা ইয়াছমিন এবং বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আসাদুজ্জামান।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সকলের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এআই খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বর্ধিত হচ্ছে। তাইওয়ান এই বিনিয়োগের ফলে ‘বুদ্বুদ’ বা অতিমূল্যায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ইয়াং চিন-লং বলেন, যদিও এআইয়ের প্রবৃদ্ধি বাস্তব, তবে অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আসন্ন পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাইওয়ানের অর্থনীতিতে বর্তমানে এআই খাত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। কিন্তু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যদি অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে দ্রুত সবকিছু সম্প্রসারণ করতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ‘এআই বুদ্বুদ’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়াং চিন-লং মন্তব্য করেন, ‘এআইয়ের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাস্তব। কিন্তু অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে অস্বাভাবিক হারে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের ফলে বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হতে পারে।’
গত জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে এআই খাতের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কীত মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে আলোচনা হয়, যদিও সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়। গভর্নরের মতে, প্রযুক্তি খাত শক্তিশালী, কিন্তু অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্প তুলনায় দুর্বল। এ কারণে সুদের হার না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তাইওয়ান বিশ্বের এআই সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটির শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদক। তারা এনভিডিয়া এবং অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য চিপ উৎপাদন করে। সম্প্রতি, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং তাইওয়ান সফর করে দেশটির এআই শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। এদিকে, টিএসএমসি গত মাসে জানায়, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও এআই চিপের চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে এবং গ্রাহকদের আস্থা অব্যাহত আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে আদালত সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে।
পৃথিবীর সর্বোচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার দেওয়ালায় এই দণ্ডকে বহাল রাখে।
মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির আগে ইউন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা বাধাগ্রস্ত করেছিলেন। এর সঙ্গেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। সংসদ সামরিক আইন ব্যবস্থাকে বাতিল করার পর, নিজের গ্রেফতার ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরকে ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই সংবাদটি প্রচার করেছে।
ক্ষমতাচ্যুত এই সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলার জন্য তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। ইউন দাবি করেছেন, তার ওই সিদ্ধান্ত ছিল জনস্বার্থে নেওয়া।
সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলায় অভিযোগ ছিল, সামরিক আইন ঘোষণার ঠিক আগে তিনি নির্বাচিত কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে মন্ত্রিসভার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছেন।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া সামরিক আইন সংক্রান্ত আদেশ তৈরি করা, তা পরে ধ্বংস করা, বিদেশি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া, এবং সেনাবাহিনীর এক কমান্ডারকে নিরাপদ সামরিক ফোনের তথ্য মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও সম্বলিত।
রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় ইউনের ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল।
গত জানুয়ারিতে নিম্ন আদালত অধিকাংশ অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার রায় দেয়।
এপ্রিল মাসে আপিল আদালত ওই রায় বহাল রাখার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করেন।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও ইউনের আইনজীবী—উভয় পক্ষেই সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই চূড়ান্ত।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ে সর্বোচ্চ আদালতের একজন বিচারক বলেন, সব আপিল খারিজ করা হয়েছে। কারণ নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো আইনি ত্রুটি ছিল না।
ইউনের আইনজীবীরা এ রায়ে ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াই সর্বোচ্চ আদালত মামলার নিষ্পত্তি করেছে।
তারা জানান, সাংবিধানিক ভিত্তিতে এই রায় চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হবে।
রাজনৈতিক সংকট- ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গভীর রাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইউন সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন এবং বেসামরিক শাসন স্থগিত করেন। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়।
তবে জরুরি অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা দ্রুত ভোট দিয়ে সামরিক আইন বাতিল করে, ফলে তা মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য কার্যকর ছিল।
ইউনের পদক্ষেপের পরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রসহ দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাও এই ঘটনায় বিস্মিত হন।
পৃথক আরেক মামলায়, সামরিক আইন জারির আগে সংকট 'তৈরি' করার উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর কারণে ইউনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অন্য একটি আদালত।
ইউন বরাবরই দাবি করে আসছেন, সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত তিনি ‘শুধুমাত্র দেশের স্বার্থেই’ নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালেও তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে’ নির্মূল করা এবং উত্তর কোরিয়া থেকে আসা বলে তার দাবি করা হুমকি মোকাবেলার জন্য সামরিক আইন প্রয়োজন ছিল।
সামরিক আইন জারির উদ্যোগের কারণে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইউনকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। তার পরবর্তী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্রেটিক পার্টির লি জে মিয়ং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ