ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জলবায়ু সংকটের দায় ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে তরুণদের কণ্ঠ সোচ্চার করার আহ্বান


জলবায়ু সংকটের দায় ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে তরুণদের কণ্ঠ সোচ্চার করার আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে বিশ্ব দরবারে তরুণদের কণ্ঠ সোচ্চার করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও বিশিষ্টজনেরা।

তারা উল্লেখ করেছেন, উন্নত বিশ্বের ভোগবাদী জীবনযাপন এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ু সংকট সৃষ্টি হলেও এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও প্রান্তিক দেশগুলো। এই সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সংগঠিত হয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ক্লাইমেট কোয়েশ্চেন কনফারেন্স-২০২৬’ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বার্তা আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আকমল হোসেন। উদ্বোধন করেন নারী নেত্রী ও লেখক কাজী সুফিয়া আখতার।

আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর মনোনীত

উদ্বোধনী বক্তব্যে কাজী সুফিয়া আখতার বলেন, বিশ্ব দরবারে জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছে প্রশ্ন উত্থাপন ও দাবি আদায়ের জন্য তরুণদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। উন্নত বিশ্বের কর্মকাণ্ড পৃথিবীকে জলবায়ু সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলো এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। বিশেষ করে নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সব জায়গায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

কৃষি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রেজাউল করিম সিদ্দিক বলেন, তরুণদের আরও বেশি প্রশ্ন করতে শিখতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী তরুণদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ইউনেস্কো চেয়ার ও সেন্টার ফর সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ক্লাইমেটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। এ ধরনের সম্মেলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারেক চৌধুরী সোহেল, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী, স্কাইল্যান্ড রিক্রুটমেন্ট সলিউশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ব্রাত্য আমীন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানইয়া নাহার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানজিল আবেদিন, উন্নয়নকর্মী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নিকিতা নন্দিনী।

আরও পড়ুন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন বাড়ানো গেলে সমস্যা সমাধান সম্ভব: জামায়াত আমির

জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও দেশি জাতের বীজ বিতরণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয়। পরে আদিবাসী ও বাঙালি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন তানজির রহমান ভূঁইয়া। এরপর জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক দুটি ধারণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা হয়। সম্মেলনের একপর্যায়ে মানিকগঞ্জ থেকে আসা বাউলশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।

আয়োজকেরা জানান, জলবায়ু সংকটের জন্য প্রকৃতপক্ষে কারা দায়ী এবং এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের তরুণ ও যুবসমাজ কী ভূমিকা রাখতে পারে—এসব প্রশ্ন সামনে রেখেই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে আরো বড় পরিসরে ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ ক্লাইমেট কোয়েশ্চেন কনফারেন্স-২০২৭’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের বার্ষিক সদস্য(রুকন) সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের বার্ষিক সদস্য(রুকন) সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে

আজ(৩১ অক্টোবর) শনিবার ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে বার্ষিক সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর
অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান এর
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের অন্যতম সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক
অধ্যক্ষ মাও:মমতাজউদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জননেতা দেলাওয়ার হোসেন, অঞ্চল টিমের সদস্য ও
দিনাজপুর জেলার সাবেক আমীর
মো: আনোয়ারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও জেলার প্রাক্তন আমীর ও অঞ্চল টিমের অন্যতম সদস্য জননেতা মাওলানা আব্দুল হাকিম।।

প্রধান অতিথি বলেন-
ইসলামী আদোলনের পাশাপাশিএকটি
সু-শৃংখল ও গণতান্ত্রিক নিঁখুত চর্চার
রাজনৈতিক সংগঠনের নাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গঠনতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে ও
আবশ্যিকতায় আজ (৩১ অক্টোবর)
২০২৭-২৮ কার্যকালের ঠাকুরগাঁও
জেলা আমীর নির্বাচনে প্রত্যক্ষ গোপন
ব্যালটে ভোট প্রদান করেন সদস্য গণ।

এ সম্মেলনে সর্বমোট ডেলিগেট বা ভোটার
সংখ্যা ৭৯৫ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৪৪৩ জন
ও মহিলা বোন ৩৫২ জন।

সদ্য ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন সম্পর্কে
তিনি বলেন- মনোবল না ভেংগে অতীতের
চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি অর্জনের লক্ষ্যে এখন
থেকেই আবার কাজ শুরু করার
নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি স্থানীয় নির্বাচনে এখন থেকেই
পরিকল্পনা গ্রহণ ও সে অনুযায়ী কর্মসূচী
ও পদক্ষেপ নিতে আহবান জানান।

জনাব দেলাওয়ার হোসেন বলেন-
সদ্য উপনির্বাচনে আপনারা যেভাবে মাঠে-ময়দানে
যে মেধা,শ্রম-ঘাম ও অর্থ খরচ করেছেন
তাঁর জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করছি। তিনি বলেন-
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার খবর পাওয়া
মাত্র আমি ছুটে যাচ্ছি এবং অব্যাহত
রাখবো,ইনশাআল্লাহ্।
আপনার আমাকে সার্বক্ষনিক এলাকার
সমস্যা ও সম্ভাবনা জানাবেন। ভোট ছিনতাইকারী
ও ক্যাংগারু নির্বাচন কমিশন আমাকে
পরাজিত ঘোষনা করলেও আমি মাঠে ই
থাকবো -এ ঘোষনা প্রদান করছি।

সভাপতির বক্তব্যে মরহুম মাওলানা ইয়াকুব
খাঁন ও মাওলানা রজন আলীর জন্য
স্মৃতিচারণ ও দোয়ার আহবান করে
সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

উল্লেখ্য যে ভোটের ফলাফল কেন্দ্রীয়
নির্বাহী পরিষদের মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত
জেলা আমীরের নাম ঘোষনা
ও শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান কেন্দ্রীয়
ইউনিটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন
করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন শুধুমাত্র সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংশোধনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ডাকা হয়েছে। তিনি বলেন, "আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি।" কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।

রিজভী বলেন, "আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী?" বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।

স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাকিমপুরের দুই কলেজের তিন পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


হাকিমপুরের দুই কলেজের তিন পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী তিন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীর সকলেই অকৃতকার্য হওয়ায় উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাদান ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এবারে একজন ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিক শাখায় মোট আটজন শিক্ষক কর্মরত আছেন।

অন্যদিকে, বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে কেউই পাস করতে পারেননি। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাসসহ মানবিক বিভাগের মোট ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধানদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি বা বেতন-ভাতা চালু হয়নি। এ কারণে অভিযোগ উঠেছে যে শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করেন না। নামমাত্র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও অনেকেই অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিয়া জানান, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমোদন পায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক শাখায় মোট আটজন শিক্ষক যোগদান করেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সম্প্রতি শিক্ষকদের অনেকেই আর নিয়মিত পাঠদান করতে আসেন না।

অন্যদিকে, বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেন, এবারে মানবিক বিভাগ থেকে দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গিয়েছিল। এ কারণে এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার প্রামাণিক বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সকলেই অকৃতকার্য হয়েছেন, যা হতাশাজনক। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গর্ভবতী নারীদের এবং তাদের অনাগত শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, উচ্চ রক্তচাপ এবং নির্ধারিত সময়ের আগে সন্তান প্রসব বা অপরিণত শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের প্রভাবে অপরিণত সন্তান জন্মের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক গবেষণা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ নির্দেশ করছে যে, বসবাসের এলাকার গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে পরবর্তীতে অপরিণত সন্তান প্রসবের আশঙ্কা ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা তাপপ্রবাহের পরবর্তী সপ্তাহে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত গরমের ফলে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো গুরুতর গর্ভকালীন জটিলতা, জন্মগত ত্রুটি এবং প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। চীনে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, অস্বাভাবিক গরমের কারণে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মেক্সিকোর ৮০ হাজার জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, সন্তান জন্মের আগের চার সপ্তাহে তাপপ্রবাহের উপস্থিতি অপরিণত শিশু জন্মের হার গড়ে প্রায় ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে।

গর্ভবতী নারীদের জন্য এই ঝুঁকি বেশি থাকে বেশি বয়সি, দরিদ্র, ধূমপায়ী এবং পূর্বে শারীরিক জটিলতা থাকা নারীদের ক্ষেত্রে। জোহানেসবার্গের গবেষক ও চিকিৎসক দর্শনিকা লাখুর মতো অনেক নারীও তীব্র গরমের কারণে যমজ সন্তান নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়ার মতো জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে তাপপ্রবাহের সময় গর্ভবতী নারীদের জরুরি বিভাগে যাওয়ার, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিংবা নবজাতকদের আইসিইউতে নেওয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, শরীরকে ঠান্ডা রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত গরমে মায়ের শরীর জরায়ু বা প্লাসেন্টায় রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যা ভ্রূণের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। তাপমাত্রা হরমোনের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে জিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অতিরিক্ত গরম জন্মগত ত্রুটি ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ালেও শেষের দিকে তা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য চিকিৎসকেরা গর্ভবতী নারীদের অতিরিক্ত গরম থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার, পর্যাপ্ত পানি পান করার, ঢিলেঢালা পোশাক পরার এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতাই নয়, বরং গর্ভাবস্থায় নারীদের ছুটির সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি ও শীতলীকরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি নীতিমালায় জরুরি পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই অনাগত শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সূত্র: জিও টিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%