শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৫২ পি.এম
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির পরিকল্পনা ছিল শাকিব খান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সোলজার’। কিন্তু শুটিংয়ের মাত্র নয় দিন বাকি থাকলেও কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় ছবিটির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে শাকিবভক্তদের জন্য সিনেমাটি দেখার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে নির্মাতা সাবিক ফাহাদ একটি আড়াই মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করে ডিসেম্বরে সিনেমাটির মুক্তির প্রাথমিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছবির শুটিং শেষ করতে পারেনি।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সময় শুটিংয়ের সময়সূচি চূড়ান্ত করার পরও বাকি অংশের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে শাকিব ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঈদুল আজহায় ‘রকস্টার’ মুক্তির পর ‘সোলজার’-এর কাজ শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি।
এরপর শাকিব ব্যক্তিগত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। প্রায় দুই মাস সেখানে কাটানোর পর গত আগস্টে দেশে ফিরে ‘সোলজার’-এর বাকি অংশের শুটিং শেষ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অভিনেতাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করাতে পারেনি।
শুটিং বারবার পিছিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টরা পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে শাকিবের ম্যানেজার মনির জামান গণমাধ্যমে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে শাকিবের কোনো ছবির শুটিং নিয়ে এতটা গড়িমসি হয়নি। বারবার শুটিংয়ের শিডিউল নেওয়া হয়েছে, এরপরও পরিচালক শুটিং শুরু করতে পারেননি। যে কয়বার শিডিউল নেওয়া হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে আরামসে দুই–তিন সিনেমার শুটিং শেষ করা সম্ভব হতো। কিন্তু তারা পারেননি।’
এদিকে শুটিং আটকে থাকার পেছনে শিল্পী ও কলাকুশলীদের বকেয়া সম্মানীর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এ অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছেন সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক মৌমিতা হোসাইন। পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সম্মানীর যে কথা উঠেছে, এটা তো ভুল। শিল্পী–কলাকুশলীদের সম্মানী তো ছবির শুটিং শেষ হওয়ার আগে পরিশোধের বিষয় নয়। এখনো তো সিনেমার শুটিংই শেষ হয়নি।’
তার ভাষ্যে, খুব শিগগির শুটিং শেষ করে নতুন টিজারের মাধ্যমে মুক্তির তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন শাকিব খান। চলতি মাসের শেষ দিকে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তবে দেশে ফিরেই আগামী বছরের ঈদুল ফিতরের সিনেমা ‘নিঃস্ব’-এর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন তিনি। নভেম্বরের শুরু থেকে ছবিটির শুটিং শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ঈদুল আজহার সিনেমা ‘মহব্বত’-এর শুটিংয়েও ব্যস্ত হওয়ার কথা তার।
এমন ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে ‘সোলজার’-এর বাকি নয় দিনের শুটিং কবে শেষ হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডিসেম্বরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
দেশপ্রেম ও সমাজের ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘সোলজার’। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন সাকিব ফাহাদ। প্রযোজনায় রয়েছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড। এতে শাকিব খানের বিপরীতে বড় পর্দায় দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে। আরও অভিনয় করছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী ও এবিএম সুমন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে চলমান হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দেওয়া বিবৃতিকে সৌদি আরব স্বাগত জানিয়েছে। দেশটি নিজেদের নিরাপত্তা, নাগরিকদের এবং দেশটিতে বসবাসরত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থানকে স্বাগত জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনার বিরুদ্ধে হুথিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।
এছাড়া, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য হুথিদের অব্যাহত হুমকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে ২০১৫ সালে গৃহীত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২১৬ নম্বর প্রস্তাবসহ পরবর্তী প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সৌদি আরব। পাশাপাশি, হুথিদের কাছে অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন হামলা মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সংহতির প্রশংসা করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে, নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের বৈধ অধিকার রয়েছে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দেশটির সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং সম্প্রতি চলমান আক্রমণকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ‘অন্যায্য ও মানবতাহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা কোনো শক্তির কাছে তার দেশ কখনো নতিস্বীকার করবে না।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত জীববৈচিত্র্য বিষয়ক বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনের (লিডার্স সামিট অন বায়োডাইভারসিটি) ফাঁকে তিনি জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠককালে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নীতির বিরুদ্ধে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির সূত্রে জানা যায়, পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা মানবিক কাঠামোর বাইরে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিচালিত তাদের হামলা বা আক্রমণগুলো সম্পূর্ণ অন্যায্য ও অমানবিক।
পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তার দেশের বিরুদ্ধে যে বিধ্বংসী প্রচারণা চলছে, সেগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেন।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরান সবসময়ই যেকোনো সংকট নিরসনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে প্রস্তুত ছিল এবং এখনও রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষরা যদি মনে করে যে শক্তি প্রদর্শন বা চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। জোরজবরদস্তি বা শক্তির মুখে ইরান কখনই মাথা নত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ওড়িশা রাজ্যের আদানি গোষ্ঠীর একটি বক্সাইট খনি প্রকল্পের জন্য আদিবাসীদের জমি ব্যবহারের সম্মতি নিতে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শত শত আদিবাসীর স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ জাল করে জমি ও বনভূমি ব্যবহারের অনুমতিপত্র তৈরি করা হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তি ও দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী মানুষের আঙুলের ছাপও এসব নথিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী গৌতম আদানির মালিকানাধীন কলিঙ্গ অ্যালুমিনা লিমিটেড প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের এই খনি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, আদিবাসীদের বনভূমি অন্য কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রামসভার অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্যের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন।
প্রকল্পের পক্ষে তৈরি নথিতে গ্রামের প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দার সম্মতি দেখানো হলেও স্থানীয় আদিবাসীদের দাবি, অধিকাংশ স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ জাল। আদানির প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, গত বছরের ৯ অক্টোবর বালদা ও বান্নুরে আয়োজিত গ্রাম পরিষদ সভাগুলোর সময় প্রায় ৬০০ জন আদিবাসীর স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সভায় অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন যে, তারা এই খনি প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন।
বান্নুরের এক কৃষক মাধব কুন্তিলি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল, খনির অনুমতি দেওয়া হলে গ্রামে রাস্তাঘাট তৈরি হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানির সংযোগ আসবে এবং একটি স্কুল নির্মাণ করা হবে।”
কোরাপুট ভারতের অন্যতম অনুন্নত জেলা, তাই এ ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রায়শই মানুষের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কুন্তিলি জানান, সেখানে একটি নথিপত্র সবার কাছে ঘোরানো হচ্ছিল এবং তাতে স্বাক্ষর চাওয়া হচ্ছিল।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “আমি বললাম, যদি বনভূমিকে অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে আমি এতে স্বাক্ষর করব না। তখন তারা আমার কাছ থেকে কাগজটি নিয়ে নিল।”
বালদা ও বান্নুর এলাকায় আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলা অনেক গ্রামবাসী জানিয়েছেন যে, কোনো এক প্রস্তাবনায় নিজেদের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ দেখে তারা হতবাক হয়ে গেছেন।
রামা হানতাল তার মরিচা ধরা টিন ও কাঠের তৈরি কুঁড়েঘরের দরজার পাশে নিশ্চল হয়ে বসেছিলেন। ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বেশ কয়েক বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন।
তার পুত্রবধূ চন্দ্রমা হানতাল বলেন, “তার পক্ষে সভায় উপস্থিত হওয়া বা স্বাক্ষর করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।”
যদিও সম্মতিপত্রে ওড়িশার সরকারি ভাষা—ওড়িয়া ভাষায় হানতালের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দেখানো হয়েছে, কিন্তু চন্দ্রমা সেখানে তার (রামা হানতালের) আঙুলের ছাপ দেখতে পান। তিনি নিজেও ওই সভায় উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় ‘গুরুবারি খারাস’ নামে তিনজন ব্যক্তির নাম রয়েছে—যাদের আঙুলের ছাপ খনি প্রকল্পের সমর্থনে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বালদা গ্রামের বাসিন্দারা কেবল দুজন ‘গুরুবারি’-কে খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ৩ কিলোমিটার দূরে থাকেন, যিনি সভায় উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যজন একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন, কিন্তু গ্রাম পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার অনেক আগেই তিনি মারা গেছেন।
তার ছেলে সহদেব প্রশ্ন করেন, “আমার মা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন। আট মাস পর তারা কীভাবে তার উপস্থিতি ও স্বাক্ষর জাল করল?” স্বাভাবিক কারণে মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৭৫ বছর।
প্রথম ‘গুরুবারি’-এর পরিবারের আরও দুজন ব্যক্তির নাম স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছে। তাদের একজন হলেন তার স্বামী, যিনি শয্যাশায়ী; গ্রাম পরিষদের সভার তিন মাস আগে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অন্যজন হলেন তার ভাতিজা। তারা দুজনেই ৯ অক্টোবরের সভায় উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
তৃতীয় ‘গুরুবারি’-এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আলজাজিরা ২০ জনেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং বালদা ও বান্নুর গ্রামের নথিপত্র যাচাই করেছে। তবে প্রস্তাবনায় স্বাক্ষরকারী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৬৭ জনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
বান্নুর গ্রামে অন্তত তিনজন মৃত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়েছে। নথিপত্রে সম্মতি প্রদানকারী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের স্বজনরা মারা গেছেন।
বান্নুরের প্রস্তাবনায় ১০৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা সানাই আলাং-এর ৩৫ বছর বয়সী ছেলে নকুল আলাং বলেন, “আমার মা চার বছর আগেই মারা গেছেন।” নকুলের স্বাক্ষরটি ওড়িয়া ভাষায় দেওয়া হয়েছে, অথচ তিনি বলছেন যে সেই সময়ে তিনি বিশাখাপত্তনমে একটি নির্মাণাধীন জায়গায় কাজ করছিলেন। বিশাখাপত্তনম হলো ওড়িশার প্রতিবেশী রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশের একটি উপকূলীয় শহর, যা কোরাপুট থেকে ১৭০ কিলোমিটার (১০৫ মাইল) দূরে অবস্থিত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নাম ও স্বাক্ষর কে দিয়েছে, তা আমি জানি না।’
বলদা গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, তার মা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন। অথচ মৃত্যুর প্রায় আট মাস পর অনুষ্ঠিত একটি সভার নথিতে তার মায়ের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি অন্য কাজের কথা বলে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরে সেসব কাগজ খনি প্রকল্পের সম্মতিপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দুটি গ্রামের প্রধানও দাবি করেছেন, এ ধরনের কোনো বৈধ সভা বা স্বাক্ষর সংগ্রহের ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ সম্মতি গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই দ্রুত আদানি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠানটিকে বনভূমি ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে জমি হারানোর পাশাপাশি নিজেদের পবিত্র পাহাড় ও বনাঞ্চল ধ্বংসের আশঙ্কা করছেন আদিবাসীরা। এ নিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আলজাজিরা এ বিষয়ে আদানি গোষ্ঠী ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের কোনো মন্তব্য পায়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় আদিবাসীরা জানিয়েছেন, নিজেদের পূর্বপুরুষের জমি ও পবিত্র বনভূমি রক্ষায় তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের সময়কালীন স্বাস্থ্যখাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বরাদ্দকৃত স্বাস্থ্য বাজেটের প্রতিটি পয়সা জনগণের সেবায় স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হবে, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও মেডিকেল কলেজের ৩২তম ডিএনএমসি ডে-তে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির কোনো আলামত পাওয়া গেলে—যিনি যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোন না কেন—আমাদের সরকার বা প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রশ্রয় দেবেন না; তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ড. মুহিত বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালে দেশের স্বাস্থ্যখাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এমনকি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিতে টানা ১২ বছর কোনো আয়কর প্রদান করা হয়নি, সেই অর্থও লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকার ও নতুন গভর্নিং বডি এসে এখন সেই পুঞ্জীভূত দায় শোধ করছে।
দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোনো খাতেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রদান করে এম এ মুহিত বলেন, চব্বিশের গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তনের পথ ধরেই সরকার স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠন করছে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতে যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটি পয়সা নতুন ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ এবং সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কাছে বিনামূল্যে ওষুধ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যয় করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ