ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হুথিদের হামলার নিন্দা জানানোয় জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাল সৌদি আরব


হুথিদের হামলার নিন্দা জানানোয় জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাল সৌদি আরব

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে চলমান হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দেওয়া বিবৃতিকে সৌদি আরব স্বাগত জানিয়েছে। দেশটি নিজেদের নিরাপত্তা, নাগরিকদের এবং দেশটিতে বসবাসরত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থানকে স্বাগত জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনার বিরুদ্ধে হুথিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।

এছাড়া, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য হুথিদের অব্যাহত হুমকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

আরও পড়ুন: বিতর্কের জেরে প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

বিবৃতিতে ২০১৫ সালে গৃহীত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২১৬ নম্বর প্রস্তাবসহ পরবর্তী প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সৌদি আরব। পাশাপাশি, হুথিদের কাছে অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন হামলা মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সংহতির প্রশংসা করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে, নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের বৈধ অধিকার রয়েছে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দেশটির সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাত দশক পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সভাপতি হলেন পাকিস্তানের আহাদ খান চিমা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমা শক্তির কাছে নতিস্বীকার করবে না: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


পশ্চিমা শক্তির কাছে নতিস্বীকার করবে না: ইরান

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং সম্প্রতি চলমান আক্রমণকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ‘অন্যায্য ও মানবতাহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা কোনো শক্তির কাছে তার দেশ কখনো নতিস্বীকার করবে না।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত জীববৈচিত্র্য বিষয়ক বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনের (লিডার্স সামিট অন বায়োডাইভারসিটি) ফাঁকে তিনি জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠককালে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নীতির বিরুদ্ধে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির সূত্রে জানা যায়, পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা মানবিক কাঠামোর বাইরে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিচালিত তাদের হামলা বা আক্রমণগুলো সম্পূর্ণ অন্যায্য ও অমানবিক।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তার দেশের বিরুদ্ধে যে বিধ্বংসী প্রচারণা চলছে, সেগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেন।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরান সবসময়ই যেকোনো সংকট নিরসনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে প্রস্তুত ছিল এবং এখনও রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষরা যদি মনে করে যে শক্তি প্রদর্শন বা চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। জোরজবরদস্তি বা শক্তির মুখে ইরান কখনই মাথা নত করবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদানির প্রকল্পে আদিবাসীদের জমি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ পি.এম


আদানির প্রকল্পে আদিবাসীদের জমি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের আদানি গোষ্ঠীর একটি বক্সাইট খনি প্রকল্পের জন্য আদিবাসীদের জমি ব্যবহারের সম্মতি নিতে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শত শত আদিবাসীর স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ জাল করে জমি ও বনভূমি ব্যবহারের অনুমতিপত্র তৈরি করা হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তি ও দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী মানুষের আঙুলের ছাপও এসব নথিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী গৌতম আদানির মালিকানাধীন কলিঙ্গ অ্যালুমিনা লিমিটেড প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের এই খনি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, আদিবাসীদের বনভূমি অন্য কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রামসভার অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্যের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন।

প্রকল্পের পক্ষে তৈরি নথিতে গ্রামের প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দার সম্মতি দেখানো হলেও স্থানীয় আদিবাসীদের দাবি, অধিকাংশ স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ জাল। আদানির প্রকল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, গত বছরের ৯ অক্টোবর বালদা ও বান্নুরে আয়োজিত গ্রাম পরিষদ সভাগুলোর সময় প্রায় ৬০০ জন আদিবাসীর স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সভায় অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন যে, তারা এই খনি প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন।

বান্নুরের এক কৃষক মাধব কুন্তিলি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল, খনির অনুমতি দেওয়া হলে গ্রামে রাস্তাঘাট তৈরি হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানির সংযোগ আসবে এবং একটি স্কুল নির্মাণ করা হবে।”

কোরাপুট ভারতের অন্যতম অনুন্নত জেলা, তাই এ ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রায়শই মানুষের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। কুন্তিলি জানান, সেখানে একটি নথিপত্র সবার কাছে ঘোরানো হচ্ছিল এবং তাতে স্বাক্ষর চাওয়া হচ্ছিল।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “আমি বললাম, যদি বনভূমিকে অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে আমি এতে স্বাক্ষর করব না। তখন তারা আমার কাছ থেকে কাগজটি নিয়ে নিল।”

বালদা ও বান্নুর এলাকায় আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলা অনেক গ্রামবাসী জানিয়েছেন যে, কোনো এক প্রস্তাবনায় নিজেদের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ দেখে তারা হতবাক হয়ে গেছেন।

রামা হানতাল তার মরিচা ধরা টিন ও কাঠের তৈরি কুঁড়েঘরের দরজার পাশে নিশ্চল হয়ে বসেছিলেন। ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বেশ কয়েক বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন।

তার পুত্রবধূ চন্দ্রমা হানতাল বলেন, “তার পক্ষে সভায় উপস্থিত হওয়া বা স্বাক্ষর করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।”

যদিও সম্মতিপত্রে ওড়িশার সরকারি ভাষা—ওড়িয়া ভাষায় হানতালের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দেখানো হয়েছে, কিন্তু চন্দ্রমা সেখানে তার (রামা হানতালের) আঙুলের ছাপ দেখতে পান। তিনি নিজেও ওই সভায় উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় ‘গুরুবারি খারাস’ নামে তিনজন ব্যক্তির নাম রয়েছে—যাদের আঙুলের ছাপ খনি প্রকল্পের সমর্থনে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বালদা গ্রামের বাসিন্দারা কেবল দুজন ‘গুরুবারি’-কে খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ৩ কিলোমিটার দূরে থাকেন, যিনি সভায় উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যজন একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন, কিন্তু গ্রাম পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার অনেক আগেই তিনি মারা গেছেন।

তার ছেলে সহদেব প্রশ্ন করেন, “আমার মা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন। আট মাস পর তারা কীভাবে তার উপস্থিতি ও স্বাক্ষর জাল করল?” স্বাভাবিক কারণে মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৭৫ বছর।

প্রথম ‘গুরুবারি’-এর পরিবারের আরও দুজন ব্যক্তির নাম স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছে। তাদের একজন হলেন তার স্বামী, যিনি শয্যাশায়ী; গ্রাম পরিষদের সভার তিন মাস আগে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অন্যজন হলেন তার ভাতিজা। তারা দুজনেই ৯ অক্টোবরের সভায় উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

তৃতীয় ‘গুরুবারি’-এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আলজাজিরা ২০ জনেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং বালদা ও বান্নুর গ্রামের নথিপত্র যাচাই করেছে। তবে প্রস্তাবনায় স্বাক্ষরকারী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৬৭ জনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

বান্নুর গ্রামে অন্তত তিনজন মৃত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়েছে। নথিপত্রে সম্মতি প্রদানকারী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের স্বজনরা মারা গেছেন।

বান্নুরের প্রস্তাবনায় ১০৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা সানাই আলাং-এর ৩৫ বছর বয়সী ছেলে নকুল আলাং বলেন, “আমার মা চার বছর আগেই মারা গেছেন।” নকুলের স্বাক্ষরটি ওড়িয়া ভাষায় দেওয়া হয়েছে, অথচ তিনি বলছেন যে সেই সময়ে তিনি বিশাখাপত্তনমে একটি নির্মাণাধীন জায়গায় কাজ করছিলেন। বিশাখাপত্তনম হলো ওড়িশার প্রতিবেশী রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশের একটি উপকূলীয় শহর, যা কোরাপুট থেকে ১৭০ কিলোমিটার (১০৫ মাইল) দূরে অবস্থিত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নাম ও স্বাক্ষর কে দিয়েছে, তা আমি জানি না।’

বলদা গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, তার মা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন। অথচ মৃত্যুর প্রায় আট মাস পর অনুষ্ঠিত একটি সভার নথিতে তার মায়ের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি অন্য কাজের কথা বলে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরে সেসব কাগজ খনি প্রকল্পের সম্মতিপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দুটি গ্রামের প্রধানও দাবি করেছেন, এ ধরনের কোনো বৈধ সভা বা স্বাক্ষর সংগ্রহের ঘটনা ঘটেনি।

অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ সম্মতি গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই দ্রুত আদানি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠানটিকে বনভূমি ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে জমি হারানোর পাশাপাশি নিজেদের পবিত্র পাহাড় ও বনাঞ্চল ধ্বংসের আশঙ্কা করছেন আদিবাসীরা। এ নিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

আলজাজিরা এ বিষয়ে আদানি গোষ্ঠী ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের কোনো মন্তব্য পায়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় আদিবাসীরা জানিয়েছেন, নিজেদের পূর্বপুরুষের জমি ও পবিত্র বনভূমি রক্ষায় তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ পি.এম


দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের সময়কালীন স্বাস্থ্যখাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বরাদ্দকৃত স্বাস্থ্য বাজেটের প্রতিটি পয়সা জনগণের সেবায় স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হবে, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও মেডিকেল কলেজের ৩২তম ডিএনএমসি ডে-তে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির কোনো আলামত পাওয়া গেলে—যিনি যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোন না কেন—আমাদের সরকার বা প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রশ্রয় দেবেন না; তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাস্থ্যখাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ড. মুহিত বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালে দেশের স্বাস্থ্যখাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এমনকি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিতে টানা ১২ বছর কোনো আয়কর প্রদান করা হয়নি, সেই অর্থও লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকার ও নতুন গভর্নিং বডি এসে এখন সেই পুঞ্জীভূত দায় শোধ করছে।

দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোনো খাতেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রদান করে এম এ মুহিত বলেন, চব্বিশের গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তনের পথ ধরেই সরকার স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠন করছে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতে যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটি পয়সা নতুন ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ এবং সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কাছে বিনামূল্যে ওষুধ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যয় করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীদের প্রতি অশালীনতা ও হেনস্থার বিরুদ্ধে ‘নো মোর সাইলেন্স’ প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


নারীদের প্রতি অশালীনতা ও হেনস্থার বিরুদ্ধে ‘নো মোর সাইলেন্স’ প্রতিবাদ

ডিসি কমিক্সের একটি জাতির নাম এমাজনিয়া। এই জাতি সম্পূর্ণরূপে নারীদের দ্বারা গঠিত। দেবতাদের বর favor তাদের জন্ম এবং বড় হওয়া হয়, তাই তাদের জন্ম ও সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য পুরুষের প্রয়োজন হয় না। তারা নিজেদের দেশে পুরুষের অনুপ্রবেশ মেনে নেয় না। তাদের অভিযোগ, পুরুষরা ধ্বংসাত্মক এবং ঘৃণাজীবী।

এটি রূপকথার গল্পের মতো মনে হলেও বাস্তবে নারীরা পুরুষের দ্বারা সহিংসতা ও হেনস্থার শিকার হন। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা অন্যায়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের দোষারোপের প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া ১৫ বছরের কিশোরীর লাশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন মন্তব্য ও বিদ্রূপ দেখা গেছে।

তবে অপরাধের শিকার হওয়ার পর নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিরুদ্ধে ‘নো মোর সাইলেন্স’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে।

গ্রুপটির কার্যক্রম ও লক্ষ্য

প্রায় এক বছর আগে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর এই গ্রুপটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৩৬ হাজারের বেশি। গ্রুপটিতে মূলত সামাজিক মাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা ব্যক্তিদের ছবি, পরিচয় এবং ফেসবুক আইডির লিংক প্রকাশ করা হয়।

গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা লেখক আবির আহম্মেদ পিয়াস। তার সঙ্গে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উম্মে সুরাইয়া সুমি ও জাকিয়া হোসেন। প্রতিষ্ঠাতা আবির আহম্মেদ পিয়াসের মতে, অনলাইনে মন্তব্য করার সময় মানুষ নিজেদের সাজিয়ে গুছিয়ে রাখেন। তাদের আসল রূপ প্রকাশ করতে এবং অনলাইনে যা ইচ্ছা বলে যেন কেউ পার না পায়—এই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। অনলাইনে করা মন্তব্য বাস্তব সমাজের আচরণের অংশ এবং এর জন্য জবাবদিহি থাকতে হবে, সেটাই গ্রুপটির মূল বার্তা।

যেভাবে শুরু গ্রুপটি

হবিগঞ্জের একটি কনসার্টে নারীদের সঙ্গে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে হবিগঞ্জের জালাল স্টেডিয়ামে ওই কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। কনসার্টে উপস্থিত নারীদের যৌন হয়রানি ও হেনস্থার শিকার হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই খবরের মন্তব্য সেকশনে এক নারীর শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার ঘটনা কদর্য ভাষায় বর্ণনা করে মন্তব্য করা হয়। মন্তব্যটিতে প্রচুর ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়া আসে।

ঘটনাটি দেখে নো মোর সাইলেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতারা ক্ষুব্ধ হন। তারা মনে করেন, এভাবে নারীদের হেনস্থা করে অনলাইনে গর্ব করা কিংবা হাসাহাসি করারও জবাবদিহিতা থাকা উচিত। এরপরই তারা গ্রুপটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিচয় প্রকাশের ফল

ওই ফেসবুক আইডির পরিচয় প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফেসবুক আইডিটি থেকে একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়, মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর আইডি হ্যাক করে অন্য কেউ ওই মন্তব্য করেছেন। এ জন্য ক্ষমাও চান তিনি। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কনসার্টের আয়োজকদের কাছে আলাদাভাবে ঘটনার অবহিতপত্র ও অঙ্গীকারনামা দেওয়ার কথাও জানান আইডির ব্যবহারকারী।

তবে গ্রুপটি পরিচয় প্রকাশের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি বিদেশে তাদের কর্মক্ষেত্রের দূতাবাসেও মন্তব্যের স্ক্রিনশট পাঠিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে অভিযোগ জানায়। এই জাতীয় সক্রিয়তার ফলে বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। যেমন—কুমিল্লার নিহত কিশোরীকে নিয়ে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন যশোর মেডিক্যাল কলেজের এক শিক্ষার্থী। তার মন্তব্যের স্ক্রিনশট কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই ছাত্রকে ভবিষ্যতে এমন কাজ করলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেয়।

আরেকটি ঘটনায়, এক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির অশালীন মন্তব্যের স্ক্রিনশট তার অফিসে পাঠানো হলে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়। সাইপ্রাসে কর্মরত এক প্রবাসীও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার পর সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দূতাবাসের কাছে তথ্য পাঠানো হয়। চাপের মুখে অনেকেই ক্ষমা চেয়েছেন বা তাদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন।

ভুল তথ্যের ঝুঁকি ও সতর্কতা

মহৎ এই সামাজিক উদ্যোগের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। তথ্য যাচাই না করে পরিচয় প্রকাশ করলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। কুমিল্লার নিহত কিশোরীর মায়ের বক্তব্য নিয়ে করা এক সংবাদের পোস্টে এক ব্যক্তি অশালীন মন্তব্য করেন এবং নিজেকে একটি ব্র্যান্ডের শোরুমের কর্মী বলে পরিচয় দেন। কিন্তু গ্রুপে তার নাম পরিচয় প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানায়, ওই নামে তাদের কোনো কর্মী নেই। যেহেতু অনলাইনে সবাই নিজের বিষয়ে সঠিক তথ্য দেন না, বিশেষ করে অপরাধীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আইডি চালানোর প্রবণতা রয়েছে, তাই এসব ক্ষেত্রে সতর্ক না হলে ভুল তথ্য থেকে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।

আইন কী বলছে?

নারীদের প্রতি অশালীন মন্তব্য ও ডিজিটাল হয়রানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা অনুযায়ী নারীর শালীনতা বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অপমান করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আবার সাইবার সুরক্ষা আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে যৌন হয়রানি বা ভীতিপ্রদ উপাদান প্রকাশের অপরাধে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।

গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাদের বার্তা

গ্রুপের মূল উদ্যোক্তা লেখক আবির আহম্মেদ পিয়াসের মতে, তারা যা করছেন সেই কাজগুলো করার জন্য দায়িত্ববান কর্তৃপক্ষ আছেন, যাদের উদাসীনতার জন্যই No More Silence এর মতো গ্রুপের জন্ম। যেদিন থেকে কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায়িত্ব গুরুত্ব দিয়ে পালন করবে, সেদিন থেকে হয়তো আর No More Silence গ্রুপেরও প্রয়োজন হবে না।

কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন আবির আহম্মেদ পিয়াস। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য তার এই সাক্ষাৎকার তুলে দেওয়া হলো :

কালের কণ্ঠ : কেন আর কীভাবে এই গ্রুপ তৈরির চিন্তা মাথায় আসলো?

আবির : আমি দেখতাম ফেসবুকে প্রচুর কমেন্ট মানুষকে অপমান বা হাস্যরস করার উদ্দেশ্যে করা হয়। অথচ যিনি এই কমেন্টগুলো করেছেন, তিনি নিজের প্রোফাইলটা সাজিয়ে গুছিয়ে রাখেন। মনে হয় যেন তারা একটা বাবলের ভেতরে থাকেন, আর বাবলের বাইরে তাদের আরেক রূপ দেখিয়ে বেড়ান। তাদের এমন স্বভাব সবার সামনে নিয়ে আসার জন্য আমি আমার প্রোফাইলে এক্সপোজ পোস্ট দেওয়া শুরু করি। পরে আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী বলেন, কাজটা একটা পেজ কিংবা গ্রুপের মাধ্যমে চালিয়ে যেতে। পরবর্তীতে সেটাই করি, আর No More Silence এর শুরু হয়।

কালের কণ্ঠ : যেহেতু এই জাতীয় কাজের ফলে অনলাইনে অনেক বিরোধিতা ও শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেক্ষেত্রে সেটা কীভাবে সামলানোর কথা ভেবেছেন?

আবির : সম্ভাবনা আছেই, ইতোমধ্যে আমরা অনলাইনে সেগুলো ফেসও করেছি। আমাদের ফিমেল মডারেটরদের রেপ থ্রেট, কিডন্যাপ করার মতো হুমকি, গ্রুপ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, আমাকে দেখে নেওয়ার মতো ম্যাসেজও পেয়েছি, স্বয়ং যাদের এক্সপোজ করেছি তাদের কাছ থেকেই। আপাতত কোনও আক্রমণ এলে আমাদের যতটুকু এবিলিটি আছে, তা নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাটা আছে।

কালের কণ্ঠ : এভাবে মানুষের পরিচয় প্রকাশ করাটা কি আইন বহির্ভূত হচ্ছে? কিংবা এভাবে মানুষের পরিচয় প্রকাশ করে তাদের মবের মুখোমুখি করার সম্ভাবনা আছে কিনা বা তারা ব্যক্তিগত জীবনে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে কিনা?

আবির : আইনত অনেক কিছুই আমরা করতে পারি না। এইজন্য আমরা শুধুমাত্র সেই তথ্যই শেয়ার করি যেগুলো পাবলিক ডোমেইনে এভেইলেবল। কারও আইডি ট্র‍্যাক করা, তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সেটা পাবলিক করা, এগুলো আমাদের কর্মকাণ্ডে পড়ে না। তবে হ্যাঁ, এই কাজগুলো করার জন্য অথোরিটি আছে, তাদের উদাসীনতার জন্যই No More Silence এর মতো গ্রুপের জন্ম। যেদিন থেকে কর্তৃপক্ষ এইসব কাজ গুরুত্ব সহকারে করা শুরু করবে, No More Silence এর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনও হবে না।

কালের কণ্ঠ : আপনাদের এই টিমে কি আইন, সাইবার এক্সপার্ট ইত্যাদি সব রকম বিশেষজ্ঞ আছেন?

আবির: কিছু ভলান্টিয়ার রয়েছেন যারা মাঝেমধ্যেই আমাদের নানারকম কাজে সাহায্য করে থাকেন। তবে তাদের গ্রুপের মূল সদস্য বলা যাবে না।

কালের কণ্ঠ : যাদের পরিচয় প্রকাশ করবেন তাদের কীভাবে নির্বাচিত করেন ও কীভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন?

আবির : প্রথমত আমরা সেসব পোস্ট চেক করি যার কমেন্ট সেকশন এলার্মিং। এরপর সেই পোস্টের কমেন্ট সেকশন থেকে সবচেয়ে আপত্তিকর কমেন্টগুলো সিলেক্ট করে, আইডিগুলো চেক করে আমরা দেখি যে কোন কোন আইডি আসল। সেগুলো বাছাই হলে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। পরে পোস্টের ফরম্যাট তৈরি করি।

কালের কণ্ঠ : আসলেই এই উদ্যোগের ফলে অনলাইনে কোনো প্রভাব পড়েছে বলে মনে হয়? যাদের পরিচয় প্রকাশ করেছেন তারা কি মাফ চান নাকি আরও বেশি আক্রমণ করেন? আপনার অভিজ্ঞতা কী বলে?

আবির : দুটোই হয়েছে। আর হ্যাঁ, অনলাইন জগতে এই রেপুটেশন তৈরি হয়েছে যে একটা গ্রুপ অনলাইনে নজরদারি করছে। এজন্য যত্রতত্র একটা অপমানজনক, অশ্লীল কমেন্ট করা থেকে অনেকে বিরত থাকছেন। সামনে এইটা আরও বাড়বে।

কালের কণ্ঠ : সাধারণত দেখা যায় ফেসবুকে বা অনলাইনে যেকোনো কমিউনিটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর অনেক নিজস্ব স্বার্থ ও এজেন্ডাভিত্তিক কাজে জড়িয়ে যায়। আপনাদের এক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য কি ভিন্ন কিছু?

আবির : ২০২৫ এর নভেম্বরের ২ তারিখে যেই টার্গেট নিয়ে এই গ্রুপ খোলা হয়েছে, সেই টার্গেটের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নেই। তবে হ্যাঁ, কিছু কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে, যেগুলো করতে হলে সরকারের অনুমতি এবং সাহায্য, দুটোই দরকার। তবে এখনও ওই পথে যাওয়ার প্ল্যান হয়নি।

কালের কণ্ঠ : এই কাজ করার জন্য আপনাদের কি কোনো ফান্ড দেওয়া হয়? বা কেউ কি আপনাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন? না করে থাকলে আপনাদের ভবিষ্যতে কি এতে আগ্রহ বা প্রয়োজন আছে?

আবির : আমাদের এই গ্রুপের জন্য কোনও ফান্ড বা ডোনেশন কালেক্ট করা হয় না। পুরোটাই নন-প্রফিট ওয়ার্ক। তবে এইজন্যই আবার আমাদের মডারেটর পেতে সমস্যা হয়। এতদিনেও আমরা ফ্রিতে কাজ করবে এমন কিছু মডারেটর খুঁজে বের করতে পারিনি। তবে গ্রুপ বড় হলে আমাদের ইচ্ছা আছে একটা ডাটাবেজ তৈরির কাজে হাত দেওয়ার, যার জন্য সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের সাথে জড়াতে হবে আমাদের। তখন হয়তো আমাদের ডোনেশনের কিংবা পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সেটা অনেক দূরের পরিকল্পনা।

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

আবির : আপনাকেও ধন্যবাদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%