১২:১৩ এম
মোকাদ্দেসুর রহমান নামের এক প্রভাষক জনতার হাতে আটক হয়েছেন, যখন তিনি আট বছরের জমজ দুই পুত্র সন্তানের জননীর (৩০) সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ছিলেন। উত্তেজিত জনতা পরে ওই প্রভাষককে গণপিটুনি দেয়। এই ঘটনা ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে। অভিযুক্ত প্রভাষক মোকাদ্দেসুর রহমান পাশ্ববর্তী একটি কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। তিনি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার সালামপুর ইউনিয়নের সাধুপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রভাষক মোকাদ্দেসুর রহমান সরিকল বাজার এলাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতেন। এ সময় ওই বাজারের পাশ্ববর্তী এক গৃহবধূর সাথে তার পরিচয়ের সূত্রধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমে পরিণত হয়।
সূত্রে আরও জানা গেছে, সরিকল গ্রামের ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী রয়েছেন এবং তিনি কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। এ সুযোগে প্রভাষকের সাথে তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় আলোচনা চলছিল। বুধবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক পূর্ব থেকে ওৎপেতে থেকে প্রভাষককে ওই নারীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক প্রভাষক মোকাদ্দেসুর রহমানকে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রাখেন।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
অভিযুক্ত প্রভাষক মোকাদ্দেসুর রহমান ও তার পরকীয়া প্রেমিকা ওই নারী জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে গত দুই মাস ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। গৃহবধূ তার পরকীয়া প্রেমিক প্রভাষক মোকাদ্দেসুর রহমানকে বিয়ে করতে রাজি হলেও প্রভাষক বিয়ের ব্যাপারে কোন মুখ খোলেননি। খবর পেয়ে উজিরপুর উপজেলার শোলক গ্রামের ওই গৃহবধূর বাবার পরিবারের সদস্যরা সরিকলে ছুঁটে আসেন। তবে রাত একটা পর্যন্ত তারা কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রভাষক মোকাদ্দেসুর রহমানের প্ররোচনায় অসুস্থ স্বামীর কাছ থেকে ইতোমধ্যে কৌশলে ওই নারী সরিকল বাজারের তার প্রায় কোটি টাকার সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। অভিযুক্ত প্রভাষকের কর্মস্থল আগরপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এবায়দুল হক শাহীন বলেন, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে।" এরপর তাৎক্ষণিক কলেজ গবর্নিং বডির সভাপতিসহ অন্যান্যদের সাথে ভার্চুয়ালে সভা করে প্রভাষক মোকাদ্দেসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলেজের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম খসরুকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন