ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু


ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু ঘটে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জ এলাকার প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুর নাম আদিবা, যা কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের ট্রাকচালক মো. মোখলেস হোসেনের মেয়ে। তাদের পরিবার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় বসবাস করছে।

নিহত আদিবার স্বজন মো. জুম্মন জানিয়েছেন, বিকেলের সময় বাসার সামনে তার বড় বোন ফাতিমার সঙ্গে খেলছিল আদিবা। একপর্যায়ে সে হঠাৎ রাস্তা পার হতে গেলে একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আদিবার বড় বোন বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে তার মা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহী মহানগরীর মাদ্রাসা মাঠের পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে শিশুটির স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপস্থিত অনেকেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল এবং অনভিজ্ঞ চালকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, অনেক চালকেরই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা নেই। তারা ট্রাফিক আইন না জেনেই ব্যস্ত সড়কে যানবাহন চালাচ্ছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুধুমাত্র ঢাকা নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রায় প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। এ ধরনের দুর্ঘটনায় শিশু এবং বয়স্ক উভয় বয়সী মানুষই হতাহত হচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জুয়াতেও হারলেন নেইমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জুয়াতেও হারলেন নেইমার

বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকেই বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ের পর আব l হয়ে কেঁদেছিলেন দলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র।

সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদেরও নাড়া দিয়েছিল।

এদিকে, বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে খুব বেশি সময় না যেতেই নেইমার লাস ভেগাসে অংশ নেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পোকার টুর্নামেন্টে।

কিন্তু সেখানেও ভাগ্য সহায় হয়নি এই ব্রাজিলিয়ান তারকার।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকারের ১০ হাজার ডলারের মেইন ইভেন্টে অংশ নেন নেইমার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে পোকার টেবিলে খেলতে দেখা যায়।

তবে প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই (ডে-১) বিদায় নিতে হয় তাকে।

যদিও পেশাদার পর্যায়ের এই টুর্নামেন্টে এটি নেইমারের প্রথম অংশগ্রহণ নয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকারে তিনি চমক দেখিয়ে ফাইনাল টেবিল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।

কিন্তু এবার সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি।

লাস ভেগাসে এই হতাশাজনক ফল আসে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ব্যর্থতার ঠিক পরপরই।

গত ৫ জুলাই নরওয়ের কাছে শেষ ষোলের ম্যাচে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন নেইমার।

চোটে জর্জরিত থাকায় পুরো টুর্নামেন্টে তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাত্র দুটি ম্যাচে মাঠে নামেন।

জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ গোলটি আসে নরওয়ের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে,

যদিও সেটি পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ব্রাজিলের ফুটবল মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং তার পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে পোকারের প্রতি নেইমারের আগ্রহ নতুন নয়।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই খেলার সঙ্গে যুক্ত।

এবার সেভেন আপ খাওয়া দল লিখে সার্চ করলেই গুগলে আসছে ব্রাজিলের নাম।

বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গের পর পোকার টেবিলেও দ্রুত বিদায়,

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মটা নেইমারের জন্য একের পর এক হতাশার গল্প হয়ে থাকল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫০ এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত 'তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ' শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল বেলা, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করবেন।

উদ্বোধনের পর থেকে অনুষ্ঠানটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে বেলা ১টা থেকে। অনুষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে।

জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মটি যেন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করে, এটি আশা করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকেই জানতে ও গ্রহণ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করছেন যে, এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে এবং দেশে আরও কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সূচনা বক্তব্য দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং স্বাগত বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী গঠিত ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে সহায়ক হবে।

এর আগে, গত ১২ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উদ্যোগে 'ট্রান্সফরমিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স'-শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেন তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুয়ার আসক্তিতে একে একে ১৪ জনকে বিয়ে করেন এক নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


জুয়ার আসক্তিতে একে একে ১৪ জনকে বিয়ে করেন এক নারী

জুয়ার নেশার অর্থ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের সামনে আসার পর সাজার বদলে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তিনি প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন।

অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ‘ভিকি লিয়াং’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের কাছে দাবি করতেন যে, চীনে থাকা অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ দরকার। এই অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেছেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই অর্থ আত্মীয়দের চিকিৎসায় ব্যয় নয়, বরং তা লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেই ব্যয় করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, গত এক বছরে চেন জুয়া খেলতে গিয়ে তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন। গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহারে সম্মত হয় প্রসিকিউশন। পাশাপাশি আদালতে তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশও করা হবে।

আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা হবে। আইন অনুযায়ী বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, তবে প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তিনি অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই চেন বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। এক ভুক্তভোগীর দাবি, অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর চেন অবগত করেন যে তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না।

জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়েতে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এছাড়া লাস ভেগাসে বিয়ে করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় শহরটিকেই তিনি তার প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই ক্যামেরার পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


এআই ক্যামেরার পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার পাশাপাশি নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। ডিএমপি বর্তমানে ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম খরচের ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান রাজধানীর ডিএমপি সদর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানালেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ডিএমপি আশা করছে, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কম খরচে রাজধানীর আরও বেশি এলাকায় নজরদারির আওতা প্রসারিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন অনেক বেশি কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

ভবিষ্যতে যানজট নিরসনে নতুন কোনও প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাফিকের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সে দিকটি নিয়েই কাজ করছি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে একটি নতুন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে আমরা যে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করছি, সেগুলো কার্যকর হলেও তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের জন্য খুব দ্রুত আমাদের নজরদারির আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে নতুন ক্যামেরা নিয়ে আসছি। এসব ক্যামেরার দাম তুলনামূলকভাবে কম হলেও আমাদের উদ্দেশ্য পূরণে এটি কার্যকর হবে।’

তিনি আশা করেন, এসব ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ালে ট্রাফিকে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে নতুন পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি সবসময়ই নগরবাসীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কারণ আমাদের এআই ক্যামেরার এই নতুন পথচলা মাত্র দুই মাসের হলেও ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নগরবাসী এতটা দৃশ্যমান সহযোগিতা করবেন, শুরুতে তা আশা করিনি।’

তিনি বলেন, ‘তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং আধুনিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসাও করছেন। এর অর্থ হলো, কাউকে জোর করে আইন মানানো হচ্ছে না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম মেনে চলছেন।’

মো. আনিছুর রহমান আরও বলেন, ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে মিশ্র যানবাহন। এ শহরে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন একসাথে চলাচল করে। অটোরিকশা এখন আরেকটি বড় সমস্যা। বর্তমানে এটি সবার জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই যানবাহনের ওপর চালকের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্যদিকে, একটি শহরের যানবাহন ধারণক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে। কিন্তু এই মহানগরে যানবাহনের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি কোথায় গিয়ে থামবে, সেটি বলা কঠিন।

অন্যদিকে, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক আনফিট গাড়ি চলাচল করছে বলছেন তিনি। তিনি জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই মেগাসিটির জন্য এখনো উন্নত কোনো গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত কখনোই সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

আনিছুর রহমান বলেন, পথচারীদের চলাচলের ধরনও সমস্যা সৃষ্টি করছে। প্রায়ই দেখা যায়, অনেকে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করেন। তাদের নিয়মের মধ্যে আনা কঠিন। তিনি আরো জানান, আমরা এখন কিছু জায়গায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করেছি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি গাড়ি হয়তো এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছে; অথচ এই স্বল্প সময়ের জন্যও পথচারীরা অপেক্ষা করতে চান না। তারা হাত তুলে রাস্তা পার হতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু গাড়ির চালক, মালিক বা ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভর করে না। এর একটি বড় অংশ মূলত সড়ক ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে পথচারীদের মানসিকতা ও আচরণগত অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। আমাদের বাস্তবতায় সেই পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি আসেনি।’

জনাব আনিছুর রহমান জানালেন, যেসব এলাকায় যানজট বেশি, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তাই ঢাকা মহানগরীতে কোথায়, কখন যানজট বেশি হয়, সে বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। কোথাও পিক আওয়ার, আবার কোথাও অফ-পিক আওয়ার থাকে। সে অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এলাকা এবং যানজটের মাত্রা বিবেচনায় কোথাও কম, কোথাও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর প্রায় ২৫টি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ সেখানে সার্বক্ষণিক যানবাহনের চাপ থাকে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিকেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন এভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%